অংশু চক্রবর্তী
বাংলার কৃষি জমির ফসল কী অবস্থায় রয়েছে, তা জানতে উপগ্রহের সাহায্য নিচ্ছে রাজ্য সরকার। সেই ছবি  পৌঁছে যাবে রাজ্যের কৃষি দপ্তরে। ইসরো তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্য দেবে। রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী আশিস ব্যানার্জি জানান, উপগ্রহ থেকে পাঠানো ছবি কোথায় কোথায় যাবে, তার কেন্দ্র তৈরি করা হচ্ছে। গাছ নুইয়ে পড়ছে কিনা অথবা পোকার আক্রমণ হচ্ছে কিনা, তা আরও সহজে জানা যাবে। নেওয়া যাবে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা। তিনি বলেন, ‘‌ইসরোর সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির বৈঠক হয়েছে। কীভাবে এই কাজ হবে, তার রূপরেখা তৈরি। এতদিন মাঠে গিয়ে ফসলের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হত। এখন  উপগ্রহের মাধ্যমে যে ছবি আসবে, তার সাহায্যেই রোগ প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সময় বাঁচবে । এগ্রিকালচারাল ইনসিওরেন্স কোম্পানি গ্রাম ও পঞ্চায়েত স্তরে কৃষকদের সচেতন করবে। মুখ্যমন্ত্রী কৃষকদের জন্য একগুচ্ছ পরিকল্পনা নিয়েছেন। কৃষকদের পাশে মুখ্যমন্ত্রী সব সময় রয়েছেন।’‌
রাজ্যের জমির পরিমাণ বেড়ে গিয়েছে। কৃষকদের আয় আরও বাড়াতে ধান, সবজির পাশাপাশি বিকল্প চাষে আরও জোর দিয়ছে রাজ্য সরকার। বহু জমিকে চাষযোগ্য করে তোলা হয়েছে। সেচের ব্যবস্থা করা হয়েছে। কৃষিমন্ত্রীর বক্তব্য, ‘‌মুখ্যমন্ত্রীর অনলস পরিশ্রমে কৃষকদের আয় তিনগুণের বেশি বেড়ে গিয়েছে। তাঁদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হয়েছে। কৃষকবন্ধুর নতুন দিক খুলে গিয়েছে। যাঁদের এক একর জমি রয়েছে, তাঁরা রাজ্যের কাছ থেকে বছরে পাঁচ হাজার টাকা করে পাচ্ছেন। যাঁদের এক শতক জমি আছে, তাঁরা পাচ্ছেন দু’‌হাজার টাকা। শস্যবিমার পুরো প্রিমিয়াম দিচ্ছে রাজ্য সরকার। ১৮–৬০ বছর বয়সি কোনও কৃষকের মৃত্যু হলে তাঁদের পরিবারকে দেওয়া হচ্ছে ২ লক্ষ টাকা। খরিফ মরশুমে ধান, ভুট্টা এবং পাটের জন্য বিমা করা যাবে। এজন্য কৃষকদের ভোটার কার্ড, ব্যাঙ্কের পাশবই, ফসল রোপণের শংসাপত্র, আধার কার্ড থাকতে হবে। এগুলি নিয়ে এগ্রিকালচারাল ইনসিওরেন্স কোম্পানির অফিস, তাদের প্রতিনিধি এবং কৃষি আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।’
বাংলার বিভিন্ন জেলার কৃষকেরা এখন বিকল্প চাষের দিকে ঝুঁকেছেন। অর্থকরী ফসলের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন তাঁরা। কৃষিমন্ত্রী জানিয়েছেন, জৈব সারের ওপর বিশেষ জোর দিয়েছে কৃষি দপ্তর। রাসায়নিক সারের ব্যবহার যতটা কমানো যায়, তার দিকে লক্ষ রাখা হচ্ছে। কারণ রাসায়নিক সারের দাম বেড়ে গিয়েছে। কৃষি দপ্তর পঞ্চগব্য জৈব সার তৈরি করেছে। এই সার কৃষকেরা নিজেরাই বাড়িতে তৈরি করতে পারেন। এই কাজে কৃষি আধিকারিরদের সাহায্য করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁরা গ্রামে গ্রামে গিয়ে কৃষকদের এই সারের গুণাবলি সম্পর্কে বলছেন। অল্প খরচে এই সার তৈরি করা যায়। তাতে কৃষিজমির উর্বরতা আরও বাড়বে। ফসলের উৎপাদনও আরও বাড়বে।‌

জনপ্রিয়

Back To Top