আজকালের প্রতিবেদন: ‌‌এবার থেকে  কোভিড রোগীরা সকাল–বিকেল পাবেন চা, বিস্কুট। থাকছে নিরামিষ ও আমিষভোজী রোগীদের জন্য পৃথক পদ। করোনা রোগীরা ডিম, মাছ, মাংস, দুধ এতদিন তো পেতেনই এবার থেকে পনির, মাশরুম, সয়াবিনের মতো নতুন কিছু পুষ্টিকর পদ যুক্ত করা হল। যে কারণে করোনা রোগীদের খাবারের জন্য বরাদ্দ বাড়িয়ে ১৫০ থেকে ১৭৫ টাকা করল স্বাস্থ্য দপ্তর। সোমবার এই সিদ্ধান্তের কথা স্বাস্থ্য দপ্তর এক নির্দেশিকায় জানিয়েছে। রাজ্যে করোনায় সুস্থতার হার ৮৬.‌‌৫৫ শতাংশ। গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে করোনা থেকে সুস্থ হয়েছেন ৩,০৮৪ জন। মোট সুস্থ হওয়ার সংখ্যা ১,৭৮,২২৩ জন। এদিন নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৩,২১১ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা ২,০৫,৯১৯ জন। মৃত্যু হয়েছে ৫৮ জনের। রাজ্যে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৪০০৩।
সোমবার করোনা মুক্ত হয়ে হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন বিধাননগরের ডেপুটি মেয়র তাপস চ্যাটার্জি। করোনায় আক্রান্ত হয়ে ৭ সেপ্টেম্বর থেকে বাইপাসের এক বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তিনি এখন সুস্থ। তবে কিছুদিন বিশ্রামে থাকতে হবে। ১০ দিন পর চেক আপে আসতে হবে।      
ওয়ার্ডে ভর্তি থাকা আমিষ, নিরামিষভোজী করোনা রোগীদের কোন কোন সময়ে কী কী পদ কতটা পরিমাণে দিতে হবে তার বিস্তারিত মেনু ঠিক করে দিয়েছে স্বাস্থ্য দপ্তর। খাবারের গুণমান আরও ভাল দেওয়ার পাশাপাশি পরিমাণও বাড়াতে বলা হয়েছে। প্রসঙ্গত, ১০ জুন এক নির্দেশিকায় ১৫০ টাকা করা হয়েছিল। এবার আরও ২৫ টাকা বাড়িয়ে রোগী পিছু ১৭৫ টাকা ধার্য করেছে স্বাস্থ্য দপ্তর। খাবারের পরিমাণও আগের থেকে বাড়ানো হয়েছে। রোগের বিরুদ্ধে লড়তে ওষুধের পাশাপাশি করোনা রোগীদের প্রয়োজন প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার।  
এমআর বাঙুর–‌সহ আরও কয়েকটি কোভিড হাসপাতালে রোগীদের চাহিদা অনুযায়ী চা, বিস্কুট দেওয়া হত। কিন্তু সব কোভিড হাসপাতালে দেওয়া হত না। সেই জন্য সব কোভিড হাসপাতালে যাতে রোগীদের দেওয়া হয় সেই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নিদের্শিকায় উল্লেখ রয়েছে— আমিষভোজী রোগীদের জন্য সকালে ও বিকেলে দিতে চা ও বিস্কুট ২ পিস করে। প্রাতরাশ—চার পিস পাউরুটি, ডিম সিদ্ধ ও কলা ১টা করে ও গরম দুধ ২৫০ মিলিলিটার। দুপুরে—ভাল চালের ভাত ১৫০ গ্রাম, ডাল ৫০ গ্রাম, মাছ অথবা মুরগির মাংস ৮০–৯০ গ্রাম, মরশুমি সবজি ১০০ গ্রাম, দই ১০০ গ্রাম। রাতে— ভাত অথবা রুটি ১০০ গ্রাম, ডাল ৫০ গ্রাম, মাছ অথবা মুরগির মাংস ১০০ গ্রাম, মরশুমি সবজি ৭৫ গ্রাম। নিরামিষভোজী রোগীদের জন্যও সকালে ও বিকেলে চা ও দুটো করে বিস্কুট। প্রাতরাশে শুধু ডিম সিদ্ধ বাদ। দুপুরের আহারে শুধু মাছ, মাংসের বদলে থাকছে মাশরুম অথবা পনির অথবা সোয়াবিন ৮০ গ্রাম করে। রাতেও মাছ অথবা মাংসের জায়গায় পনির বা সোয়াবিন অথবা রাজমা ৮০ গ্রাম করে দিতে হবে। সকালে দুপুরে রাতে আমিষভোজীদের মতো অন্য সব পদ একই পরিমাণে রাখা হয়েছে মেনুতে।  
বুলেটিন অনুযায়ী নতুন করোনা আক্রান্তদের মধ্যে কলকাতায় ৫৫৩, উত্তর ২৪ পরগনায় ৫৫৯, হাওড়ায় ১৪৫, হুগলিতে ২৬১ জন–‌সহ সব জেলাতেই বেড়েছে করোনা সংক্রমণ।     

জনপ্রিয়

Back To Top