স্বদেশ ভট্টাচার্য
টাকি, ১৫ অক্টোবর

ভাঙা দেউল। মাথার ওপর ছাদ নেই। কোথাও পলেস্তারার অবশেষ নেই। ভাঁটুই, আগাছায় ভরে গেছে গোটা চত্বর। বেজি, কাঠবিড়ালি, চড়ুই, শালিকদের নিরাপদ আশ্রয়। ভেতর, বার দালান মিলে ১০ খিলানের বিশাল ইমারতে টাকির ঘোষবাবুদের বৈভবের চিহ্ন আজও স্পষ্ট। সেই ভাঙা দালান আর ক’‌দিন বাদেই মুখর হবে দেবীর আরাধনায়। এখন চলছে তারই প্রস্তুতি। সজল ঘোষ, সোহম ঘোষ, সঞ্জীব ঘোষ, সুপ্রভাত ঘোষ প্রমুখ পরিবারের পুজোর ঐতিহ্য বজায় রাখার দায়িত্ব কাঁধে বহন করছেন। পুজোর সময় ছড়িয়ে–‌ছিটিয়ে থাকা পরিবারের সদস্যরা চলে আসেন টাকিতে। 
এবার করোনা আবহেও টাকির ঐতিহ্যশালী পুজোর আয়োজন করছে ঘোষ পরিবার। টাকির জমিদার বাড়ির দুর্গাপুজোর তথ্য বলছে, আড়াইশো‌ বছর পার করেছে ঘোষবাড়ির দুর্গাপুজো। পরিবারের দাবি, আরও পুরোনো হবে তাদের পুজোর ইতিহাস। এখন সেই জমিদারি নেই বটে কিন্তু সেই বৈষ্ণব মতেই ঘোষবাড়ির দুর্গার পুজো হয়। আগে বন্দুক দেগে সন্ধি পুজো হত। আর ছিল চিনির ভোগ। এখন আর বন্দুক দাগে না বটে কিন্তু অষ্টমীতে চিনির ভোগ আজও দেখার জিনিস। টাকির রাজনীতিতে ঘোষ পরিবারের একটা বড় ভূমিকা ছিল একসময়। সেই সুবাদে নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু এসেছিলেন ঘোষবাড়ির পুজোয়। সেটা ১৯২৮ সাল। বললেন, পরিবারের এক কনিষ্ঠ সদস্য সোহম ঘোষ। নেতাজিকে ঘোষ পরিবার থেকে রূপোর পানের কৌটো উপহার দেওয়া হয়েছিল। পুজো উপলক্ষে ঘোষ বাড়িতে যাত্রা, নাটকের আসর বসত। একবার এসেছিলেন শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়। টাকির অন্য কয়েকটি জমিদার বাড়ি যখন বিক্রি হয়ে গেছে, সে সব ভেঙে তৈরি হয়েছে হোটেল, কিন্তু সে পথে হাঁটেননি এ প্রজন্মের ঘোষবাবুরা। তাঁরা বাড়িটিকে ‘‌হেরিটেজ বিল্ডিং’‌ হিসেবে সংরক্ষণের প্রস্তাব দিয়েছেন বলে জানালেন সোহম। আজও টাকির ইছামতীতে রয়েছে ঘোষবাবুর ঘাট। সেই ঘাটেই প্রতিমা নিরঞ্জন হয়।

জনপ্রিয়

Back To Top