অম্লানজ্যোতি ঘোষ
আলিপুরদুয়ার, ১২ জুলাই

একটি–দুটি নয়, উত্তর–পূর্ব সীমান্ত রেলের ৯টি ট্রেনকে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার প্রস্তাব নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই সীমান্ত রেলের তরফে প্রেস বিবৃতি দেওয়া হয়েছে। তাতে নির্দিষ্ট রুটে চলা ৯টি ট্রেনের তালিকাও দিয়ে দেওয়া হয়েছে। রেলের দুটি শ্রমিক কর্মচারী সংগঠন এন–এফ রেলওয়ে মজদুর ইউনিয়ন, এন–এফ রেলওয়ে এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের তরফে সামগ্রিকভাবে কেন্দ্রীয় সরকারের নীতির তীব্র প্রতিবাদ করা হয়েছে। আন্দোলনে নেমেছে দুটি সংগঠন। করোনা পরিস্থিতির কারণে এমপ্লয়িজ ইউনিয়নের আন্দোলন চলছে পোস্ট কার্ডের মাধ্যমে। আন্দোলনের ঝাঁঝ আর বাড়বে বলে জানিয়েছেন সংগঠনের আলিপুরদুয়ার ডিভিশনের সম্পাদক সুজিত মিশ্র। মজদুর ইউনিয়নের তরফে বিভাস জোয়ারদার জানান, গণজাগরণ কর্মসূচি পালিত হবে। 
আপাতত সীমান্ত রেলে যে ট্রেনগুলি তালিকায় এসেছে তার মধ্যে রয়েছে গুয়াহাটি–দিল্লি দৈনিক এক্সপ্রেস, গুয়াহাটি–বেঙ্গালুরু, গুয়াহাটি–কোচি, হাওড়া–বঙ্গাইগাঁও, গুয়াহাটি–শিয়ালদহ ত্রিসাপ্তাহিক এক্সপ্রেস। বাকি সাপ্তাহিক ট্রেনগুলির মধ্যে রয়েছে গুয়াহাটি–দ্বারভাঙা, আগরতলা–ভোপাল, ডিব্রুগড়–পুনে, আগরতলা–করিমগঞ্জ এক্সপ্রেস। 
ভারতীয় রেলের তরফে ইতিমধ্যেই দেশের ১০৯টি রুটে বেসরকারি হাতে ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সামনে আসার পরই আশঙ্কা ছড়ায়। সীমান্ত রেলে ৯টি ট্রেন বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার বিষয়টিতে জল্পনা আরও বেড়েছে। উত্তর–পূর্ব ভারতের সঙ্গে এর প্রভাব পড়বে উত্তরবঙ্গ–সহ গোটা পশ্চিমবঙ্গে। রেল সম্পর্কে ওয়াকিবহাল একটি মহলের মতে, এখন ১০ টাকায় ৪০ কিমি যাওয়া যায়। এই ভাড়া হয়তো আর থাকবে না, ভাড়া বাড়বে। 
প্রাথমিকভাবে জানা গেছে, ট্রেনের চালক, গার্ড রেলের তরফেই থাকবেন। ৩৫ বছরের চুক্তি হবে। উত্তর–পূর্ব সীমান্ত রেল ১২০টি বিভিন্ন ধরনের যাত্রিবাহী ট্রেন চালিয়ে আসছে। সীমান্ত রেলের রুটের মধ্যে রয়েছে উত্তরবঙ্গ। যেখানে নিউ জলপাইগুড়ি, নিউ কোচবিহার, নিউ আলিপুরদুয়ার, আলিপুরদুয়ার জংশনের মতো ৪টি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশন আছে। রেলকর্মীদের একটি অংশের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাঁরা বেসরকারীকরণের নতুন সিদ্ধান্ত নিয়ে যথেষ্ট উদ্বেগে রয়েছেন। বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ সাফ বলেন, ১৬০ কিমি গতিবেগে ট্রেন চলবে বলা হচ্ছে। তবে সীমান্ত রেল ট্র‌্যাকের যা পরিকাঠামো, তাতে ১১০ কিমির বেশি গতিতে ট্রেন চালানোই সম্ভয় নয়। আর বেশি ভাড়া দিয়ে সবার পক্ষে ট্রেনে চড়াও সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষের যাতায়াতের অন্যতম ভরসা রেল। ভারতীয় রেলকে সবার আগে সেটা মনে রাখতে হবে। 
সীমান্ত রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক শুভানন্দ চন্দা বলেন, ‘‌প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা বেসরকারি তরফে বিনিয়োগ হবে। সেই অর্থে আমরা বর্তমান পরিকাঠামোর উন্নতি করতে পারব। রেলকর্মীদের উদ্বেগের কোনও কারণ নেই।’‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top