সম্বৃতা মুখার্জি
দর্শক আকর্ষণ করা নয়, এ বছর দুর্গা পুজোয় ছিমছাম আয়োজনে ঘরের মেয়ে ঊমাকে বরণ করে নেওয়ার প্রস্তুতি এখন তুঙ্গে। কলকাতা–‌সহ গোটা রাজ্যে পুজোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন উদ্যোক্তারা। কিন্তু আড়ম্বর অনেকটাই কম। হালকা সাজে কোথাও থিম আবার কোথাও বা থিম ছাড়াই পুজোর আয়োজন চলছে। পাশাপাশি কোভিড, আমফানে বিধ্বস্ত মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর অক্লান্ত প্রচেষ্টা। বাগুইআটি রেলপুকুর ইউনাইটেড ক্লাবের এ বছরের থিম ‘‌সাধারণের মধ্যে অসাধারণ’‌। তৈরি হচ্ছে দক্ষিণেশ্বরের আদলে নাটমন্দির। পাইপ, বাঁশ, তালপাতা, হোগলা পাতা দিয়ে তৈরি হচ্ছে মণ্ডপ। মূল মণ্ডপ এবারে বেশ খোলামেলা থাকছে। মূল মণ্ডপের ১০–১২ ফুট দূরে তৈরি হচ্ছে নাটমন্দির। সেখান থেকেই দেখা যাবে প্রতিমা। পুজোর উদ্বোধন করবেন প্রথম সারির কোভিড যোদ্ধা ডাক্তার, নার্সরা। লকডাউনে কাজ হারানো রাজমিস্ত্রি, ট্রেনের হকার, পরিচারিকারাই গড়ে তুলবেন মণ্ডপ। ৬৭ বছরের এই পুজোর প্রতিমা তৈরি করছেন আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পী সন্তোষকুমার পাল। প্রবেশ দ্বারে স্যানিটাইজার টানেল রাখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ক্লাবের যুগ্ম সম্পাদক উৎপল চন্দ্র।
বেলেঘাটা পল্লী উন্নয়ন সমিতির এবছরের থিম ‘‌পদধ্বনি’‌। লকডাউনে গোটা দেশের পরিবহণ যখন থমকে গিয়েছিল, মাইলের পর মাইল পরিযায়ীরা হেঁটেছেন ঘরে ফেরার তাগিদে। কেউ ফিরেছেন, কেউ প্রাণ হারিয়েছেন মাঝপথে। পরিযায়ী শ্রমিকদের কেন্দ্র করেই এবছর গড়ে উঠছে থিম। পুজোর উদ্বোধনও করবেন তাঁরা। পুজো কমিটির তরফে কিছু আর্থিক সাহায্য করা হবে তাঁদের। মা–শিশু, কেটে যাওয়া পা, গাছ, বস্তা, কোদাল ফুটে উঠছে মণ্ডপ সজ্জায়। তৈরি হচ্ছে স্কাল্পচার। ফেলে আসা সময়কে বোঝাতে তৈরি হচ্ছে একটি চাকা। মণ্ডপ সজ্জায় শিল্পী অভিজিৎ ও অরিন্দম। প্রতিমা শিল্পী সুকান্ত দাস।
অন্যদিকে শ্যামবাজার পল্লী সঙ্ঘে দেখা যাবে এক ‘‌কুড়িয়ে পাওয়া পুজো’‌। আমফানের পর ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় মেদিনীপুরে যান পুজোর কর্মকর্তারা। সেখানকার ওই সহায়সম্বলহীনদের সরাসরি সাহায্য করতে পুজোর মণ্ডপ তৈরি করা হচ্ছে তাঁদের কুড়িয়ে পাওয়া ঝিনুক, শামুক দিয়ে। মণ্ডপের কারিগরও তাঁরাই। ৬১ বছরের এই পুজোয় মণ্ডপ সাজছে ঝিনুক দিয়ে। ফুটে উঠছে গ্রামীণ চিত্র। থাকবে বিভিন্ন মডেল। মণ্ডপ সজ্জায় গুরুপদ জানা। প্রতিমা শিল্পী নবকুমার পাল। মূল মণ্ডপে না ঢুকে যাতে বাইরে থেকে প্রতিমা দর্শন করা যায় তার ব্যবস্থা থাকছে বলে জানিয়েছেন সেক্রেটারি সুব্রত ভট্টাচার্য।
লকডাউনে কর্মহীন হওয়া যেমন নেতিবাচক দিক, তেমনই ইতিবাচক দিক হল কাছের মানুষগুলোর সঙ্গে সময় কাটানোর সুযোগ পাওয়া। আর সল্টলেক এ.‌ই ব্লকের পুজোয় উঠে আসছে ইতিবাচক দিকটাই। থিমের নাম ‘‌বন্ধন’‌। কিছুটা অংশে তুলে ধরা হচ্ছে পরিযায়ী শ্রমিকদের চিত্র। জানলা, দরজা ইনস্টলেশনের কাজ চলছে। মণ্ডপের সামনের অংশে থাকছে শাটারের মতো। মণ্ডপ সজ্জায় শিল্পী পার্থ ঘোষ ও সিদ্ধার্থ ঘোষ। প্রতিমা শিল্পী নবকুমার পাল। পার্থবাবু জানান, একটি অটোমেটিক মেশিন রাখা হচ্ছে মণ্ডপে। এটি মণ্ডপকে ১০ মিনিট অন্তর স্যানিটাইজ করবে। পুজোয় সাজছে সল্টলেক এজে ব্লকও। মিডিয়া আহ্বায়ক মৈনাক দত্ত জানালেন, ৩৬তম বছরে, কোভিড পরিস্থিতিতে পুজো ছোট করতে হয়েছে। সাবেকি এক চালার ঠাকুর হচ্ছে। প্রতিমা শিল্পী সনাতন পাল। এ বছর শুধু নবমীতে প্যাকেটে করে খাবার দেওয়া হবে। বসে খাওয়ানোর ব্যবস্থা থাকছে না।

জনপ্রিয়

Back To Top