তুফান মণ্ডল, গোঘাট: গোঘাটের মৃত বিজেপি কর্মীর পরিবারের অপহরণের ঘটনাকে ‘‌সম্পূর্ণ মিথ্যা’‌ বলে দাবি করলেন ওই পরিবারের সদস্যরাই। তাঁরা পরিষ্কার জানালেন, বিজেপি মিথ্যা বলছে। তাঁদেরকে তৃণমূল বা অন্য কেউই অপহরণ করেনি। তাঁরা সোমবার সকালে আত্মীয়ের বাড়িতে গিয়েছিলেন, বিকেলের দিকে ফিরেও আসেন। এ নিয়ে বিজেপি রাজনীতি করছে। 
উল্লেখ্য, রবিবার সকালে গোঘাট রেল স্টেশন সংলগ্ন এলাকায় একটি গাছে গোঘাটের খানাটি গ্রামের বাসিন্দা গণেশ রায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। তিনি পেশায় ছিলেন দিনমজুর। এ নিয়ে বিজেপি–র পক্ষ থেকে তৃণমূলের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ তোলা হয়। বিজেপি–র রাজ্য নেতৃত্ব আরামবাগে এসে প্রতিবাদ কর্মসূচি গ্রহণ করে। অভিযোগ ছিল, তৃণমূল ওই পরিবারকে অপহরণ করেছে। কিন্তু গণেশ রায়ের দুই ছেলে ধর্মরাজ রায় ও বিশ্বজিৎ রায় বলেন, ‘‌আমাদের কেউ অপহরণ করেনি। আমরা আত্মী‌‌য়ের বাড়িতে গিয়েছিলাম। ঘটনার পর থেকে বিজেপি–কে পাশে পাওয়া যায়নি। ওরাই খুনের কথা বলতে বলেছিল। তাই বলেছিলাম। ভাবতে পারিনি ওরা সেটা নিয়ে এভাবে রাজনীতি করবে। এলাকাকে অশান্ত করবে। বরং তৃণমূল নেতৃত্বই আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন।’‌ প্রসঙ্গত, গণেশবাবুর মৃত্যুর পর থেকেই তাঁদের বাড়িতে বারবার ছুটে গেছেন তৃণমূল নেতারা। হুগলি জেলা সভাপতি দিলীপ যাদব থেকে শুরু করে বিধায়ক মানস মজুমদার সকলেই পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিলেন। মঙ্গলবারও দেখা গেল সেই ছবি। বিধায়কের নেতৃত্বে এক প্রতিনিধিদল গণেশ রায়ের বাড়িতে যায়। ছিলেন গোঘাট–১ নম্বর পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি মনোরঞ্জন পাল, কর্মাধ্যক্ষ নারায়ণ পাঁজা, গোঘাট পঞ্চায়েত প্রধান মনীষা সেন প্রমুখ। গণেশবাবুর স্ত্রীর পুরনো জবকার্ড নতুন করে চালুর ব্যবস্থা করেন। তঁার দুই ছেলের হাতের নতুন জবকার্ড তুলে দেন। আগামী দিনেও এই পরিবারের পাশে তাঁরা থাকবেন বলে জানান।  এ বিষয়ে মানস মজুমদার বলেন, ‘‌যে কোনও মৃত্যুই দুঃখজনক। তিনি কী রাজনীতি করতেন তা আমরা জানতে চাই না। তঁার পরিবারের পাশে তৃণমূল আগামী দিনেও থাকবে। আর বিজেপি শুধু মৃতদেহ নিয়ে রাজনীতি করছে। কোথাও কেউ মারা গেলেই তাকে খুন করা হয়েছে বলে দাবি করছে।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top