সুনীল চন্দ
রায়গঞ্জ, ২৮ অক্টোবর

বিজয়া দশমীতে উত্তর দিনাজপুর জেলা বিজেপি কার্যালয়ে অস্ত্রপুজো ও অস্ত্রনৃত্য ঘিরে বিতর্ক তুঙ্গে। এক হাতে খড়্গ, অন্য হাতে তরোয়াল নিয়ে ওইদিন নেচেছেন বিজেপি–‌র জেলা সভাপতি বিশ্বজিৎ লাহিড়ী। তাঁর সঙ্গে অস্ত্রনৃত্যে অংশ নেন বিজেপি–র প্রবীণ স্থানীয় নেতা–‌কর্মীরা। অস্ত্র হাতে নাচেন মহিলা কর্মীরাও। বিজেপি–র পক্ষ থেকেই অস্ত্রপুজো এবং অস্ত্র হাতে ছবি পোস্ট করা হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। আতঙ্ক তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে।
প্রতিবারের মতো রায়গঞ্জ শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকা মহাত্মা গান্ধী রোডের বিজেপি জেলা কার্যালয়ে এবারও আয়োজিত হয় দুর্গাপুজো। সোমবার দশমীর দিন দুর্গা প্রতিমার সামনে খড়্গ, তরোয়াল, হাঁসুয়া ইত্যাদি নানা ধারালো অস্ত্রের পুজো করা হয়। পরে অস্ত্রগুলি নিয়ে আসা হয় বিজেপি অফিসে। তারপরই হাতে অস্ত্র নিয়ে নৃত্যে মেতে ওঠেন বিশ্বজিৎ লাহিড়ী–‌সহ দলীয় নেতা–কর্মীরাও। 
এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন স্থানীয় কংগ্রেস বিধায়ক মোহিত সেনগুপ্ত থেকে জেলা তৃণমূল সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল এবং জেলা সিপিএম সম্পাদক অপূর্ব পাল। কড়া সমালোচনা করেছেন রায়গঞ্জের পুরপ্রধান, জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র সন্দীপ বিশ্বাসও। 
কানাইয়ালাল বলেন, ‘‌এটাই বিজেপি–র সংস্কৃতি। ওঁরা মানুষকে ভয় দেখাতে চায়।’‌ সন্দীপ বিশ্বাস বলেন, ‘‌বিজেপি হিংসাশ্রয়ী দল। বাংলার মানুষ হিংসায় বিশ্বাসী নন। বাংলার মানুষকে ভয় দেখিয়ে কোনও লাভ নেই। মানুষ মমতা ব্যানার্জির সঙ্গেই আছেন।’‌
বিধায়ক মোহিত সেনগুপ্ত বলেন, ‘‌প্রশাসন সতর্ক থাকলে বিজেপি অস্ত্র নিয়ে খেলা করতে পারত না। এত সাহস বিজেপি পেল কী করে?‌ সোশ্যাল মিডিয়ায় ছবি ছড়িয়ে পড়ায় মানুষ ভয় পেয়ে গেছে। প্রশাসনের উচিত কড়া ব্যবস্থা নেওয়া।’‌ সিপিএম জেলা সম্পাদক অপূর্ব পাল বলেন, ‘‌বিজেপি বেআইনি কাজ করেছে। শিখরা অস্ত্র বহন করেন। তাঁদের লাইসেন্স আছে ধর্মীয় কারণে। হিন্দুদের অস্ত্র ধারণের কোনও আইনি লাইসেন্স নেই। ওঁরা এভাবে অস্ত্র নিয়ে খেলা করতে পারেন না। সরকারের উচিত ওঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া।’‌ 
বিজেপি জেলা সভাপতি অবশ্য এই ধরনের বিতর্ককে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘রীতি মেনেই  দশমীর পুজো চলাকালীন অস্ত্রপুজো করা হয়েছে। বিরোধীরা এনিয়ে বিতর্ক তৈরি করে কোনও সুবিধা করতে পারবে না।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top