রিনা ভট্টাচার্য: দরিদ্র, সনাতনী পুরোহিতদের রাজ্য সরকার মাসে এক হাজার টাকা করে ভাতা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল। যাঁদের থাকবার জায়গা নেই, তাঁরা ঘরও পাবেন।
সোমবার নবান্নে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এই সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সনাতনী ধর্মের ব্রাহ্মণ, যাঁরা সারা বছর পুজো করেন কিন্তু খুব বেশি টাকা পান না, আর্থিক সমস্যায়ও রয়েছেন, তাঁদের জন্য সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এরকম ৮ হাজার পুরোহিতের তালিকা আমরা পেয়েছি। তাঁদের প্রতি মাসে এক হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। অক্টোবরে পুজোর মাস থেকেই চালু করার কথা বলেছি। যাঁদের বাড়ি নেই, তাঁদের বাংলা আবাস যোজনায় ঘর করে দেওয়া হবে।’
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, সনাতন ধর্মের ব্রাহ্মণরা অনেক দিন ধরেই আর্থিক সহায়তা দেওয়ার কথা বলছিলেন। মন্দিরে মন্দিরে যাঁরা পুজো করেন, তাঁদের মধ্যে কিছু মানুষ খুবই দরিদ্র। কোনও রকম সাহায্যই তাঁরা পান না। তাঁদের কথা ভেবেই এই সিদ্ধান্ত। সনাতন ধর্মের তীর্থস্থান করার জন্য আমরা কোলাঘাটে এক টাকার বিনিময়ে জমি দিয়েছি। কেউ যেন এই সিদ্ধান্তকে অন্য ভাবে দেখবেন না। আমাদের রাজ্যে ইমাম, মোয়াজ্জেনদের ওয়াকফ বোর্ড থেকে ভাতা দেওয়া হয়। এ নিয়ে অনেকেই বড় বড় কথা বলেন। ওয়াকফ বোর্ড কেন দেবে?‌ আমি বলি ইমাম, মোয়াজ্জেনরা অনেক সামাজিক কাজ করেন। আর ওয়াকফ বোর্ড তো উন্নয়ন বোর্ড। তারা তো উন্নয়নের জন্য টাকা দিতেই পারে। যদি অন্য কোনও ধর্মের, যেমন খ্রিস্টান ধর্মের পাদ্রিরা সহায়তা চান, তাহলে অবশ্যই আমরা করব। মনে রাখতে হবে, আমরা যেমন শ্মশান, কবরস্থান সংস্কার করি, তৈরি করে দিই, তেমনই যদি খ্রিস্টানদের যেখানে কবর দেওয়া হয়, সেগুলিও যদি সংস্কার করে দিতে বলা হয় করে দেব। ইস্কনকে ৭০০ একর জমি দিয়েছি। ওরা সেখানে মন্দির–‌সহ তীর্থস্থান গড়ে তুলবে। নবদ্বীপে সংস্কৃত চর্চা কেন্দ্র গড়ে তোলার কাজ চলছে। কঙ্কালিতলা, ফুরফুরা শরিফ, তারকেশ্বর, তারাপীঠের সংস্কার করেছি। দক্ষিণেশ্বরে স্কাইওয়াক হয়েছে। কালীঘাটেও হবে। আমরা সব ধর্মের পাশে আছি।
সারা বাংলা জুড়ে ছড়িয়ে–‌ছিটিয়ে দুর্গামণ্ডপ, নাটমন্দির, প্রাচীন মন্দির রয়েছে। সেগুলো অবহেলায় পড়ে রয়েছে। কোনও কোনও মন্দির, দুর্গামণ্ডপ ব্যক্তিগত মালিকানায় রয়েছে। অথচ সংস্কার হচ্ছে না। এগুলো বাংলার সংস্কৃতিকে তুলে ধরে। তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তর এই সব প্রাচীন মন্দির, মসজিদ, গুরদোয়ারা, নাটমন্দিরের মানচিত্র তৈরির পরিকল্পনা করেছে। প্রকল্পের নাম ‘‌মহা তীর্থভূমি, মহা পুণ্যভূমি’‌। একটু সময় লাগবে। 

মানচিত্র হয়ে গেলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে কোনটা সরকার নিজে সংস্কার করবে আর কোনটা বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে করবে। কিছু ক্ষেত্রে স্থানীয়দের সাহায্য নেওয়া হবে।
রাঢ় বাংলার সাহিত্য নিয়ে এবার ঘরে বসে গবেষণা করার সুযোগ করে দিচ্ছে রাজ্য সরকার। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বিষ্ণুপুরে বঙ্গীয় সাহিত্য শাখার যে মিউজিয়াম রয়েছে, সেখানে ষোড়শ, সপ্তদশ শতকের ৩ হাজার অপ্রকাশিত পাণ্ডুলিপি রয়েছে। কাব্য, দর্শন, পুরাণের ওপর তুলট কাগজের পুঁথি রয়েছে। এগুলি নষ্ট হয়ে যাচ্ছিল। সেগুলিকে ডিজিটালাইজড করে মহাকরণের গ্রন্থাগারে রাখা হচ্ছে। এগুলি ওয়েবসাইটে আপলোড করে দেওয়া হয়েছে। বিদেশিরাও এর মাধ্যমে গবেষণা করার সুযোগ পাবেন।‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top