গৌতম মণ্ডল
কাকদ্বীপ, ১২ জুলাই

শুক্রবার বিকেলে যন্ত্র বিকল হয়ে মাঝ–সমুদ্রে ভাসছিল মৎস্যজীবী ট্রলার এফ বি কৃষ্ণকানাইয়া। ট্রলারে ছিলেন ১৫ জন মৎস্যজীবী। উত্তাল সমুদ্রে ঘটতে পারত বড় দুর্ঘটনা। চলে যেত পারত বাংলাদেশ জলসীমানায়। সেখানে পেট্রোলিংয়ে ছিল উপকূলরক্ষী বাহিনীর জাহাজ ‘‌বিজয়া’‌। বাহিনীর ডিআইজি বিজয় সিং ট্রলারটি দেখতে পান। বিপদ বুঝে ওই ট্রলারের কাছে পৌঁছোয় উপকূলরক্ষীদের জাহাজ। উদ্ধার করে ১৫ জন মৎস্যজীবীকে তুলে নেওয়া হয় ওই জাহাজে। ট্রলারটিও উপকূলরক্ষী বাহিনীর জাহাজ দড়ি বেঁধে টানতে শুরু করে। রবিবার সেটি আনা হয় বঙ্গদুয়ানি নদীর কাছে। যোগাযোগ করা হয় ফ্রেজারগঞ্জ ঘাঁটিতে। মৎস্যজীবী সংগঠনের মাধ্যমে দুটি ট্রলার আসে বঙ্গদুয়ানিতে। ১৫ জন মৎস্যজীবী ও ট্রলারকে হস্তান্তর করা হয় মৎস্যজীবী সংগঠনের কাছে।
অন্য মৎস্যজীবী ট্রলারের সঙ্গে বেঁধে ফেরানো হচ্ছে বিকল ট্রলারটি। সোমবার সকালে কাকদ্বীপ মৎস্য বন্দরে পৌঁছবে ট্রলার ও মৎস্যজীবীরা। উদ্ধারকাজের নেতৃত্বে ছিলেন ফ্রেজারগঞ্জ উপকূলরক্ষী বাহিনীর কমান্ডার অভিজিৎ দাশগুপ্ত এবং এম এস গিল। গত সপ্তাহে কাকদ্বীপ মৎস্য বন্দর থেকে ১৫ জন মৎস্যজীবী নিয়ে এই ট্রলারটি ইলিশ মাছ ধরতে রওনা হয়েছিল। মাঝ–সমুদ্রে হঠাৎই ট্রলারটির প্রপেলার খারাপ হয়ে যায়। বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে পড়ে দুলতে থাকে ট্রলারটি। উপকূলরক্ষী বাহিনী উদ্ধার করে মৎস্যজীবীদের। সুন্দরবন সামুদ্রিক মৎস্যজীবী শ্রমিক ইউনিয়নের সম্পাদক সতীনাথ পাত্র বলেন, ‘‌মাঝ–সমুদ্রে বিকল হয়ে পড়ার পর উত্তাল ঢেউয়ের মুখে পড়েছিল ট্রলারটি। উপকূলরক্ষী বাহিনী সজাগ থাকায় দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পেল মৎস্যজীবী ও ট্রলার। ট্রলারটিকে এবং মৎস্যজীবীদের বন্দরে ফিরিয়ে আনা হচ্ছে।’

জনপ্রিয়

Back To Top