আজকালের প্রতিবেদন
করোনার সংক্রমণ রুখতে বুধবার থেকে জেলায় জেলায় কড়াকড়ি শুরু করল পুলিশ–প্রশাসন। 
এদিন সকাল থেকে মালদার ইংরেজবাজার, পুরাতন মালদা পুর এলাকা ও কালিয়াচকের কিছু এলাকা ছাড়াও উত্তর দিনাজপুরের ডালখোলাতে ৭ দিনের জন্য বিধিনিষেধ চালু হয়েছে। এদিন পুলিশ লাঠি হাতে রাস্তায় নামে। মালদার ১৫ ব্লকের প্রায় ২২৫টি এলাকাকে কন্টেনমেন্ট জোন ঘোষণা করা হয়েছে। এদিন মাস্কবিহীন মানুষকে রাস্তায় দেখলেই ধরে লাঠিপেটা করেছে পুলিশ। বুধবার নতুন করে করোনায় আক্রান্ত মালদার ৪২ জন। এখনও পর্যন্ত মালদায় আক্রান্তের সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়েছে। ২ ব্যবসায়ীর করোনা ধরা পড়ায় রায়গঞ্জের মোহনবাটি বাজার ৫ দিন বন্ধ রাখা হয়েছে।
তবে হাওড়া পুর এলাকায় কন্টেনমেণ্ট জোনের সংখ্যা ৩৬ থেকে কমে হল ১৭। বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টা থেকে শহরের ওই ১৭টি এলাকা কার্যত পুরো সিল করে দেওয়া হচ্ছে। ফের কঠোরভাবে লকডাউন কার্যকর হচ্ছে এই এলাকাগুলিতে। তবে রাস্তায় বাস, অটো বা গাড়ি চলাচলে তেমন কোনও বাধা হবে না। অন্য এলাকা দিয়ে যানবাহন ঘুরিয়ে দেওয়া হবে। এদিকে, এদিন লকডাউনে কীভাবে হাওড়ার কন্টেনমেণ্ট জোনগুলিতে লকডাউন কার্যকর করা হচ্ছে সে ব্যাপারে পুলিশ কমিশনারেটের কর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন ডিজি বীরেন্দ্র। এদিন জেলা প্রশাসনের তরফে হাওড়া জেলায় মোট ৫৬ এলাকাকে কন্টেনমেন্ট জোন হিসেবে চিহ্নিত করে তালিকা প্রকাশ করা হয়। এর আগে মোট ১৪৬টি এলাকা কন্টেনমেন্ট জোন হিসেবে চিহ্নিত ছিল। 
হুগলি জেলায় মানুষকে সচেতন করতে করোনা বিধি নিয়ে রাস্তায় ডিসপ্লে বোর্ড লাগাল পুলিশ। প্রশাসনের তরফে শুরু হয়েছে মাইকে কন্টেনমেন্ট জোনে লকডাউন মেনে চলার প্রচার। হুগলি জেলার মোট ২১টি এলাকাকে কন্টেনমেন্ট জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। শ্রীরামপুর এবং চন্দননগর মহকুমার এই কন্টেনমেন্ট জোনগুলি ১৪টি পুরসভা এলাকায় এবং ৭টি গ্রামীণ এলাকার অন্তর্ভুক্ত। বুধবার হুগলির জেলাশাসক ওয়াই রত্নাকর জানান, কন্টেনমেন্ট জোনের সঙ্গে কিছু বাফার জোনও এই লকডাউনের আওতায় পড়বে। জেলার চন্দননগর, ভদ্রেশ্বর, সিঙ্গুর, শ্রীরামপুর, উত্তরপাড়া, ডানকুনি, চণ্ডীতলা এবং জাঙ্গিপাড়া থানা এলাকার মধ্যে কন্টেনমেন্ট জোনগুলি চিহ্নিত করা হয়েছে।
বারাসত পুরসভার ৮টি ওয়ার্ডের কন্টেনমেন্ট জোনে বুধবার ব্যাপক প্রচার চালায় প্রশাসন। এদিন বারাসতের অধিকাংশ চায়ের দোকান ও খাবারের বিপণি খুলতে দেওয়া হয়নি। বারাসতের ১, ৩, ৫, ৯, ১৬, ২০, ২৩ ও ২৪ নম্বর ওয়ার্ডের বেশ কয়েকটি এলাকা কন্টেনমেন্ট জোনের মধ্যে পড়েছে। একইসঙ্গে আমডাঙা, বারাসত–১ ও ২ নম্বর ব্লক এবং দেগঙ্গা ব্লকের একটি বড় অংশ কন্টেনমেন্ট জোনের মধ্যে থাকায় সেই সব এলাকায় এদিন সচেতনতা প্রচার চালিয়েছে পুলিশ। বিশেষ প্রয়োজন ছাড়া বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে এই সব এলাকার বাসিন্দাদের না বেরোনোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে কন্টেনমেন্ট জোনের সামনে পুলিশ মোতায়েন থাকবে। পুলিশের বিশেষ অনুমতি ছাড়া কাউকে ঢুকতে বা বেরোতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনীয় সামগ্রী হোম ডেলিভারির মাধ্যমে যাতে পাঠানো যায় সেই বিষয়টাও দেখছে প্রশাসন। কন্টেনমেন্ট জোনের প্রত্যেক বাসিন্দার শারীরিক অবস্থা নিয়ে খোঁজখবর নিতে বাড়ি বাড়ি যাবেন স্বাস্থ্যকর্মীরা। কারও করোনা আক্রান্ত হওয়ার ন্যূনতম উপসর্গ থাকলে তাঁর লালারস পরীক্ষা করা হবে সরকারি ব্যবস্থাপনায়।
বারুইপুর পুরসভার ১৭টি ওয়ার্ড এলাকায় কোনও কন্টেনমেন্ট জোন হচ্ছে না। তবে বারুইপুর ব্লকে কন্টেনমেন্ট জোন হবে। ব্লকের শঙ্করপুর ২ পঞ্চায়েত, রামনগর ২ পঞ্চায়েত এলাকা–সহ রামনগর বাজার, ফুলতলা পিয়ালি টাউন এবং বিডিও অফিস সংলগ্ন এলাকায় কন্টেনমেন্ট জোন কার্যকর হবে। কারণ, ওই সব এলাকায় করোনার প্রভাব বেশি। সোনারপুরের বিভিন্ন এলাকায় বাঁশের ব্যারিকেড লাগানো হচ্ছে।
তথ্যসূত্র:‌ অভিজিৎ চৌধুরি, সুনীল চন্দ, প্রিয়দর্শী বন্দ্যোপাধ্যায়, মিল্টন সেন, সোহম সেনগুপ্ত‌‌ ও গৌতম চক্রবর্তী‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top