‌বুদ্ধদেব দাস: রাজ্য জুড়ে রেশন কার্ড সংশোধনের ও নতুন কার্ড করার সময়সীমা বাড়াল রাজ্য সরকার। এতদিন ঘোষণা করা হয়েছিল শুক্রবার পর্যন্ত রেশন কার্ড সংশোধন করা যাবে। কিন্তু বুধবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি ডেবরা অডিটোরিয়ামের প্রশাসনিক সভা থেকে ঘোষণা করেন, ‘‌এখনও বহু মানুষের রেশন কার্ড সংশোধনের কাজ বাকি রয়েছে। তাই সরকার আরও সময়সূচি বাড়াবে। পুজোর পরও নভেম্বর মাস পর্যন্ত এই কাজ চলবে।’‌ 
তিনি আরও বলেন, ‘‌অনেকে আছেন ২ টাকা কেজি চাল পান। আবার কেউ কেউ অর্ধেক দামে চাল পান। আবার অনেকে রেশন তোলেন না। শুধুমাত্র পরিচয়পত্র হিসেবে বঁাচিয়ে রেখেছেন। এর প্রকৃত তথ্য আমাদের হাতে আসলে ভাল হয়। যঁারা রেশন তুলছেন না, তঁাদের জন্য বরাদ্দ রেশন সামগ্রী কেন ডিলারকে খেতে দেব? এটা বাদ গেলে সেই টাকা রাজ্যের অন্য উন্নয়নমূলক কাজে আসবে।’‌ তিনি পরামর্শ দেন, যঁারা রেশন নিয়মিত তোলেন তঁাদের জন্য থাকবে এক রঙের কার্ড। আর যঁারা রেশন তোলেন না, তঁাদের জন্য অন্য রঙের কার্ড করতে।’‌ 
মুখ্যমন্ত্রী এদিন জানান, রেশন কার্ড সংশোধনের কাজের সঙ্গে, সেন্সাসের কাজের সঙ্গে এনআরসি–‌র কোনও সম্পর্ক নেই। প্রতি ১০ বছর অন্তর সেন্সাস হয়। ২০১১ সালে হয়েছিল। ২০২১ সালে হবে। এটা রুটিন কাজ। এটা জনগণনা। এটা ধর্মের ভিত্তিতে হয় না, জাতপাতের ভিত্তিতে হয় না। একটা পরিবারের সদস্য কতজন? কে কী করেন? এসব নানা বিষয়ের ওপর তথ্য সংগ্রহ করা হয়। আগে রাজ্যের জনসংখ্যা ছিল ৯ কোটি। এখন তা বেড়ে হয়েছে ১০ কোটির কিছু বেশি। সেই তথ্যের ভিত্তিতে সরকার পরিকল্পনা তৈরি করে। তা রূপায়ণ করা হয়। এটাই নিয়ম।  সেই বিষয়ে কেউ কেউ বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন, নানারকম কুৎসা রটাচ্ছেন, অপপ্রচার, চক্রান্ত করছেন। মানুষের মনে ভয় ধরানো হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী সকলকে আশ্বস্ত করে বলেন, ‘‌আমি সকলকে বলছি কোনও রকম ভয়ের মধ্যে যাবেন না। রাজ্যের এরকম সিদ্ধান্ত হয়নি। ১০ বছর পরপর সব রাজ্যে সেন্সাস হয়। ভোটার তালিকা, রেশন কার্ড সংশোধনের কাজ হয়। এটা রুটিন কাজ। বিধায়ক, পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি, গ্রাম প্রধানরা বাড়ি বাড়ি যান। মানুষকে বোঝান। ফড়েরা ঢুকে ভয় দেখাচ্ছে।’‌ বিডিও এবং ভোটের কাজে যুক্ত আধিকারিকদের বলেন, ‘‌আপনারা অফিসে বসে না থেকে বাড়ি বাড়ি যান। কারও কোনও কাগজপত্র না থাকলে তঁাকে আশ্বাস দিন। রেশন কার্ড ও ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে রাজ্য সরকার মানুষের পাশে রয়েছে এবং থাকবে।’‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top