দীপঙ্কর নন্দী
কৃষি বিলের বিরুদ্ধে অভিনব প্রতিবাদ জানাল তৃণমূলের কিসান মজদুর সংগঠন। শুক্রবার গান্ধীমূর্তির নীচে মঞ্চের সামনে ছোট সবজি বাজার বসিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ৭–৮ জন কৃষক বসেছিলেন ঝুড়িতে করে বেগুন, শসা, পেঁয়াজ, ঝিঙে, আলু, চিচিঙ্গে, করোলা, উচ্ছে নিয়ে। যা খেত থেকে তুলে নিয়ে আসা হয়। ব্যানারে লেখা ছিল, ‘‌এভাবে আমরা কৃষিজ ফসল বিক্রি করতে চাই।’‌ গত কয়েক দিন ধরে একই জায়গায় অবস্থান–‌বিক্ষোভ চলেছে। সংগঠনের সভাপতি বেচারাম মান্না মঞ্চের সামনের রাস্তায় একটি গ্রামের পরিবেশ তৈরি করেছিলেন। এক দিকে ধানের চারা বোনা হয়। গাজর দিয়ে ভারতের ম্যাপ তৈরি করা হয়। বেচারাম–‌সহ অনেকেই মাথায় টোকা পরে এসেছিলেন। কৃষকেরা রক্ত দিয়ে কাগজের ওপর কৃষি বিলের বিরুদ্ধে স্লোগানও লেখেন। বিলের কপি পুড়িয়ে দেওয়া হয়। গলায় প্ল্যাকার্ড ঝুলিয়ে এসেছিলেন অনেকে। প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল:‌ অবিলম্বে বিল প্রত্যাহার করতে হবে, কৃষক–‌বিরোধী এই কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে জোট বাঁধতে হবে। মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সি, তাপস রায়, অশোক দেব, রফিকুল ইসলাম, স্নেহাশিস চক্রবর্তী, অলোক মাঝি–‌সহ সংগঠনের অন্য নেতারা।
কলকাতা–‌লাগোয়া প্রায় সব জেলা থেকেই কৃষকেরা এদিন অবস্থানে আসেন। মহিলারাও এসেছিলেন। অনেকেই অভিনব কর্মসূচি দেখতে ভিড় করেন। তবে শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে ও মাস্ক পরে প্রতিবাদ জানানো হয়। সুব্রত বক্সি বলেন, ‘‌গায়ের জোরে সংসদের দুই কক্ষে এই বিল পাশ করিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই বিলে কৃষকদের উপকারের পরিবর্তে অপকারই হবে। আমরা এই বিল মানছি না। লাগাতার আন্দোলন হবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এই বিলের তীব্র প্রতিবাদ করেছেন। তঁার নির্দেশে দল রাস্তায় নেমেছে।’‌
বেচারাম মান্না বলেন, ‘‌মুখ্যমন্ত্রীর মতো আর কেউ কৃষকদের পাশে দঁাড়ায়নি। তঁাদের জন্য বহু প্রকল্প তিনি চালু করেছেন।’‌ বক্তব্য পেশ করেন মন্ত্রী তাপস রায়ও। এদিন সকাল ১১টা থেকে শুরু হয় অবস্থান। চলে সন্ধে পর্যন্ত। আগামী দিনে কৃষকেরা বড় আন্দোলন করবেন। আগামী দিনের কর্মসূচি দু–‌এক দিনের মধ্যেই ঘোষণা করা হবে।

জনপ্রিয়

Back To Top