অংশু চক্রবর্তী
করোনা আবহে ঝাড়খণ্ডের কার্মাটঁাড়ে বিদ্যাসাগরের বাড়িতে এবার অনুষ্ঠান সংক্ষিপ্ত। ২৬ সেপ্টেম্বর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের দ্বিশতবর্ষ পূর্ণ হচ্ছে। এই বাড়ির তাৎপর্য ঐতিহাসিক। বর্ণপরিচয়ের ষষ্ঠ সংস্করণ এই ঠিকানা থেকেই প্রকাশিত হয়েছিল। কার্মাটঁাড় স্টেশন এখন বিদ্যাসাগরের নামে। স্টেশন থেকে মিনিট পঁাচেকের পথ গেলেই বিদ্যাসাগরের স্মৃতিবিজড়িত বাড়ি। ২৬ সেপ্টেম্বর ফেসবুকে লাইভ অনুষ্ঠান হবে। ইউটিউবেও দেখা যাবে। কথা হচ্ছিল বিহার বাঙালি সমিতির সাধারণ সম্পাদক সুনির্মল দাশের সঙ্গে। বললেন, ৩ একর ১৯ ডেসিমেল জমি। বিদ্যাসাগরের বাড়িটি সংস্কার করে দিয়েছে ঝাড়খণ্ড সরকার। করোনার জন্য সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠান হবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে।
এই বাড়িতে রয়েছে বিদ্যাসাগরের ব্যবহৃত খাট, ছবি। রয়েছে দুটি অতিথি নিবাস। একটির নাম ‘‌জামশেদপুর ভবন’,‌ অপরটি ‘‌মনমোহন অতিথি নিবাস’‌। পর্যটক, বিদ্যাসাগর অনুরাগীরা থাকতে পারবেন, খাবারের ব্যবস্থাও আছে। সুনির্মলবাবু জানান, ইতিহাসপ্রসিদ্ধ এই বাড়িটির জন্য আর্থিক সহায়তা চেয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে চিঠি দেওয়া  হয়েছে। ঝাড়খণ্ড সরকার ২৫ লাখ টাকা মঞ্জুর করেছে। ‘পথের পঁাচালী’ও আর্থিক সহযোগিতা করেছে। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে অর্থ পেলে গড়ে উঠবে কম্পিউটার সেন্টার। 
মানবদরদি বিদ্যাসাগর বিধবা বিবাহ প্রচলন করেন। কবি মাইকেল মধুসূদন দত্তকেও ‌বিদেশে থাকার সময় আর্থিক সাহায্য করেছিলেন। সুনির্মলবাবুর কথায়, ‘এই বাড়িতেই রয়েছে তিরিশটি ছবি। তরুণ প্রজন্মের কাছে আরও বেশি করে বিদ্যাসাগরের প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরতে হবে। এখানে রয়েছে ‘‌ভগবতী ভবন’‌। ছোট অডিটোরিয়াম। বিদ্যাসাগর স্মৃতিরক্ষা সমিতি জায়গাটি কিনেছে। নাম ‘‌নন্দনকানন’‌। ১৮ বছর বিদ্যাসাগর এই বাড়িতে ছিলেন।’ তিনি বলেন, কার্মাটঁাড়ে বিদ্যাসাগরের এই বাড়িটি নিয়ে একটি তথ্যচিত্র নির্মাণের ভাবনা রয়েছে। ২৬ সেপ্টেম্বর রাজা ব্যানার্জির তৈরি তথ্যচিত্র দেখানো হবে। কলকাতা দূরদর্শনও একটি ছবি করেছে।
বিদ্যাসাগরের জন্ম বীরসিংহ গ্রামে। সেখানে তো বটেই, কলকাতার বাদুড়বাগানের বাড়িতেও প্রচুর মানুষ আসেন। রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব কলকাতার বাদুড়বাগানের বাড়িতে এসেছিলেন। তখন বিদ্যাসাগর তঁাকে বলেছিলেন, ‘‌আমি সারাজীবন মানুষের সেবা করে যাব।’‌‌‌‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top