আজকালের প্রতিবেদন
এবার থেকে রাজ্যের সব সরকারি হাসপাতালে করা হবে করোনার র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট। এতে দ্রুত রোগীর রিপোর্ট জেনে চিকিৎসা শুরু করা যাবে। সরকারি হাসপাতালের ইমার্জেন্সিতে জ্বর নিয়ে আসা রোগীর করা হবে এই পরীক্ষা। ১৫–৩০ মিনিটের মধ্যেই জানা যাবে পরীক্ষার ফল। স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, রাজ্যে করোনা পরিস্থিতির মধ্যে আবার ডেঙ্গির প্রকোপ দেখা দিতে পারে। জোড়া বিপদের মধ্যে জ্বরে আক্রান্তে রোগী করোনা পজিটিভ কিনা সেটা আগে জানা জরুরি। তাহলে দ্রুত আইসোলেশনে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা করা সম্ভবপর।  সব হাসপাতালের মধ্যে গুরুত্ব ও প্রয়োজন যেখানে বেশি, সেখানে আগে র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট শুরু করা বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যসচিব নারায়ণ স্বরূপ নিগম।
স্বাস্থ্য দপ্তর সূত্রে খবর, যে সব সরকারি হাসপাতালে কোভিড রোগীর চিকিৎসা হচ্ছে সেখানে আগে শুরু করা হবে। এমআর বাঙুর কিংবা কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের মত হাসপাতালগুলিকে আগে গুরুত্ব দিয়ে প্রয়োজনীয় র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন কিট পাঠানোর প্রক্রিয়া কাজ শুরু করতে চলেছে স্বাস্থ্য দপ্তর। ইমার্জেন্সিতে রোগী এলে তার লালারসের নমুনা নিয়ে এই কিটে পরীক্ষা করা হবে। অনেকটা প্রেগন্যান্সি টেস্ট কিটের মত দেখতে। কারও রিপোর্ট পজিটিভ এলে তার করোনা হওয়ার সম্ভাবনা ১০০ শতাংশই থাকে বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
সম্প্রতি আইসিএমআর এই পরীক্ষার মান্যতা দেয়। বলা হয়, কারও রিপোর্ট পজিটিভ হলে সেটা নিশ্চিত বলে গণ্য হবে। তবে ফলাফল যদি নেগেটিভ আসে, তাহলে সংশ্লিষ্ট রোগীর ফের নমুনা নিয়ে আরটি পিসিআর পদ্ধতিতে পরীক্ষা করে যাচাই করতে করতে হবে সত্যিই নেগেটিভ কিনা। ‌
মাইক্রোবায়োলজিস্ট ডাঃ অরিন্দম চক্রবর্তী জানিয়েছেন, র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্টে সিবি ন্যাট, ট্রু ন্যাট, আরটি পিসিআর পদ্ধতির থেকে অনেক তাড়াতাড়ি ১৫ মিনিটের মধ্যে রিপোর্ট জানা সম্ভব। এতে সময় বাঁচবে ও টেস্টের খরচও অনেক কম। রোগীর বেড সাইডেই টেস্ট করা হয়। এই টেস্টে রোগীর লালারস সংগ্রহ করে ভাইরাল এক্সট্র‌্যাকশন মিডিয়ার মধ্যে মিশিয়ে তারপর সেটা টেস্টিং কিট বা ব্যান্ডে ট্রান্সফার করা হয়। ১৫ মিনিটের মধ্যে ওই টেস্ট ব্যান্ডে কোনও দাগ এলে পজিটিভ ধরা হয়। দাগ না এলে নেগেটিভ। পজিটিভ এলে দ্রুত আইসোলেট করা যাবে। নন–কোভিড রোগীদের মধ্যে সংক্রমণ ছড়ানোর আশঙ্কাও কমবে। নেগেটিভ এলে পুনরায় সোয়াব নিয়ে আর–পিসিআর পদ্ধতিতে পরীক্ষা করতে হবে।’‌
 

জনপ্রিয়

Back To Top