আজকালের প্রতিবেদন‌‌: সবুজায়ন ও পরিবেশ রক্ষায় রাজ্য সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। বুধবার বিধানসভায় প্রশ্নোত্তর পর্বে একথা জানিয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী ফিরহাদ হাকিম। তিনি বলেন, ‘‌দিল্লির মতো দূষণ যাতে বাংলায় না হয়, তার জন্য কিছু পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে রাজ্যের পুরসভাগুলিকে পরিবেশ বান্ধব করে তোলা হয়েছে। নিউ টাউনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নির্দেশে ১৪৮০ একর জমিতে প্রকৃতিতীর্থ হয়েছে।’‌
মন্ত্রী অভিযোগ করেন বাম আমলেই পুকুর বোজানো এবং প্রোমোটার শব্দের আমদানি হয়েছে। অনেক পুকুর বুজিয়ে বাড়িও হয়ে গেছে। তিনি বলেন, ‘‌রাজ্য সরকারের কঠোর সিদ্ধান্ত পুকুর, জলাশয় ভরাট করা যাবে না। বিভিন্ন পুরসভা এলাকায় এলইডি আলো দিচ্ছি। সবুজায়নের ওপর জোর দিয়েছি। যে জলাশয়, পুকুর বুজিয়ে ফেলা হয়েছে, তা আগের অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে হবে। সৌন্দর্যায়ন ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। দূষণ রুখতে তদারকি চালু হয়েছে। জলাশয়গুলি পরিষ্কার করা হচ্ছে। গাছের পাতা নিয়মিত ধোয়া হচ্ছে, যাতে পরিবেশ ঠিকঠাক থাকে। বাম আমলে কলকাতায় ৩ হাজারের ওপর পুকুর বোজানো হয়েছে। ৩৩০টি পুকুর চিহ্নিত হয়েছে। তার মধ্যে ৬টি পুনরুদ্ধার 
করা গেছে।’‌
বিধায়ক মনোজ চক্রবর্তী বহরমপুরের ডাম্পিংগ্রাউন্ড থেকে পরিবেশ দূষণ এবং আবর্জনায় আগুন লাগার প্রসঙ্গ তোলেন। মন্ত্রী বলেন, ‘‌আমরা আলাদা জমি চিহ্নিত করেছি। সেখানেই আবর্জনা ফেলতে হবে। আমরা বর্জ্য পদার্থকে বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করেছি। মাছ, শাক–‌সবজির জন্য আলাদা জায়গা, প্লাস্টিক জাতীয় বর্জ্য ফেলার জন্য আলাদা জায়গার ব্যবস্থা হয়েছে। মাছ, শাক–‌সবজির বর্জ্য থেকে সার তৈরি হবে। এমনভাবে পরিকল্পনা করা হয়েছে যাতে কোনও ভাবে দূষণ না ছড়ায়। তবে মানুষকে সচেতন হতে হবে।’‌
বিধায়ক জাহানারা খান বলেন, ‘‌উত্তর কলকাতাতে ৩৭৫টি জলাশয় বোজানো হয়েছে।’‌‌ তন্ময় ভট্টাচার্য বলেন, ‘‌তাঁর বিধানসভা এলাকায় পুকুর ভরাট চলছে। বেলঘরিয়া হাইওয়ের দু’‌পাশের সার্ভিস রোডের কাছে জলাশয়গুলিও ভরাট করা হচ্ছে। অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।’‌ ‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top