রঞ্জন লাহিড়ী
মণ্ডপের ভেতর দর্শকরা ঢুকতে পারবেন না। রাজ্যের সব পুজো মণ্ডপকে নো এন্ট্রি জোন হিসেবে চিহ্নিত করল কলকাতা হাইকোর্ট। সোমবার বিচারপতি সঞ্জীব বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিচারপতি অরিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় জানিয়েছেন, এবার পুজোয় সব মণ্ডপই নো এন্ট্রি জোন থাকবে। মণ্ডপ বা প্রতিমা দেখতে কেউ ভেতরে ঢুকতে পারবেন না। ভিড় এড়ানো সম্ভব হবে। এই নির্দেশের সঙ্গেই বেশ কিছু নিয়মও জানিয়ে দিয়েছে হাইকোর্ট। পুজোর শুরুর আগেই যে ভিড় চোখে পড়ছে তা আটকানোর জন্যই এই নির্দেশ। আদালতের মত, সংক্রমণ ঠেকাতে এবার পুজোর আনন্দ হোক ভার্চুয়ালে। এদিকে আদালতের রায় নিয়ে রাত পর্যন্ত বৈঠক করেন ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের সদস্যরা। বিষয়টি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে যাওয়া যায় কিনা, তা নিয়েও আলোচনা হয়। আইনি দিকগুলি নিয়েও তাঁরা আলোচনা করেন। 
 আদালতের এই নির্দেশের জেরে এবার রাজ্যের সব মণ্ডপই দর্শকশূন্য থাকবে। পুজো নিয়ে রাজ্যের অনুমতি দেওয়াকে কেন্দ্র করে মামলা দায়ের হয়েছিল। সেই মামলার প্রেক্ষিতেই আদালতের এই নির্দেশ। আদালতের নির্দেশ মেনেই পুজোর ভিড় নিয়ন্ত্রণে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা নিয়ে রিপোর্ট আদালতে জমা দিয়েছে রাজ্য। পরে রিপোর্ট খতিয়ে দেখে আদালতের মন্তব্য, অতিমারী রোখার জন্য যে গাইড লাইন রয়েছে তাতে রাজ্যের সদিচ্ছার অভাব নেই। কিন্তু বাস্তবে কোনও প্রয়োগ নেই।
অন্তর্বর্তী নির্দেশে এদিন আদালত জানিয়েছে, রাজ্যর বড় পুজোর প্যান্ডেল–‌সহ সব পুজো কমিটিকেই মণ্ডপ এলাকায় নো এন্ট্রি ও বাফার জোন করতে হবে। ডিভিশন বেঞ্চ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, বড় মণ্ডপের ক্ষেত্রে সংলগ্ন এলাকার ১০ মিটার জুড়ে এবং ছোট পূজোর ক্ষেত্রে ৫ মিটার এলাকা জুড়ে নো এন্ট্রি জোন থাকবে। মণ্ডপ–‌সহ ওই জোনে কেবল মাত্র পুজো উদ্যোক্তা এবং ক্লাব সদস্যরা ছাড়া কেউ থাকতে পারবেন না। সদস্যদের সংখ্যাও ২৫–‌এর বেশি থাকবেন না। কারা ওই মণ্ডপের ভেতরে থাকতে পারবেন তার তালিকা আগে থেকে তৈরি করে মণ্ডপের বাইরে টাঙাতে হবে। এবং ওই তালিকা প্রতিদিন বা যখন খুশি বদলানো যাবে না। হাইকোর্ট জানিয়েছে প্রায় ৫–‌৬ লক্ষ জনতাকে সামাল দিতে যত পুলিশ প্রয়োজন তা পর্যাপ্ত নয়। ভিড় এড়াতে ছোট জায়গায় আগে থেকে প্রচারাভিযান চালাতে হবে।
হাইকোর্ট এইদিন রায় দিতে গিয়ে বলেছে, নির্দেশ কতটা মানা হল, লক্ষ্মীপুজোর পর রাজ্য পুলিশের ডিজি এবং কলকাতা পুলিশের কমিশনারকে হলফনামা দিয়ে জানাতে হবে। এ বিষয়ে পরবর্তী শুনানি ৫ নভেম্বর হবে। আদালত আশা করছে পুলিশ প্রশাসন এই কাজগুলি নিয়ম মেনে করবে। প্রসঙ্গত, করোনা–‌আবহে মাসের পর মাস স্কুল–‌কলেজ বন্ধ। মারা যাচ্ছেন প্রতিদিন বহু মানুষ। এরই মাঝে পুজো হচ্ছে। পুজো হলেও তা উৎসবের আকারে যাতে না হয় সেই দাবিতে মামলা করেন হাওড়ার বাসিন্দা অজয় দে।
 এদিকে সোমবারের রায় নিয়ে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্ত জানান, করোনা রুখতে রাজ্যের নির্দিষ্ট গাইড লাইন আছে। সেই গাইড লাইন মেনে পুজোর ব্যবস্থা করা হচ্ছে। ভিড় ঠেকাতে ব্যবস্থা নিচ্ছে পুলিশ। সংক্রমণ এড়াতে মাস্ক ও স্যানিটাইজার ব্যবহারে জোর দেওয়া হচ্ছে। আদালতের নির্দেশ মেনেই সব পুজো কমিটি মণ্ডপে স্যানিটাইজার ব্যবহার করছে। মানুষকে সচেতন করতে ব্যবস্থা নিচ্ছে তারা। অন্যদিকে আবেদনকারীর আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য বলেন, করোনার জন্য গণেশ পুজো, রথ–‌সহ একাধিক ধর্মীয় অনুষ্ঠান নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। আক্রান্ত বাড়ছে। তাই এই রায়। সোমবার হাইকোর্টের রায়ের প্রেক্ষিতে বিষয়টি পর্যালোচনা করতে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল কিশোর দত্তের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করেছেন মুখ্যসচিব আলাপন বন্দ্যোপাধ্যায় ও স্বরাষ্ট্রসচিব এইচ কে দ্বিবেদী। অ্যাডভোকেট জেনারেলের সঙ্গে দেখা করেন কলকাতা পুলিশের কমিশনার অনুজ শর্মা। জানা গেছে, সুপ্রিম কোর্ট অক্টোবরের ২৪ তারিখ পর্যন্ত বন্ধ। একটা ভেকেশন বেঞ্চ অবশ্য খোলা থাকবে। কিন্তু সেখানে আপিল করা নিয়ে কিছু আইনি জটিলতা রয়েছে। এই অবস্থায় রায় পুনর্বিবেচনা বা কিছু ছাড় দেওয়ার জন্য হাইকোর্টেই যাওয়া যায় কিনা তার দিকটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। এ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে আজ মঙ্গলবার।
এদিকে হাইকোর্টের রায় শোনা মাত্র বড়–‌ছোট অনেক পুজো কমিটিই নির্দেশ অনুযায়ী ড্রপগেট, লোহার ব্যারিকেড বসানো শুরু করেছে। মুদিয়ালি–‌সহ অনেক বড় পুজো কমিটিই হাইকোর্টের নির্দেশ কার্যকর করতে উদ্যোগ নিয়েছে। তবে অপেক্ষাকৃত ছোট রাস্তার পুজো ও গলির ভেতর পুজোগুলির ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা রয়েছে। কর্মকর্তারা সব দিকই বিবেচনা করে দেখছেন।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top