আজকাল ওয়েবডেস্ক:‌ ‘‌আমিই তৃণমূলের একমাত্র পর্যবেক্ষক’‌, দলের ‘‌‌বিদ্রোহী’‌ নেতাদের উদ্দেশে বাঁকুড়ার জনসভা থেকে কড়া বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। বলেন, ‘‌সব দেখছি, নজর রাখছি। কারা কাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে, তাও দেখছি। কাজের চাপে একটু ঢিলে দিয়েছিলাম, আর দেব না।’‌ জেলাস্তরে দলের পর্যবেক্ষক পদ তুলে দেওয়া নিয়ে দলের একাংশ নেতা ক্ষিপ্ত। তা নিয়ে ইতিমধ্যেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। জনসভায় গিয়ে নেতৃত্বকে নিশানা করে ভোটের প্রাক্কালে দলের অস্বস্তি বাড়িয়েছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে মমতা ব্যানার্জির এই বার্তাকে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
সিপিএম–কেও কটাক্ষ করে সুপ্রিমো বলেন, ‘‌সিপিএমের হার্মাদরা আজ বিজেপির হার্মাদ। রঙটা শুধু পরিবর্তন হয়েছে, বাকিটা এক আছে। ‌বাঁকুড়ায় একসময় সিপিএম অত্যাচার করত। বহু মানুষ ঘরছাড়া ছিল। জঙ্গলমহলের মানুষ ভয়ে বেরোতে পারত না। বাঁকুড়া কি সেই ভয়ের দিনগুলো ভুলে গিয়েছে? আমি ভুলে যাইনি। জঙ্গলমহলে আমরাই শান্তি ফিরিয়ে দিয়েছি। তৃণমূল কংগ্রেসকে হারানোর জন্য সিপিএম, বিজেপি ও কংগ্রেস আজ এক হয়েছে।’‌
 বিজেপিকে আক্রমণ করে এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌‘ক্ষমতা থাকলে জেলে ভরো, জেলে থেকে জেতাব। বিহারে চালাকি করে জিতেছে ওরা। বিজেপি নেতারা বলছেন, অস্ত্র হাতে তুলে নিতে হবে। যেন মা দুর্গা ওদের এজেন্সি দিয়েছে!‌ উনি তো গোমূত্র খান, করোনা হল কী করে? অপদার্থ রাজনৈতিক দল, দেশের সর্বনাশ করছে। ৪০% বেকার বাড়িয়েছে এই কেন্দ্রীয় সরকার। কয়লা খনি বেচে দিচ্ছে, ডিএ বন্ধ করে দিয়েছে। ১০০ দিনের টাকা সুদে খাটাচ্ছে, তিনমাস পর দিচ্ছে। আগামী দিনে রাজ্যে বিজেপি–সিপিএম–কংগ্রেস নির্মূল হবে। দিল্লি থেকে বাংলার বাইরের লোক এসেছে। যাঁরা যাঁরা বলছেন ‘দেখ লেঙ্গে’, তাঁদের বলছি, ‘পেহলে হামকো আপকো দেখনে দিজিয়ে।’‌ আপানাদের বলতে হবে, ‘গোটা ভারত জিতলেও বাংলাটা পারলাম না।’‌’‌
পাশাপাশি এনআরসি নিয়েও সরব হন মুখ্যমন্ত্রী। আদিবাসী ও তফশিলিদের অভিনন্দন এদিন তিনি বলেন, ‘আমাদের সরকার জনগণের সরকার। আদিবাসীদের জমি ফিরিয়ে দিয়েছি, বিরসা মুণ্ডার জন্মদিনে ছুটি ঘোষণা করেছি। এই সরকার মানুষের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়ার সরকার নয়। এই সরকার মানুষকে দেওয়ার জন্য কাজ করে। কোনও ভুল থাকলে আগামী দিনে তৃণমূল কংগ্রেস তা সংশোধন করে নেবে। দেশের বিভাজন হতে দেব না আমরা। সরকারি হাসপাতালে সব বিনা পয়সায় করে দিচ্ছি। শ্রমিকদের বাড়ি ফেরানোর জন্য ৩০০ ট্রেন ভাড়া নিয়েছি। রাজ্যে ১০০% মানুষ রেশন পাচ্ছেন। জুন মাসের পরে আবার বিনামূল্যে রেশনের ব্যবস্থা করে দেব। বাঁকুড়ার ছেলেমেয়েরা আমাদের গর্ব।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top