আজকালের প্রতিবেদন
‘‌রাজ্যপাল জগদীপ ধনকড় হচ্ছেন সবচেয়ে মিথ্যেবাদী। রাজ্যপালের পদে ইস্তফা দিয়ে তিনি বিজেপি–র রাজ্য সভাপতি হন।’‌ শনিবার তৃণমূল ভবনে মিডিয়া সেন্টারে সাংসদ কাকলী ঘোষদস্তিদার সাংবাদিকদের কাছে এই মন্তব্য করেছেন। পাশাপাশি তিনি বলেছেন, ‘‌করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থ। এই সরকার পদত্যাগ করুক।’‌ এদিন তিনি বলেন, ‘‌ভারতে এখন ভয়ানক পরিস্থিতি চলছে। ভুয়ো খবরে ভরিয়ে দিয়েছে বিজেপি। হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করছে তারা। বাংলার সংস্কৃতির ওপর আঘাত আনছে। বিভিন্ন রাজ্যে নারী ও দলিতদের ওপর নির্যাতন বেড়ে চলেছে। দলিতদের ওরা শুধু নিম্নবর্ণের মানুষই ভাবে। নির্বাচনের সময়ে ভোট চাইতে ওরা দলিতদের বাড়িতে যায়। নির্বাচন মিটে গেলে বিজেপি–র দেখা পাওয়া যায় না।’‌
কাকলির অভিযোগ, ‘‌বিজেপি শাসিত রাজ্যে দলিত, মহিলা ও সংখ্যালঘুরা ভাল নেই। গুজরাটের দাঙ্গায় কত লোককে খুন করা হয়েছিল, তার সঠিক তথ্য আজও পাওয়া যায়নি। গোটা দেশকে বিজেপি ছিন্নভিন্ন করে ফেলেছে। তৃণমূল গণতান্ত্রিক দল। আমাদের নেত্রী মমতা ব্যানার্জি স্বচ্ছ রাজনীতিতে বিশ্বাসী। কর্মীরা ঐক্যবদ্ধ ও শৃঙ্খলাপরায়ণ। করোনা হওয়ার আগে জানুয়ারি মাসে আমরা লোকসভার অধিবেশনে এই রোগটা সম্পর্কে আগাম সতর্ক করে দিয়েছিলাম। ওরা শুনল না। কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধনের সঙ্গে দেখা করে মাস্ক, স্যানিটাইজারের কথা বলেছিলাম। কথাবার্তা শুনে মনে হয়েছিল, তিনি এ সব কিছুই বোঝেন না। নামও শোনেননি। অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। লকডাউনের সময়ে প্রায় ২ হাজার দিনমজুর মারা গেছেন। ট্রেনে আসতে গিয়ে ৮০ জন পরিযায়ী শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। ট্রেনের ভাড়া নিল কেন্দ্র। আমরা কোনও ভাড়া নিলাম না। মানবিক মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের বাংলায় থাকা–খাওয়া ও কাজের ব্যবস্থা করে দিলেন। অর্থনৈতিক উন্নয়ন ২৩.‌৯ শতাংশ। স্রেফ ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য মিথ্যে প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে। নারী সুরক্ষার জন্য আমাদের সরকার বহু উদ্যোগ নিয়েছে। ‘‌কন্যাশ্রী’‌তে ৬৭ লক্ষ ছাত্রী উপকৃত হয়েছে। অত্যাচারী ও মিথ্যেবাদী সরকার বসে আছে। তৃণমূলকে ভয় দেখিয়ে কোনও লাভ নেই।’‌
বিজেপি–র রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষকে আক্রমণ করে কাকলি বলেন, ‘‌সকালে চায়ের সঙ্গে বিস্কুট খেতে খেতে মহিলাদের সম্পর্কে কোনও মন্তব্য তাঁর না করাই ভাল। আমরা অনেক কিছু জানি যা বলতে পারি না। মুখ খুলতে বাধ্য করবেন না। বিজেপি–র নেতারা বাংলার সংস্কৃতি জানেন না। বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছেন। এখানে ভাঙা হয়েছে বিদ্যাসাগরের মূর্তি, ত্রিপুরায় ভাঙা হয়েছে লেনিনের মূর্তি। দলের পদাধিকারীরা সংবিধান মানছেন না। বাইরে থেকে যাঁরা এসেছেন, বাংলা সম্পর্কে তাঁদের কোনও ধারণা নেই। এতে কিছু লাভ হবে না।‌ মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি কৃষকদের পাশে আছেন। তাঁদের জন্য নানান সুযোগ–সুবিধা করে দিয়েছেন। ‘‌স্বাস্থ্যসাথী’‌ কার্ড করে দিয়েছেন। করোনার সঙ্গে লড়াই করছে আমাদের সরকার। আর বিজেপি নেতারা বাংলায় এসে ভাষণ দিয়ে যাচ্ছেন।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top