আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প প্রসারিত করল রাজ্য সরকার। রাজ্যের প্রতিটি পরিবারই এবার এই প্রকল্পের আওতায় চলে এল, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার নবান্নে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের স্মার্ট কার্ড প্রকাশ করেন মমতা ব্যানার্জি। জানান, রাজ্যের কোনও পরিবার বা কোনও ব্যক্তিই আর সরকারি স্বাস্থবিমার আওতার বাইরে থাকবেন না। বাংলা ১০০% মানুষকেই সরকারি স্বাস্থ্যবিমার আওতায় নিয়ে আসা হচ্ছে। কাজের সূত্রে অনেকেই সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের সুবিধে পান। তাঁদের আর আলাদা করে এই কার্ড দেওয়া হবে না। যাঁরা কোনও প্রকল্পের আওতায় নেই, তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হবে স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের স্মার্ট কার্ড। এর জন্য বাড়তি ২ হাজার কোটি টাকা খরচ হবে রাজ্যের। আগামী ১ ডিসেম্বর থেকেই কাজ শুরু হবে। প্রকল্পের সুবিধা পেতে এদিক–সেদিক ছুটোছুটি করতে হবে না। ‘‌দুয়ারে সরকার’‌ প্রকল্পের আওতায় সরকারি কর্মীরাই বাড়ি বাড়ি গিয়ে নাম, ঠিকানা, পরিবারের সদস্য সংখ্যা সহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করবেন। 
এদিন মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা, পরিবারপিছু বার্ষিক ৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত এই প্রকল্পের সুবিধা পাবেন মানুষ। রাজ্যের সব সরকারি হাসপাতালের পাশাপাশি, বহু বেসরকারি হাসপাতাল, দিল্লির এইমস এবং ভেলোরে এই কার্ডের সুবিধা পাওয়া যাবে। যাঁরা ইতিমধ্যেই সরকারি অন্য স্বাস্থ্যবিমার আওতায় আছেন, তাঁরা যদি এই প্রকল্পের সুবিধা চান, তাহলে আগে বর্তমান প্রকল্প ছেড়ে বেরিয়ে আসতে হবে তাঁদের। পাশাপাশি ডিসেম্বর থেকে অঙ্গনওয়াড়ি কর্মীদের ভাতা বাড়ানো হবে এক হাজার টাকা, এদিন জানান মুখ্যমন্ত্রী।   
রাজ্যের নয়া প্রকল্পের বিরোধিতা করেছে বিজেপি ও সিপিএম। বিজেপি মুখপাত্র শমীক ভট্টাচার্য বলেন, কোষাগারে টাকা নেই। মাথায় ঋণের বোঝা। ভোটে জিততে এইসব প্রকল্প নিয়ে আসছে সরকার। সিপিএম পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম বলেন, ‘‌ডিজিটাল রেশন কার্ডই দেওয়া গেল না, যাওয়ার আগে স্বাস্থ্যসাথী কার্ড দেবেন!‌ দেখতে হবে কাটমানি আছে কি না!‌’‌
জিএসটি বকেয়া নিয়ে এদিন ফের মোদি সরকারকে বিঁধেছেন মুখ্যমন্ত্রী। বলেন, ‘‌জিএসটি বাবদ সাড়ে ৮ হাজার কোটি টাকা পায় রাজ্য। বকেয়া না দিয়ে শুধু বড় বড় কথা বলা হচ্ছে। জিএসটি বাবদ টাকা তুলেছ, কেন দেবে না? আম্ফানে বলল দেবে এখনও দিল না। ১০০০ কোটি টাকা যেটা দিয়েছে ওটা অ্যাডভানস। ওটা আবার কেটে নেবে।’‌


 

জনপ্রিয়

Back To Top