চন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায়, কাটোয়া: হারল করোনা। জিতল জীবন। সফল হল মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির উপসর্গহীন করোনা আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য ‘সেফ হোম’ মডেল। কাটোয়া শহরের ১৭ নম্বর ওয়ার্ডের কাশীগঞ্জপাড়ায় পুরসভার ‘সেফ হোমে’ ১৩ জন চিকিৎসাধীন ছিলেন। তঁারা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে উঠলেন। 
কাটোয়া পুরসভার স্বাস্থ্যকর্মী, সাফাইকর্মী ওই ১৩ জন করোনাজয়ীকে শনিবার ‘সেফ হোমের’ সামনে সংবর্ধনা দিল পুরসভা ও প্রশাসন। ছিলেন পুরপ্রশাসক রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জি, মহকুমাশাসক প্রশান্তরাজ শুক্ল, কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের সুপার রতন শাসমল, থানার আইসি বিকাশ দত্তরা। করোনাজয়ীদের হাতে পুষ্পস্তবক, ফুল, মিষ্টি ও শংসাপত্র তুলে দেওয়া হয়। কোভিড হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে ‘সেফ হোমে’ রেখে চিকিৎসা পরিষেবা দিয়ে সুস্থ করে তোলায় খুশি প্রশাসনের কর্তা থেকে শুরু করে আক্রান্তদের পরিবারের সদস্যরা।
পুরসভা সূত্রে খবর, ২২ জুলাই কাটোয়া পুরসভার স্বাস্থ্যকর্মী, সাফাইকর্মী মিলে ১৯ জন করোনার শিকার হন। এদিকে বর্ধমান ও দুর্গাপুরের কোভিড হাসপাতালগুলিতে বেড অমিল। শেষমেশ কাটোয়াতেই ‘সেফ হোমে’ রেখে চিকিৎসা শুরু হয় আক্রান্তদের। পুরপ্রশাসক রবীন্দ্রনাথ চ্যাটার্জি জানান, ‘দু’বেলা নিয়ম করে ডাক্তারবাবুরা স্বাস্থ্য পরীক্ষা করতেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনে খাবার দেওয়া হত। তাঁদের ফের লালারসের নমুনা পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। রিপোর্ট নেগেটিভ আসতে ছুটি দেওয়া হয়েছে।’ কাটোয়া মহকুমা হাসপাতালের সুপার রতন শাসমল বলেন, ‘করোনা নিয়ে অহেতুক আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এর থেকেও অনেক মারণ রোগ আছে। উপসর্গহীনরা চিকিৎসা বিজ্ঞানের নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম মানলে বাড়িতে বা সেফ হোমে থেকেও সুস্থ হয়ে উঠতে পারেন।’ সদ্য করোনাজয়ী অনিন্দ্যসুন্দর মোদক বলেন, ‘যখন পজিটিভ রিপোর্ট আসে মুষড়ে পড়েছিলাম। আরও ভয় পেয়ে যাই, যখন শুনি, কোভিড হাসপাতালগুলোয় বেড নেই। কিন্তু এখানে সেফ হোমে যেভাবে আমাদের সারিয়ে তোলা হল, তার তুলনা নেই। এটাই প্রচার করব।’ কাটোয়ার কাশীগঞ্জপাড়া ‘সেফ হোমে’ ৬০টি বেড রয়েছে। এই মুহূর্তে চিকিৎসাধীন ১৯ জন। তাঁরাও সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার দিন গুনছেন। লকডাউনের শুরুর দিন থেকে করোনা মোকাবিলায় সামনে থেকে কাজ করা স্বাস্থ্যকর্মী ও পুরকর্মীরা আক্রান্ত হওয়ায় শহরজুড়ে আতঙ্ক তৈরি হয়েছিল। এদিন তঁারা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরায় এলাকায় মানুষের মনোবল বেড়ে গেছে। ‌

জনপ্রিয়

Back To Top