আজকালের প্রতিবেদন
ভারী বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত উত্তরবঙ্গ। অঝোরধারার এই বৃষ্টি চলবে বুধবার পর্যন্ত। ইতিমধ্যেই ৫ জেলায় জারি করা হয়েছে লাল সতর্কতা। টানা বৃষ্টিতে উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি নদীর জলস্তর বেড়েছে। টানা বৃষ্টি চলছে ভুটানেও। তিস্তা–সহ তোর্সা, কালজানি, জলঢাকা, ডায়না নদীর জলস্তর অনেকটাই বেড়ে গেছে। ধসের আশঙ্কায় পাহাড়ের ৪টি মহকুমা ও ৮টি ব্লকে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট সেল খোলা হয়েছে। পাহাড়ি গ্রামে পাঠানো হয়েছে ত্রিপল। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, সক্রিয় মৌসুমি অক্ষরেখার প্রভাবে প্রবল বৃষ্টিতে পাহাড়ে কোথাও কোথাও ধস নামতে পারে। দক্ষিণবঙ্গেও মাঝেমধ্যে বৃষ্টি চলবে।
গত কয়েক দিন ধরেই দক্ষিণবঙ্গে মেঘ ছেয়ে রয়েছে আকাশে। মাঝমধ্যে বৃষ্টিও হচ্ছে। রাতের দিকে থাকছে গুমোট গরম। আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগর থেকে প্রচুর জলীয় বাষ্প ঢুকছে। আকাশ ছেয়ে থাকছে মেঘে। তা বয়ে যাচ্ছে উত্তরবঙ্গের দিকে। তবে দক্ষিণবঙ্গের হাওয়ায় থাকা বাড়তি মেঘ আর জলীয় বাষ্পের কারণে গুমোট ভাব থাকছে। আগামী কয়েকদিনও দক্ষিণবঙ্গে এমনটাই চলবে।
উত্তরবঙ্গে কিন্তু ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হবে। বেশি বৃষ্টি হবে দার্জিলিং, কালিম্পং, আলিপুরদুয়ার, জলপাইগুড়িতে। মালদা, দুই দিনাজপুরেও ভাল বৃষ্টি হবে। কোথাও কোথাও দিনে ১৫০ থেকে ২০০ মিলিমিটার পর্যন্ত বৃষ্টি হতে পারে। প্রবল বৃষ্টিতে ওই সব অঞ্চলের তাপমাত্রাও বেশ খানিকটা কমে যাবে। ‌গত ২৪ ঘণ্টায় শিলিগুড়িতে ৮৬.‌৬, ঝালংয়ে ২৪৫.‌৩, সামসিংয়ে ২১৩.‌৪, জলঢাকায় ১৬৫, হাসিমারায় ১০১ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। 
শনিবার বিকেলে কলকাতায় ঝমঝমিয়ে এক পশলা বৃষ্টি হয়। গাঙ্গেয় দক্ষিণবঙ্গের কয়েকটি জেলায়ও হালকা বৃষ্টি হয়েছে। ঝমঝমিয়ে টানা বৃষ্টি হয়ে গুমোট ভাব কাটবে কবে?‌ আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, উত্তরবঙ্গে যখন বর্ষার বৃষ্টি হয় তখন দক্ষিণবঙ্গে তুলনামূলক কম বৃষ্টি হয়। এখন উত্তরবঙ্গে বর্ষারেখা সক্রিয় রয়েছে। দক্ষিণবঙ্গে এখন যা হচ্ছে তা উত্তরবঙ্গের দিকে ভেসে যাওয়া মেঘ থেকে। কয়েকদিন পর ফের দক্ষিণবঙ্গে বর্ষারেখা সক্রিয় হবে। তখন জমজমাট বৃষ্টির আমেজ পাওয়া যাবে।‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top