গৌতম মণ্ডল
কাকদ্বীপ, ১৯ অক্টোবর

আমফানের স্মৃতি এখনও দগদগে। লকডাউন ও আমফানের জোড়া ফলায় বিপর্যস্ত জীবন। এরমধ্যে চলে এসেছে বাঙালির দুর্গোৎসব। সুন্দরবন জুড়ে এখনও আমফানের ক্ষত ইতিউতি চোখে পড়ে। সরকারি সাহায্যে আমফানের ক্ষত অনেকটা সামলে নিয়েছেন এখানকার বাসিন্দারা। দুর্যোগের জোড়া ফলায় বিদ্ধ হয়েও পুজোর কয়েকটি দিন সব যন্ত্রণা ভুলে থাকতে চাইছেন সুন্দরবনবাসী।
ইতিমধ্যে কাকদ্বীপের অমৃতায়ন সঙ্ঘ ও রবীন্দ্র সঙ্ঘের পুজোর উদ্বোধন করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। এছাড়াও কাকদ্বীপের বর্ণালি সঙ্ঘ, বিধান সঙ্ঘ, কিশোর সঙ্ঘ, ইয়ং ফাইটার্সের পুজো বরাবর নজর কাড়ে। এবারও পুজোর আয়োজন হচ্ছে। তবে আড়ম্বরহীনভাবে। পাশাপাশি নামখানা, সাগর, পাথরপ্রতিমাতেও পুজোর আয়োজন শেষের পথে। কাকদ্বীপ অমৃতায়ন সঙ্ঘের পুজো বরাবর নজরকাড়া। এখানে থিমপুজো হয়। পঁয়ত্রিশতম বছরের পুজো এবার। এবছর সাদামাঠা প্যান্ডেল হচ্ছে। পুজো কমিটির সম্পাদক বাদল মাইতি বলেন, ‘‌করোনা ও আমফানের জোড়া ফলায় বিপর্যস্ত এখানকার মানুষ। উপচার মেনেই শুধু পুজোটুকু হবে।’‌ পাশাপাশি আড়ম্বরহীন পুজো আয়োজন চলছে সাগর, নামখানা, পাথরপ্রতিমাতে। নামখানার শ্রীদুর্গা আইডল অ্যাসোসিয়েশন ও গণেশনগর সর্বজনীন শারদীয়া দুর্গোৎসব কমিটিও বাজেট কমিয়ে পুজোর আয়োজন করেছে। আমফানে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এই এলাকা। সাগরের শ্রীধাম সর্বজনীন দুর্গোৎসব ও রুদ্রনগর সর্বজনীন দুর্গোৎসবে এবার বাজেট কমানো হয়েছে। এই দুটি পুজো ছিল সাগরের অন্যতম আকর্ষণীয়। পাথরপ্রতিমার পুজোতে দ্বীপাঞ্চলের মানুষ প্রতিবছর উৎসবে মেতে ওঠেন। মহিলারা উদ্যোগ নিয়ে চাঁদা তোলেন। কিন্তু এবছর সবকিছু আলাদা। লকডাউনে কাজ নেই বেশিরভাগ মানুষের। ভিনরাজ্যে কাজ করা যুবকেরা বাড়ি ফিরে এসেছেন। আমফানেও সব কেড়েছে। তাই জি-‌প্লট উত্তর সুরেন্দ্রগঞ্জের পুজোয় এবার জাঁকজমক কমেছে।

জনপ্রিয়

Back To Top