আজকালের প্রতিবেদন: বহু টাকা নিয়ে করোনার পরীক্ষার রিপোর্ট দিত দুই ভাই। এদের সঙ্গে ছিল আরও এক ব্যক্তি। সম্প্রতি এক ব্যাঙ্ক ম্যানেজার ওই সংস্থা থেকে করোনা পরীক্ষা করান। তাঁর রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। কিন্তু কিছুদিন পরে তিনি অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। তাঁর রিপোর্ট পজিটিভ আসে। কিছুদিন পর মারাও যান। ওই ব্যাঙ্ক ম্যানেজারের পরিবার সংস্থার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ জানায়। পুলিশ তদন্তে নেমে বিশ্বজিৎ শিকদার ও ইন্দ্রজিৎ শিকদার নামে দুই ভাইকে গ্রেপ্তার করে। জানা গেছে, ধৃতদের বাবা কলকাতা পুলিশের কর্মী। এদের কাছ থেকে কিছু বেআইনি কাগজপত্র ও আইডেন্টিটি কার্ডও উদ্ধার হয়েছে। এরা আইসিএমআরের শংসাপত্র নকল করে মাথাপিছু ২ হাজার টাকা করে নিয়ে করোনা পরীক্ষা করাত। প্রতি ক্ষেত্রেই রিপোর্ট দিত নেগেটিভ। হাতে লিখে রিপোর্ট দিত। কীভাবে আইসিএমআরের কাগজ এই চক্রের কাছে গেল, তা দেখছে পুলিশ। প্রতি ক্ষেত্রেই নেগেটিভ রিপোর্ট দেওয়ার অর্থ হল, যাতে অধিকাংশ মানুষ তাদের ফাঁদে পা দেয়। পুলিশ বলছে, এদের মোডাস অপারেন্ডিও নতুন ধরনের। এদের সঙ্গে এক শ্রেণির ডাক্তারের যোগাযোগ রয়েছে বলেও সন্দেহ পুলিশের। এই দুই ভাই কীভাবে করোনা পরীক্ষা করা শিখল, তা–ও এক আশ্চর্যের বিষয়।
সম্প্রতি এরা একটি স্বীকৃত সংস্থায় ল্যাব টেকনিশিয়ান হিসেবে কাজ শুরু করেছিল। পাশাপাশি বাইরে একটি সংস্থা খুলে এ ধরনের প্রতারণা করত। যে সংস্থার হয়ে তারা ভুয়ো শংসাপত্র দিত, সেই সংস্থার মালিককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সংস্থার যে মালিককে পুলিশ গ্রেপ্তার করেছে, আর কোন কোন জায়গায় সে এই ধরনের ভুয়ো সংস্থা খুলেছে তা দেখা হচ্ছে। দুই ভাইকে শনিবার আদালতে তোলা হলে, ৩ আগস্ট পর্যন্ত পুলিশ হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।‌

জনপ্রিয়

Back To Top