অভিজিৎ বসাক
বিয়েবাড়িতে পাত পেড়ে খাওয়াদাওয়ায় বিরতি টেনেছে করোনাভাইরাস। বেশিরভাগ বিয়েবাড়িতে সেই জায়গা নিয়েছে প্যাকেটবন্দি খাবার। সংক্রমণ আটকাতে এই নতুন ব্যবস্থা। মেনুতেও কাটছাঁট করা হচ্ছে। চীনামাটি, ফাইবারের থালা, বাটির বদলে ব্যবহার করা হচ্ছে মাটি, সুপারি পাতার তৈরি পাত্র। খাওয়াদাওয়ার খরচ বেড়েছে কিছুটা। ভিড় ঠেকাতে বিধিনিষেধ চালু রয়েছে। সর্বোচ্চ ৫০ জন উপস্থিত থাকতে পারেন অনুষ্ঠানে।
করোনা সংক্রমণের কারণে বদলে গিয়েছে অনুষ্ঠান বাড়ির ছবি। আমন্ত্রিতদের সংখ্যা হয়ে গিয়েছে নির্দিষ্ট। বরযাত্রী, কন্যাপক্ষ থেকে ক্যাটারার— প্রতি মুহূর্তে সতর্ক থাকতে হচ্ছে সবাইকে। মেনে চলা হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধি। মাস্ক পরে ছবি তুলছেন পাত্রপাত্রী, এমন ছবি ভূরিভূরি দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। এখন কোনও বিয়েবাড়িতে ৫০ জনকে উপস্থিত থাকার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। সাধারণত এর মধ্যে পাত্রপাত্রীর আত্মীয় ৩০ জন এবং পাড়াপড়শি ২০ জন। দিন কয়েক আগেও বিয়েবাড়ি বলতে মানুষ বুঝতেন মানুষের ভিড়, একসঙ্গে খাওয়া। তা অনেকটাই পাল্টে গিয়েছে। একে তো বেশির ভাগ ক্ষেত্রে অনুষ্ঠান বাড়িতে বসে খাওয়ার চল বন্ধ রয়েছে। কোথাও যদি থাকে, সেখানে মেনে চলা হচ্ছে সামাজিক দূরত্ব। একটি টেবিলে দু’‌জনের বেশি বসানো হচ্ছে না। আগের তুলনায় মেনুও হয়ে গিয়েছে ছোট। মাত্র কয়েকটি পদ। ক্যাটারার পেতে অনেক সময় সমস্যায় পড়ছেন বর বা কন্যাপক্ষের লোকজন। কারণ সংক্রমণের ভয়ে অনেকে না করে দিচ্ছেন। অন্যদিকে, কম লোকজন আসায় লাভে পোষাচ্ছে না ক্যাটারারদের। বেড়ে যাচ্ছে প্লেটের খরচ। তাই তারা না করে দিচ্ছেন। বিয়েবাড়িতে চীনে মাটি বা ফাইবারের থালা, বাটি ব্যবহার করা হত। এখন তা হচ্ছে না। কোথাও শালপাতা, কোথাও কলাপাতা আবার কোথাও বা সুপারি পাতার তৈরি থালা, বাটি ব্যবহার করা হচ্ছে।
অনেকে বিয়ের দিনক্ষণ পিছিয়ে দিয়েছেন। ফলে ক্যাটারারকে না করে দিতে হয়েছে। অনেক ক্যাটারার অগ্রিম টাকা ফিরিয়ে দিচ্ছেন। সমস্যা তৈরি হয়েছে তাঁদের। বিয়েবাড়ি তো বটেই, জন্মদিন, অন্নপ্রাশনের মতো অনুষ্ঠানের আয়োজনও কমে গিয়েছে। ঘরোয়া ভাবে খুব ছোট করে পরিবারের লোকজনই সে–সবের আয়োজন করছেন।
ক্যাটারার ব্যবসায়ীরা জানাচ্ছেন, প্যাকেট হোক বা বসে খাওয়া, স্বাস্থ্যবিধির ব্যাপারে সতর্ক তঁারা। যেখানে রান্না করতে যেতে হবে বা খাবার পৌঁছে দিতে হবে, সেখানে আগে গিয়ে জীবাণুনাশের কাজে জোর দিয়েছেন তাঁরা। কর্মীদের মাস্ক, গ্লাভস, টুপি বাধ্যতামূলক করেছেন। সঙ্গে থাকছে স্যানিটাইজার। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই তাঁরা রান্না করে নিয়ে যাচ্ছেন। অনুষ্ঠান বাড়িতে রান্না করতে চাইছেন না তাঁরা।
ফ্রেন্ডস ক্যাটারারের দীপঙ্কর দেব সরকার জানান, প্যাকেটে জোর দেওয়া হয়েছে। মেনুতে খাবারের পদ কমেছে। খাবার তালিকায় মুরগি, খাসি থেকে চিংড়ি— সবই মিলছে। তবে প্লেটের দাম সামান্য বেড়েছে। আহেলী ক্যাটারারের মালিক সুভাষ চক্রবর্তী জানান, বুধবার এক বিয়ের কাজ করেছেন। সেখানে অতিথির সংখ্যা ছিল ৫০–এর কম। কর্মীরা মাস্ক, গ্লাভস ব্যবহার করছেন। ইস্টার্ন ক্যাটারারের মালিক প্রবাল হাজরা জানালেন, বসে খাওয়া হোক বা প্যাকেট— সব ধরনের ব্যবস্থাই তাঁরা করে দেন। গৃহকর্তা কী বলছেন, তার ওপর নির্ভর করছে সেটা। রান্নার লোকজন পেতেও সমস্যা হচ্ছে। দিন কয়েক আগেই বাটানগরে এক বিয়েবাড়িতে রান্নাবান্নার কাজ করেছেন তাঁরা। শাল–কলাপাতা, সুপারি পাতার তৈরি পাত্রে জোর দিচ্ছেন অনেকে। বসে খাওয়ার ক্ষেত্রে দূরত্ব বজায় রাখা হচ্ছে। আগের তুলনায় খরচ সামান্য বেড়েছে।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top