তুফান মণ্ডল
আরামবাগ, ৭ আগস্ট

তৃণমূলের এক কর্মীকে মারধরের অভিযোগ উঠল বিজেপি–আশ্রিত দুষ্কৃতীদের বিরুদ্ধে। আশঙ্কাজনক অবস্থায় আরামবাগ মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তিনি। এই ঘটনায়
আরও ৪ জন আহত হয়েছেন। বৃহস্পতিবার রাতে
ঘটনাটি ঘটেছে খানাকুল–২ ব্লকের হরীশচক গ্রামে। 
জানা গেছে, আক্রান্ত তৃণমূল কর্মীর নাম অরূপ বোধক। বাড়ি ওই গ্রামেই। বাড়ির লাগোয়া তাঁর একটি চায়ের দোকান আছে। তিনি দীর্ঘদিন তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত। দলের কর্মসূচিতে তিনি সবসময় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন। ওই এলাকায় বিজেপি প্রভাব বাড়াতে পারছিল না। আর তাই বেশ কিছুদিন ধরেই বিজেপি কর্মীরা তাঁকে হুমকি দিচ্ছিল বলে অভিযোগ। অরূপের দাবি, তাঁর অপরাধ, তিনি তৃণমূল করেন। আর তাই তিনি ঘটনার দিন রাতে যখন বাড়ি ফিরছিলেন তখন বিজেপি–আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে আঘাত করে। মারধর করা হয়। নাক থেতলে যায় তঁার। মাথা ও কপাল ফেটে যায়।
এই খবর ছড়িয়ে পড়তেই স্থানীয় মানুষ তাঁকে খানাকুল গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে সেখান থেকে তাঁকে আরামবাগ মহকুমা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তাঁর শরীরের বিভিন্ন জায়গায় মোট ২২টি সেলাই হয়েছে। এ বিষয়ে তৃণমূলের যুবনেতা তথা খানাকুল–২ পঞ্চায়েত সমিতির পূর্ত কর্মাধ্যক্ষ নুর নবি মণ্ডল বলেন, ‘‌বিজেপি বেশ কিছুদিন ধরেই সন্ত্রাসের রাজনীতি শুরু করেছে। ফেরিঘাটে হামলা চালিয়ে টাকাপয়সা লুঠপাট করছে। এদিনও সন্ধের দিকে সেই কাজ করছিল। এমনকী সেতুর খাজনা আদায়ের ঘরে আগুন ধরিয়ে দেয় ওরা। স্থানীয় তৃণমূল কর্মীরা প্রতিবাদ করেন। তখন বিজেপি–আশ্রিত দুষ্কৃতীরা তাঁদের ওপর চড়াও হয়। এই ঘটনায় মোট ৫ জন তৃণমূল কর্মী আহত হন। অরূপের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তাঁকে আরামবাগ মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। দু’‌জন খানাকুল গ্রামীণ হাসপাতালে ভর্তি। অন্য দু’‌জনকে প্রাথমিক চিকিৎসার পর ছেড়ে দেওয়া হয়।’‌ তিনি আরও বলেন, ‘‌বিজেপি বুঝতে পেরে গেছে, ওদের পায়ের তলায় মাটি নেই। লোকসভা নির্বাচনের সময় যে সব মানুষ ওদের ভোট দিয়েছিলেন, তাঁরাও নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে ওদের কাছ থেকে সরে যাচ্ছে। তাই বিজেপি সন্ত্রাসের রাজনীতি শুরু করেছে। কিন্তু আগামী নির্বাচনে মানুষ এর যোগ্য জবাব দেবেন।’‌ যদিও বিজেপি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। বিজেপি–র খানাকুল বিধানসভার আহ্বায়ক সুব্রত রানা বলেন, ‘‌এই অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমাদের দলের কর্মীদের নামে মিথ্যা বদনাম দেওয়া হচ্ছে। ওরাই বরং আমাদের দলের ৪ জন কর্মীকে মারধর করেছে।’

 

‌আরামবাগে বোমা, খুন তৃণমূল কর্মী
এক তৃণমূল কর্মীকে প্রকাশ্যে বোমা মেরে খুন করা হল আরামবাগের হরিণখোলা ২ নম্বর পঞ্চায়েতের ঘোলতাজপুর গ্রামে। নিহত ওই তৃণমূল কর্মীর নাম ইসরাইল খান ওরফে চন্দন (৪০)। তিনি হরিণখোলা–১ গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান আবদুল আজিজ খানের অনুগামী ছিলেন। চন্দনের বাড়িতে স্ত্রী ছাড়াও এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে। তিনি জরির কাজ করতেন।
চন্দনের স্ত্রী নুরজা আসমিনা বেগম জানান, তাঁর স্বামী দোকানে থেকে ফিরছিলেন। তখন একদল দুষ্কৃতী এলাকায় বোমাবাজি শুরু করে। বোমার আঘাতে গুরুতর জখম হয়ে মাটিতে পড়ে যান ইসরাইল। অভিযোগ, তাঁকে গুলিও করা হয়। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। এছাড়াও তাঁর এক ভাই–সহ বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে যান আরামবাগ এসডিপিও নির্মলকুমার দাস, আরামবাগ থানার আইসি পার্থসারথি হালদার–সহ বিশাল পুলিশবাহিনী। এদিকে ঘটনার প্রতিবাদে এলাকার তৃণমূল কর্মী–সমর্থকরা হরিণখোলায় ২ নম্বর রাজ্য সড়ক অবরোধ করেন। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ দেখান তাঁরা। পুলিশ বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করেছে। এলাকা থেকে বেশ কিছু বোমা উদ্ধার হয়েছে। এদিকে দলীয় কর্মী মৃত্যুর খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছোন তৃণমূলের রাজ্য যুব সহ–সভাপতি শান্তনু ব্যানার্জি।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top