পার্থসারথি রায়
জলপাইগুড়ি, ২৯ জুন

দুর্নীতিকে কোনওমতেই প্রশ্রয় নয়। কঠোর অবস্থান নিয়ে শুদ্ধকরণ প্রক্রিয়া শুরু করেছে তৃণমূল। জলপাইগুড়ি‌র ৮ তৃণমূল নেতাকে শোকজ করেছেন তৃণমূলের জেলা সভাপতি কৃষ্ণকুমার কল্যাণী। পাশাপাশি জলপাইগুড়ির প্রাক্তন পুরপ্রধান মোহন বসুর বিরুদ্ধেও অবৈধভাবে বিল্ডিং প্ল্যান পাশ করার অভিযোগে তদন্ত হবে।
যে ৮ তৃণমূল নেতাকে শোকজ করা হয়েছে, তঁাদের মধ্যে রয়েছেন ধূপগুড়ি পুরসভা‌র ভাইস চেয়ারম্যান রাজেশকুমার সিং–সহ ৫ কাউন্সিলর। গত শনিবার তাঁদের শোকজের চিঠি পাঠানো হয়। ওই ৮ জন তৃণমূল নেতা‌র মধ্যে ৬ ‌জনই ধূপগুড়ির বাসিন্দা। অভিযুক্ত তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি, স্বজনপোষণ, কাটমানি নেওয়া–সহ তোলাবাজির অভিযোগ জমা পড়েছিল জেলা নেতৃত্বের কাছে।
শোকজের বিষয়টি স্বীকার করে তৃণমূলের জেলা সভাপতি কৃষ্ণকুমার কল্যাণী বলেন, ‘‌শোকজের বিষয়টি চিঠিতেই বিস্তারিত লেখা রয়েছে। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত সংবাদমাধ্যমের কাছে কিছু বলব না।’‌
ভাইস চেয়ারম্যান ছাড়া অন্যদের মধ্যে যাঁদের শোকজ করা হয়েছে তঁারা হলেন— ধূপগুড়ি পুরসভা‌র ৪ কাউন্সিলর মুনমুন বসু, অরূপ দে, গৌতম বসাক ও বিপ্লব ঘোষ। এ ছাড়াও ধূপগুড়ি পুরসভা‌র একজন সরকারি আধিকারিকও দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন বলে অভিযোগ। গোটা ঘটনা নিয়ে তোলপাড় জলপাইগুড়ি‌র রাজনৈতিক মহল। 
ধূপগুড়ি পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান রাজেশকুমার সিং বলেন, ‘‌শোকজের চিঠি পেয়ে আমি সঙ্গে সঙ্গে তার উত্তর দিয়ে‌ছি। আমি চাই, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ রয়েছে আগামী সাতদিনের মধ্যে তার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হোক।’‌ 
কাউন্সিলর গৌতম বসাক বলেন, ‘‌তৃণমূলের কিছু নেতা বিজেপি–র সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। তাই এই ধরনের পদক্ষেপ করা হয়েছে। এটা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র ছাড়া আর কিছুই নয়।’‌ জানা গেছে, অভিযুক্তদের মধ্যে নাগরাকাটা ব্লকের একজন তৃণমূল নেতাও রয়েছেন। 
অন্যদিকে, বিজেপি–র জেলা পার্টি অফিসে‌র জন্য অবৈধভাবে বিল্ডিং প্ল‍্যান পাশের অভিযোগ উঠেছে জলপাইগুড়ি পুরসভা‌র প্রাক্তন চেয়ারম্যান মোহন বসুর বিরুদ্ধে। আরও অভিযোগ, মোহন বসু চেয়ারম্যান থাকাকালীন জলপাইগুড়ি শহরের বেশ কয়েকটি বিল্ডিংয়ের ক্ষেত্রে অবৈধভাবে প্ল‍্যান পাশ করেছেন। কোন পরিস্থিতি‌তে, কী স্বার্থে তা করা হয়েছে, তা নিয়ে তদন্ত করবে পুরসভার প্রশাসক বোর্ড। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে মোহন বসুর বিরুদ্ধে। 
এদিন জেলা তৃণমূলের যুব সভাপতি সৈকত চ‍্যাটার্জি বলেন, ‘‌বিজেপি–র জেলা দপ্তরের জন্য অবৈধ ওই বিল্ডিং প্ল‍্যান পাশ করার বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করবে বর্তমান পুর প্রশাসক। রাজ‍্যের পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের কানেও গিয়েছে এই ঘটনার কথা। তিনি‌ও সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, অবৈধভাবে পাশ করা কোনও বিল্ডিং প্ল‍্যান‌কে বৈধতা দেওয়া হবে না।’‌ জানা গেছে, কয়েক কোটি টাকায় গড়ে উঠতে চলা জলপাইগুড়ি‌র ডিবিসি রোডে বিজেপি–র জেলা পার্টি অফিসের জন্য এই প্ল‍্যান পাশ করা হয়েছিল। এ ছাড়াও কৃষ্ণকুমার কল্যাণীকে মোহন বসু ‘‌চোর’‌ বলেছেন বলে অভিযোগ করেন সৈকত। অভিযোগ প্রমাণ করতে না পারলে মোহন বসুর বিরুদ্ধে‌ আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান সৈকত।

জনপ্রিয়

Back To Top