মিল্টন সেন: জমি সংক্রান্ত বিবাদেই খুন হন ব্যান্ডেলের তৃণমূল নেতা দিলীপ রাম। টানা ২ মাস তদন্ত চালিয়ে শুক্রবার ৩ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারের পর এমনটাই জানতে পেরেছে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেট। উত্তর ২৪ পরগনার টিটাগড় এলাকার ভাড়াটে খুনিকে ৩ লক্ষ টাকা ‘‌সুপারি’ দিয়ে ‌দিলীপকে খুন করানো হয়। ঘটনার আগে টানা ৩ মাস চলে রেইকি।
শুক্রবার রাতে হুগলি–সহ উত্তর ২৪ পরগনার একাধিক জায়গায় তল্লাশি চালিয়ে খুনে অভিযুক্ত মঙ্গল যাদব, বৈদ্যনাথ রায় ওরফে হেডেক এবং মহম্মদ নাসিম ওরফে গুড্ডুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। একটি ৯ এমএম রিভলভার, ২টি পাইপগান ও ১১ রাউন্ড তাজা কার্তুজের পাশাপাশি তাদের কাছ থেকে উদ্ধার হয়েছে যে গুলিতে দিলীপকে খুন করা হয়েছিল সেটির খোল। খুনের সময় ব্যবহার করা মোবাইলের বাক্স উদ্ধার হয়েছে। মোবাইলটি আগেই নষ্ট করা হয়। শনিবার ধৃতদের চুঁচুড়া জেলা আদালতে তোলা হয়েছে। এদিন পুলিশ কমিশনার হুমায়ুন কবির জানিয়েছেন, খুনের মোটিভ পরিষ্কার। এই ঘটনার মাস্টার মাইন্ড ব্যান্ডেলের শকুন্তলা যাদব ওরফে সমুন্দ্রি। ব্যান্ডেল পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন একটি জমির ওপর দিলীপ ও শকুন্তলা, দু’‌জনেরই নজর ছিল। তাই পথের কাঁটা দিলীপকে সরাতেই এই খুনের পরিকল্পনা। শকুন্তলার খোঁজে তল্লাশি চলছে। কমিশনার আরও জানান, ধৃতদের জেরা করে জানা গেছে, প্রথমে ওই কাজের জন্য টিটাগড়ের ভাড়াটে খুনি মহম্মদ নাসিম ওরফে গুড্ডুর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। তার সঙ্গে ৩ লক্ষ টাকার চুক্তি হয়। শকুন্তলা দেড় লক্ষ টাকা অগ্রিম দেয় নাসিমকে। বাকি টাকা কাজ শেষে দেওয়ার কথা ছিল। ঘটনার আগে প্রায় ৩ মাস ধরে টানা রেইকি চলে। দিলীপ কখন ট্রেন ধরতে যান, রেললাইন টপকে যেখান দিয়ে প্ল্যাটফর্মে ওঠেন সেখানে সিসি ক্যামেরা আছে কিনা, কখন ঘর থেকে বেরোতেন, কোথায় যেতেন— এসবের খোঁজ নেওয়া হয়। এই রেইকি করার দায়িত্ব ছিল শকুন্তলার ছেলে মঙ্গল এবং বৈদ্যনাথ রায় ওরফে হেডেকের ওপর। বৈদ্যনাথ শকুন্তলার বাড়িতে কাজ করত।
ব্যান্ডেল গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান রীতু সিংয়ের স্বামী তৃণমূল নেতা দিলীপ রাম খুন হন ২৯ জুন। সকাল সাড়ে ৯টা নাগাদ ব্যান্ডেল স্টেশনে ৫ নম্বর প্ল্যাটফর্মে ওঠার সময় রেললাইনে তাঁকে খুব কাছ থেকে গুলি করা হয়। ঘটনায় ব্যান্ডেল জিআরপি থানায় বিজু পাসোয়ান, অর্জুন সিং এবং সঞ্জয় মিশ্র— এই তিনজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন রীতুদেবী। ঘটনার জেরে ব্যান্ডেল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ দীপশ্রী সেনগুপ্ত, চুঁচুড়া থানার আইসি নিরুপম ঘোষকে বদলি করা হয়। সরিয়ে দেওয়া হয় চন্দননগর কমিশনারেটের তৎকালীন পুলিশ কমিশনার অখিলেশ চতুর্বেদীকেও। সে জায়গায় আসেন হুমায়ুন কবির। এর পরই বিহারের পাটনা থেকে ধরা পড়ে সঞ্জয় মিশ্র। আদালতে আত্মসমর্পণ করে অর্জুন সিং। তবে এখনও অধরা বিজু পাসোয়ান। ব্যান্ডেলের কুখ্যাত দুষ্কৃতী লালা পাসোয়ানের ভাই বিজু গত পঞ্চায়েত নির্বাচনে বিজেপি–র প্রার্থী ছিল। রেলে চাকরি করলেও ব্যান্ডেলে তৃণমূলের শক্তিশালী নেতা ছিলেন দিলীপ। তাঁর স্ত্রী এবং তৃণমূলের তরফে দাবি করা হয়েছিল, রাজনৈতিক কারণে বিজেপি–র লোকজন তাঁকে খুন করেছে। যদিও বিজেপি সেই দাবি নাকচ করে। এদিকে, ঘটনায় কর্তব্যে গাফিলতির অভিযোগে কমিশনারেটের ক্রাইম ব্রাঞ্চের এএসআই উৎপল গুপ্তাকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।

জনপ্রিয়

Back To Top