আজকালের প্রতিবেদন
কোভিড–আক্রান্তের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। এবার তাই আরও কড়া ভাবে জেলাভিত্তিক নজরদারি চালাবে স্বাস্থ্য দপ্তর। তার জন্য স্বাস্থ্য ভবনে নিযুক্ত বিভিন্ন বিভাগের অফিসারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। যে–‌জেলাগুলি থেকে বেশি সংক্রমণের খবর পাওয়া যাচ্ছে, আগে সেখানেই কোভিড পজিটিভ রোগীদের ওপর নজরদারি চালানো হবে। রাজ্যে করোনায় সুস্থতার হার সামান্য বেড়েছে। বৃহস্পতিবার স্বাস্থ্য দপ্তরের বুলেটিন অনুযায়ী, রাজ্যে করোনায় সুস্থতার হার ৮৮.‌‌০২ শতাংশ।
স্বাস্থ্য দপ্তরের নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে কোন্‌ জেলায় কোন্‌ অফিসার এই বিষয়ে নজরদারি করে নিয়মিত রিপোর্ট পাঠাবেন। তঁাদের ভূমিকা হবে লিয়াজঁ অফিসারের। হাওড়া ও হুগলি জেলার দায়িত্বে রয়েছেন ডাঃ সন্তোষকুমার রায়, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরের দায়িত্বে ডাঃ কাজলকুমার মণ্ডল, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও ডায়মন্ড হারবার স্বাস্থ্য জেলার দায়িত্বে ডাঃ শ্যামলী রুদ্র, পূর্ব ও পশ্চিম বর্ধমানে ডাঃ শাস্বতী নাগ, বঁাকুড়া, বিষ্ণুপুর ও পুরুলিয়ার দায়িত্বে রয়েছেন ডাঃ পম্পা চক্রবর্তী, উত্তর ২৪ পরগনা ও বসিরহাট স্বাস্থ্য জেলার নজরদারিতে রয়েছেন ডাঃ বিভাস রায়। সংশ্লিষ্ট জেলায় কোভিডের চিকিৎসার প্রোটোকল, ডায়াগনোসিস ঠিকমতো মানা হচ্ছে কি না, রেকর্ড নিয়মিত নথিভুক্ত করা হচ্ছে কি না, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে মৃত্যু–‌সংক্রান্ত তথ্য বিস্তারিত ভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে কি না, সেই বিষয়ে নজর রাখবেন তঁারা। প্রয়োজনে হাসপাতাল ও সেফ হোমগুলিতে গিয়েও পরিদর্শন করে তঁারা নজরদারি চালাবেন। কোনও জেলায় বা জেলার নির্দিষ্ট কোনও হাসপাতালের বিশেষ কিছু সমস্যা থাকলে অথবা মৃত্যু–‌প্রতিরোধে বিশেষ কোনও ভূমিকা নেওয়া হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখবেন অফিসাররা। জেলার মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকেরা লিয়াজঁ অফিসারদের কাজে সহায়তা করবেন। এই সমস্ত বিষয় নজরদারির পর সংক্ষিপ্ত আকারে নিয়মিত রিপোর্ট প্রতিদিন বিকেল চারটের পর স্টেট ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার অফিসারের কাছে পাঠাতে হবে। কোথাও কোনও ত্রুটি নজরে পড়লে জানাতে হবে। কীভাবে তা শোধরানো যাবে, সে–‌বিষয়েও মতামত জানাতে হবে রিপোর্টে। পরিষেবার মান আরও কীভাবে বাড়ানো যায় এবং মৃত্যুকে কী উপায়ে রোধ করা যাবে, সেই বিষয়েও মতামত পাঠাবেন অফিসাররা। সেই রিপোর্ট নিয়মিত স্বাস্থ্য অধিকর্তাও খতিয়ে দেখবেন। করোনার সংক্রমণ ও মৃত্যু কীভাবে আটকানো যায়, সেটাই এখন মূল লক্ষ্য স্বাস্থ্যকর্তাদের।
গত ২৪ ঘণ্টায় রাজ্যে নতুন করে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন ৩,৯৮৯ জন। মোট আক্রান্তের সংখ্যা এখনও পর্যন্ত ৩ লক্ষ ৬৫ হাজার ৬৯২ জন। এদিন নতুন করে সুস্থ হয়েছেন ৩,৯৪৫ জন। মোট সুস্থ হওয়ার সংখ্যা এ–‌পর্যন্ত ৩ লক্ষ ২১ হাজার ৮৭৩ জন। এদিন মৃত্যু হয়েছে ৬১ জনের। যার ফলে রাজ্যে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দঁাড়াল ৬,৭২৫। এখন সক্রিয় করোনা–‌আক্রান্তের সংখ্যা ৩৭,০৯৪ জন। কলকাতা–‌সহ সব জেলাতেই বাড়ছে সংক্রমণ। এদিন নতুন করে আক্রান্তের যে–‌সংখ্যা পাওয়া গেছে, তার মধ্যে রয়েছেন কলকাতার ৮৯৪, উত্তর ২৪ পরগনার ৮৭৮, দক্ষিণ ২৪ পরগনার ২৫৮, হাওড়ার ২৭৯, হুগলির ১৭৬ ও পশ্চিম মেদিনীপুর ২০০ জন।
অনেকেই ভেবেছিলেন, পুজো মিটতেই ব্যাপক হারে সংক্রমণ বৃদ্ধি পাবে গোটা বাংলা জুড়ে। বিশেষজ্ঞদের অনেকেই তুলে এনেছিলেন কেরালার ওনাম–‌পরবর্তী ফলাফলের কথা। দুর্গাপুজো নিয়ে মামলা দায়ের হয়েছিল কলকাতা হাইকোর্টে। সেই সূত্রেই বাংলার দুর্গাপুজোর সব মণ্ডপকে কনটেনমেন্ট জোন বলে চিহ্নিত করেছিল কলকাতা হাইকোর্ট। আদালতের নির্দেশের জেরে এবারের বাঙালির সাধের দুর্গাপুজো হল দর্শকহীন মণ্ডপেই। 
পুজোর দিন কয়েক আগে থেকেই বাংলায় দৈনিক করোনা সংক্রমণ ছাড়িয়ে যাচ্ছিল চার হাজার। মৃত্যুর সংখ্যাও বাড়ছিল। সেই সঙ্গে আশঙ্কাও। কিন্তু পুজোতে বাঙালি কিছুটা সাবধানী হয়ে চলায় পরপর তিনদিন কমল দৈনিক সংক্রমণ। যা অত্যন্ত সদর্থক বলেই মানছেন বিশেষজ্ঞরা।‌

জনপ্রিয়

Back To Top