নীলাঞ্জনা সান্যাল
রাজ্যের ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজগুলিতে আসন ফাঁকা থেকে যাওয়ার প্রবণতা কমাতে কাউন্সেলিং প্রক্রিয়ায় আমূল বদল আনল রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্স বোর্ড। প্রতিটি রাউন্ডেই ছাত্র–‌ছাত্রীরা নতুন করে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবে। প্রতিটি রাউন্ডেই থাকছে পছন্দ বদলের সুযোগ। আবেদনকারী পড়ুয়ারা যত খুশি পছন্দ জানাতে পারবে। পুরো কাউন্সেলিং প্রক্রিয়াটাই হবে অনলাইনে এবং বিনামূল্যে। আবেদনকারীদের কোনও রেজিস্ট্রেশন ফি দিতে হবে না। শুক্রবার প্রকাশিত হয়েছে রাজ্য জয়েন্ট এন্ট্রান্সের এবছরের পরীক্ষার ফল। আগামী সপ্তাহ থেকে কাউন্সেলিং প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে বোর্ড। এবছর ৯৯ শতাংশ পড়ুয়াই র‌্যাঙ্ক কার্ড পেয়েছে। ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মোট আসন সংখ্যা এবছর ৩৪ হাজার ৮৯১। 
এ রাজ্যের অনেক পড়ুয়াই ভিন রাজ্যে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তে চলে যায়। এই প্রবণতা ঠেকাতে এবারের জয়েন্ট এন্ট্রান্স পরীক্ষা অনেকটাই এগিয়ে আনা হয়েছিল। ২ ফেব্রুয়ারি হয় পরীক্ষা। এবার এই একই কারণে কাউন্সেলিং প্রক্রিয়াটিকেও ঢেলে সাজানো হয়েছে। এ প্রসঙ্গে বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান দিলীপকুমার মিত্র বলেন, ‘দু’‌ মাস আগে থেকেই আমরা ছাত্র–‌ছাত্রীদের কলেজগুলি সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য জানিয়েছি। যাতে তাদের কাউন্সেলিং প্রক্রিয়ায় কলেজ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কোনও সমস্যা না হয়। আগে কাউন্সেলিংয়ের প্রথম দফায় রেজিস্ট্রেশন না করলে পরে আর করা যেত না। এবার প্রতিটি রাউন্ডেই রেজিস্ট্রেশনের সুযোগ থাকছে। এছাড়াও অনেক বদল আনা হয়েছে। যেভাবে কাউন্সেলিং প্রক্রিয়াটিকে ঢেলে সাজানো হয়েছে তাতে ১০০ শতাংশ আসন পূরণ না হলেও তার কাছাকাছি জায়গায় আমরা যাব। আসন ফাঁকা থেকে যাওয়ার সংখ্যা কমবে। যে উদ্দেশে আগে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছিল তা সফল হবে।’‌ ১২ আগস্ট থেকে কাউন্সেলিং শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছেন দিলীপবাবু। যেহেতু জেইই মেন এবং অ্যাডভান্সের পরীক্ষা এখনও বাকি আছে, সেপ্টেম্বরের শেষে হওয়ার কথা, তাই কত রাউন্ডের কাউন্সেলিং হবে তা এখনও ঠিক হয়নি। 
কাউন্সেলিং প্রক্রিয়ায় যে বদলগুলি আনা হয়েছে সেগুলি হল:‌ ১)‌‌ কাউন্সেলিংয়ের প্রতিটি রাউন্ডেই আবেদনকারী নতুন করে রেজিস্ট্রেশন বা নাম নথিভুক্ত করতে পারবে। এতদিন এই সুযোগ ছিল না। ২)‌‌ আবেদনকারী প্রতিটি রাউন্ডেই তার বিষয় পড়ার ‘‌চয়েস’–এর বদল ঘটাতে পারবে। ৩)‌‌ আবেদনকারী একজন পড়ুয়া তার যত খুশি, তত সংখ্যক পছন্দই জানাতে পারবে।

 

 এর কোনও ঊর্ধ্বসীমা নেই। এ ব্যাপারে বোর্ডের পরামর্শ, অন্তত ২০টি পছন্দ যেন একজন আবেদনকারী জানায়। ৪)‌‌ প্রতিটি রাউন্ডেই সে তার পছন্দ ‘‌লক’‌ করতে পারবে। ৫)‌‌ কোনও আবেদনকারী যদি বিষয় পছন্দ করে ভর্তি হওয়ার জন্য কোনও কলেজকে পছন্দ করে ফেলে তবে তাকে প্রাথমিক ভর্তির ফি দিতে হবে। কিন্তু সে যদি চায় তাহলে পরের রাউন্ডের কাউন্সেলিংয়ে যেতে পারবে। এ ব্যাপারে বিস্তারিত কাউন্সেলিংয়ের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হবে। ৬)‌‌ প্রাথমিক ভর্তির এই ফি ফেরত যোগ্য। এ ব্যাপারেও পরে জানানো হবে। ৭)‌‌ কাউন্সেলিংয়ের পুরো প্রক্রিয়াটাই হবে অনলাইনে। ভর্তির জন্য কোথাও যেতে হবে না। ভর্তির জন্য কলেজগুলিতে গিয়ে যে রিপোর্টিং করতে হত করোনা পরিস্থিতিতে এবার তাও হবে ভার্চুয়ালি। ৮)‌‌ কাউন্সেলিংয়ে অংশ নেওয়ার জন্য আবেদনকারীদের কোনও রেজিস্ট্রেশন ফি দিতে হবে না। পুরোটাই বিনামূল্যে। ৯)‌‌ আবেদনকারীরা ১৭ হাজার ২৮৮টি কমন সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে অনলাইন কাউন্সেলিংয়ে অংশ নিতে পারবে। প্রতিটি জেলাতেই এই সেন্টার গড়ে তোলা হয়েছে। এগুলি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য বোর্ডের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়েছে। তার বাড়ির কাছাকাছি এই সেন্টারটি কোথায় সেটাও ছাত্র–‌ছাত্রীরা সহজে জানতে পারবে।
এছাড়াও ছাত্র–‌ছাত্রীদের সচেতন করতে বোর্ডের তরফে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। বোর্ডের তরফে টুইটার অ্যাকাউন্ট, ইউটিউব এবং ফেসবুক পেজ খোলা হয়েছে। কাউন্সেলিং এবং ভর্তি সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য জানতে ওয়েবসাইট–‌সহ এই সোশ্যাল মিডিয়ায় চোখ রাখতে বলা হয়েছে। ১৮০০ ১০২৩–৭৮১, ১৮০০ ৩৪৫০–০৫০— এই টোল ফ্রি নম্বর চালু করা হয়েছে। এছাড়াও কাউন্সেলিং চলার সময় যে–‌কোনও সাহায্যের জন্য ৮৭৭৭৭৬৭৭৪১, ৯৩৩৯৫৯৬৫৬৮, ০৩৩ ২৩৬৭ ১১৪৯/‌ ১১৫৯ নম্বরে যোগাযোগ করা যাবে। 
এবছর জয়েন্টে বসার জন্য আবেদন করেছিল ৮৮৮০০ জন পড়ুয়া। তার মধ্যে পরীক্ষা দিয়েছে ৭৩ হাজার ১১৯ জন। র‌্যাঙ্ক কার্ড পেয়েছে ৭২ হাজার ২৯৮ জন। অর্থাৎ ৯৯ শতাংশ ছাত্র–‌ছাত্রীই র‌্যাঙ্ক কার্ড পেয়েছে। এদিকে আসন সংখ্যা ৩৫ হাজারের কাছাকাছি। দিলীপবাবু বলেন, ‘‌এটা নতুন কোনও ঘটনা নয়। প্রতি বছর ৯৭–‌‌৯৯ শতাংশ পড়ুয়াই র‌্যাঙ্ক কার্ড পায়। বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী শূন্যের বেশি পেলেই র‌্যাঙ্ক দেওয়া হয়।’‌ এবছর উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা সংসদের ৩৬৪৮৫ জন  অর্থাৎ ৫১ শতাংশ পড়ুয়া র‌্যাঙ্ক কার্ড পেয়েছে। সিবিএসই বোর্ডের ২২২৭০ জন, অর্থাৎ ৩১ শতাংশ, আইসিএসই বোর্ডের ২২২৬ অর্থাৎ ৩ শতাংশ এবং অন্যান্য বোর্ডের ১১৩১৭ অর্থাৎ ১৫ শতাংশ পরীক্ষার্থী র‌্যাঙ্ক কার্ড পেয়েছে। র‌্যাঙ্ক কার্ড পাওয়া পড়ুয়ার সংখ্যা বেশি হলেও ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের প্রথম দশে সংসদের পড়ুয়ার সংখ্যা মাত্র এক। দুজন আইসিএসই বোর্ডের। বাকিরা সবাই সিবিএসই বোর্ডের। গতবছরও সেরা দশের এই তালিকায় সংসদের একজন পড়ুয়ার ঠাঁই হয়েছিল। 

‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top