আজকালের প্রতিবেদন
পরবর্তী শিক্ষাবর্ষ এবং স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের পঠনপাঠনের সময়সীমা কমে যাওয়ায় যে ক্ষতি হবে তা মেটাতে সপ্তাহে ৬দিন ক্লাস নিতে বলল ইউজিসি। কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয়গুলির লম্বা ছুটি কাটছাঁটের কথাও বলা হয়েছে। শুক্রবার এ নিয়ে যে বিস্তারিত গাইডলাইন প্রকাশ করেছে ইউজিসি, তাতেই এটা বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, কাল, রবিবার শিক্ষাবর্ষ শুরু সংক্রান্ত বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন বা ইউজিসি–‌র এই গাইডলাইন নিয়ে আলোচনার জন্য উপাচার্যদের সঙ্গে বৈঠকে বসতে চলেছেন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি।
 ইউজিসি–‌র এই বিস্তারিত গাইডলাইন বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকেও পাঠানো হয়েছে। তাতে বলা হয়েছে, করোনার কারণে পঠনপাঠনের যে ক্ষতি হয়েছে, তা মেটাতে পরবর্তী দুটি শিক্ষাবর্ষ, অর্থাৎ ২০২০–২১ এবং ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষে সপ্তাহে ৬ দিন ক্লাস নেওয়া হোক। জুলাইয়ের বদলে ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষ শুরু হচ্ছে নভেম্বরে। দেরিতে শিক্ষাবর্ষ শুরু হওয়ায় যে পঠনপাঠনের যে ক্ষতি হবে তা মিটিয়ে সঠিক সময় ফল প্রকাশের জন্য এই দুই শিক্ষাবর্ষেই কলেজ–‌বিশ্ববিদ্যালয়ের লম্বা ছুটিগুলি কমিয়ে দেওয়ার কথাও বলা হয়েছে। উপাচার্যদের কাছে পাঠানো গাইডলাইনে জানানো হয়েছে, ভর্তি সংক্রান্ত এই গাইডলাইন পরিস্থিতি বিচার করে বিশ্ববিদ্যালয়গুলি  ছাত্রছাত্রীদের স্বার্থে নিজেদের মতো রদবদল করতে পারবে। এই গাইডলাইনে আরও জানানো হয়েছে এই সময় অনলাইন, অফলাইন অথবা দু’‌ভাবেই ক্লাস নেওয়া যেতে পারে।
সপ্তাহে ছ’‌দিন ক্লাস নেওয়া এবং ছুটি প্রসঙ্গে রাজ্য কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির (ওয়েবকুটা)  সভাপতি শুভোদয় দাশগুপ্ত বলেন, ‘শিক্ষকেরা ৬ দিনই কাজ করেন। সপ্তাহে একদিন তাঁদের প্রস্তুতির জন্য ছুটি (পি ডে) দেওয়া হয়। করোনার এই পরিস্থিতিতে পড়ুয়াদের পঠনপাঠনের ক্ষতির কথা ভেবে প্রস্তুতি ছুটির দিনও শিক্ষকরা আশা করি ক্লাস নিতে আপত্তি করবেন না।’‌ তিনি আরও জানান, ‘‌বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজ্য সরকার যদি লম্বা ছুটি কমিয়ে দিতে চায় তাহলে ছাত্রছাত্রীদের কথা ভেবে শিক্ষকেরা যতটা সহযোগিতা করা সম্ভব, নিশ্চয় তা করবেন।‌’‌ তৃণমূলের কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সংগঠন ওয়েবকুপার সভানেত্রী কৃষ্ণকলি বসু বলেন, ‘‌অন্যান্য রাজ্যে শনি এবং রবিবার কলেজ বন্ধ থাকলেও আমাদের রাজ্যে সপ্তাহে ৬ দিনই ক্লাস হয়। ‘‌পি–ডে’‌ কে ছুটি হিসেবে ধরা হয় না। ফলে ৬ দিন ক্লাস করাটা নতুন কোনও কথা নয়।’‌ গরম বা পুজোর ছুটি কাটছাঁটের বিষয়ে তাঁর বক্তব্য, ‘‌এটা তো রাজ্য সরকার ঠিক করবে। তার আগে তো কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় খুলতে হবে। তাছাড়া অনলাইন ক্লাসও চলছে। প্রথম বর্ষে যারা ভর্তি হচ্ছে তাদের তো অনলাইন ক্লাসই হবে। এই পরিস্থিতিতে প্রায় সবাই এভাবে ক্লাস করতে  সড়গড় হয়ে গিয়েছে।’‌ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি জুটার সাধারণ সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায় বলেন, ‘‌যাদবপুরে ইঞ্জিনিয়ারিং ও বিজ্ঞান বিভাগে সপ্তাহে ৬ দিনই ক্লাস হয়। ফলে নতুন করে ক্লাস বাড়ানোর সুযোগ নেই। তাছাড়া বেশি ক্লাস নিলে ছাত্রছাত্রীরা নিজেরা পড়বে কখন?‌’‌ ছুটি কমানো নিয়ে বলেন, ‘‌আমাদের গরমের ছুটি বলে কিছু নেই। ওই সময় পরীক্ষা হয়। আর পুজোতে মাত্র ১০ দিন ছুটি থাকে।’‌ গাইডলাইনে পরীক্ষার যে সময় বেঁধে দিয়েছে ইউজিসি তার সমালোচনা করে পার্থপ্রতিমবাবু বলেন, ‘‌এত কম সময়ের মধ্যে ‘‌ল্যাব বেসড’‌ বিষয়ের পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব নয়। একদিকে ইউজিসি বিশ্ববিদ্যালয়গুলিকে আর্থিক সাহায্য পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে, অন্যদিকে স্বাধিকারে ক্রমাগত হস্তক্ষেপ করে চলেছে। জাতীয় শিক্ষানীতিতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলির শিক্ষাগত স্বাধিকার নিয়ে যা বলা আছে, কার্যক্ষেত্রে ইউজিসি ঠিক তার উল্টো কাজগুলোই করছে।’‌
প্রসঙ্গত, করোনা পরিস্থিতি মাথায় রেখে ইউজিসি ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের যে ক্যালেন্ডার প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যাচ্ছে শিক্ষাবর্ষের সময়সীমা দশ মাসের। শিক্ষাবর্ষটি শুরু হবে ১ নভেম্বর। ২০২১–২২–‌এর শিক্ষাবর্ষ শুরু হবে ৩০ আগস্ট থেকে।  কোনও কারণে ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের স্নাতক ও স্নাতকোত্তর স্তরের চূড়ান্ত বর্ষ বা সেমেস্টারের  ফল প্রকাশে দেরি হলে অর্থাৎ যদি অক্টোবরের মধ্যে ফল প্রকাশ সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে ১ নভেম্বরের বদলে ১৮ নভেম্বর থেকে ক্লাস শুরু করা যেতে পারে।

জনপ্রিয়

Back To Top