আজকালের প্রতিবেদন
আবার জয়জয়কার জেলার। এবার মাধ্যমিকে কলকাতার সঙ্গে টক্কর দিয়ে রাজ্যের মধ্যে সেরার সেরা শিরোপা ছিনিয়ে নিল পূর্ব বর্ধমান জেলার মেমারির ছাত্র অরিত্র পাল। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৯৪। মেধাতালিকায় প্রথম দশে জায়গা করে নিল জেলারই ৮৪ জন। ৬৯৩ পেয়ে দ্বিতীয় স্থানে ওন্দা হাইস্কুলের ছাত্র সায়ন্তন গড়াই এবং কাটোয়া কাশীরাম দাস বিদ্যায়তনের অভীক দাস। ৬৯০ পেয়ে তৃতীয় স্থানে রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র অরিত্র মাইতি, বঁাকুড়া কেন্দুয়াডিহি হাইস্কুলের সৌম্য পাঠক এবং এগরার বাসুদেবপুর ভবানীচক হাইস্কুলের ছাত্রী দেবস্মিতা মহাপাত্র। রাজ্যে মেয়েদের মধ্যে সে–ই প্রথম হয়েছে।
বুধবার সকালে টিভিতে প্রথম হওয়ার খবর পেয়েই কেঁদে ফেলে অরিত্র পাল। তার কথায়, ‘টিভিতে আমার নাম শুনেই যেন হাতে চঁাদ পাওয়ার মতো অবস্থা হয়ে গিয়েছিল আমার।’ তার ইচ্ছে, অঙ্ক এবং রসায়ন নিয়ে গবেষণা করা। অরিত্র মেমারি বিদ্যাসাগর স্মৃতি বিদ্যামন্দির ইউনিট ১–এর ছাত্র। অঙ্ক, ইতিহাস ও ভূগোলে ১০০ , ইংরেজি ও জীবন বিজ্ঞানে ৯৯, বাংলা ও ভৌত বিজ্ঞানে ৯৮ পেয়েছে সে। বাবা গণেশচন্দ্র পাল পানাগড়ে সেনাবাহিনীর সিভিল আর্মিতে কর্মরত। মা চন্দনাদেবী প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষিকা। খবর পেয়েই মন্ত্রী স্বপন দেবনাথ অরিত্রদের বাড়িতে গিয়ে তাকে ফুলের তোড়া দিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। 
মাধ্যমিকে দ্বিতীয় কাটোয়া কাশীরাম দাস বিদ্যায়তনের অভীক দাস ডাক্তার হতে চায়। ‘এক থেকে দশের মধ্যে থাকব ভেবেছিলাম। কিন্তু সেকেন্ড হয়ে যাব ভাবতে পারিনি।’ টিভির পর্দায় নিজের নাম মেধা তালিকার ২ নম্বরে দেখে সরল স্বীকারোক্তি অভীকের। ৬৯৩ পাওয়া অভীক বাংলায় ১০০, ইংরেজিতে ৯৫, অঙ্কে ১০০, ভৌতবিজ্ঞানে ৯৯, জীবনবিজ্ঞানে ৯৯, ইতিহাসে ১০০ ও ভূগোলে ১০০ পেয়েছে। প্রাথমিক শিক্ষক শিবানন্দ দাসের ছেলে অভীক বরাবরই ক্লাসে প্রথম। অভীকের বাড়িতে গিয়ে শুভেচ্ছা জানিয়ে আসেন কাটোয়ার বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জি, প্রধান শিক্ষক কমলকান্তি দাস। উচ্চমাধ্যমিকে নিজের স্কুলেই পড়বে অভীক। ইচ্ছে, দাদা অনিরুদ্ধর মতোই ডাক্তার হওয়া। 
যুগ্মভাবে দ্বিতীয় বঁাকুড়ার ওন্দা হাইস্কুলের ছাত্র সায়ন্তন গড়াই। খবর পেয়েই ওন্দা হাইস্কুলের অনেক শিক্ষক এবং ওন্দা বাজারের অনেক প্রতিবেশী সায়ন্তনদের বাড়িতে হাজির হন। 

সায়ন্তনের মা তঁাদের সবার হাতে মিষ্টি তুলে দেন। সায়ন্তনের বাবা বিশ্বনাথ গড়াই প্রাথমিক স্কুলের শিক্ষক। সায়ন্তন জানায়, সে বিজ্ঞানী হতে চায়। সে বিজ্ঞানের বিষয়গুলি বাবার কাছেই পড়ত। বাংলায় ৯৮, ইংরেজিতে ৯৭, অঙ্কে ১০০, ভৌতবিজ্ঞানে ১০০, জীবনবিজ্ঞানে ১০০, ইতিহাসে ৯৯ এবং ভুগোলে ৯৯ পেয়েছে সে। মোট নম্বর ৬৯৩।
মাধ্যমিকে তৃতীয় বঁাকুড়া কেন্দুয়াডিহি হাইস্কুলের ছাত্র সৌম্য পাঠক। শহরের রামমোহনপল্লী এলাকায় থাকে। ক্লাসে বরাবর ‘‌‌প্রথম’‌ সৌম্য টেস্টে পেয়েছিল ৬৮৩। আশা ছিল, ৬৮৮ পাবে ফাইনালে। পেয়েছে ৬৯০। সে একই স্কুল থেকে উচ্চমাধ্যমিক পড়বে। বাবা সজলকুমার পাঠক ইন্দপুর থানার জোড়দা নিউ মডেল হাইস্কুলের ইংরেজির শিক্ষক। সৌম্যের স্বপ্ন আইএএস পরীক্ষা দিয়ে প্রশাসক হওয়া।
রহড়া রামকৃষ্ণ মিশনের ছাত্র অরিত্র মাইতি ৬৯০ নম্বর পেয়ে মাধ্যমিকে তৃতীয়। সে ফিজিক্স নিয়ে পড়তে চায়। ভালবাসে গল্পের বই পড়তে, ছবি অঁাকতে। অরিত্রর বাড়ি রহড়া পশ্চিমপাড়ায়। বাবা ধনঞ্জয় মাইতি কলকাতায় সিইএসসি–তে কাজ করেন। মা সুতপা গৃহবধূ। অরিত্র বাংলায় ৯৭, ইংরেজিতে ৯৬, অঙ্কে ১০০, ভৌতবিজ্ঞানে ৯৮, জীবনবিজ্ঞানে ১০০, ইতিহাসে ৯৯ ও ভূগোলে ১০০ নম্বর পেয়েছে।‌
যুগ্মভাবে তৃতীয় এগরার বাসুদেবপুর ভবানীচক হাইস্কুলের ছাত্রী দেবস্মিতা মহাপাত্র। রাজ্যে মেয়েদের মধ্যে প্রথম সে। কঁাথির কিশোরনগরের বাসিন্দা দেবস্মিতা বাংলায় ৯৯, ইংরেজিতে ৯৯, ইতিহাসে ৯৭, ভূগোলে ৯৯, ভৌতবিজ্ঞানে ৯৮, জীবনবিজ্ঞানে ৯৮ এবং অঙ্কে ১০০ পেয়েছে। প্রিয় বিষয় ইতিহাস। বিজ্ঞান বিভাগে পড়ে মনোবিদ হতে চায়। বাবা–মা দু’‌জনেই স্কুল শিক্ষক। মাধ্যমিকে মেধা তালিকায় যে তার নাম উঠবে, তা ভাবতে পারেনি দেবস্মিতা।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top