কাকলি ‌মুখোপাধ্যায়, প্রিয়দর্শী বন্দ্যোপাধ্যায়
কন্টেনমেন্ট জোনের সংখ্যা কমল কলকাতা ও হাওড়ায়। রাজ্য সরকারের মাইক্রোপ্ল্যানিং এবং নাগরিক সচেতনতার কারণেই এটা সম্ভব হয়েছে বলে বিশেষজ্ঞদের ধারণা। সংক্রমণকে নির্দিষ্ট এলাকার মধ্যে গণ্ডিবদ্ধ করে ফেলতে সক্ষম হয়েছেন প্রশাসনিক কর্তারা। এর পর শুধু সেই এলাকাগুলিকেই কন্টেনমেন্ট জোন হিসেবে ঘোষণা করে সংক্রমণকে আটকে দেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য দপ্তর, পুলিশ ও পুর নিগম বা স্থানীয় প্রশাসনের সম্মিলিত প্রয়াসেই করোনার প্রকোপ কমিয়ে ফেলা সম্ভব হয়েছে।
কলকাতা পুরসভার সাম্প্রতিক তালিকা অনুযায়ী, পুর এলাকায় ৩টি কন্টেনমেন্ট জোন রয়েছে। বরো ৮–এর ৮৭ এবং ৯০ নম্বর ওয়ার্ডে রয়েছে একটি করে কন্টেনমেন্ট জোন। ১৬ নম্বর বরোর ১২৬ নম্বর ওয়ার্ডে রয়েছে কন্টেনমেন্ট জোন। এর মধ্যে টালিগঞ্জ ও রবীন্দ্র সরোবর এলাকার দুটি আবাসন রয়েছে। ক্ষুদিরাম পল্লি ও সখের বাজার এলাকার দুটি বস্তি রয়েছে এই কন্টেনমেন্ট জোনের তালিকায়। পুরসভার প্রধান প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম জানিয়েছেন, কলকাতায় সংক্রমণ অনেক কমেছে। এখন শহরে ৩টি কন্টেনমেন্ট জোন রয়েছে। যেখানে সংক্রমণের হার বেশি, এখন সেই এলাকাগুলিকেই কন্টেনমেন্ট জোনের তালিকায় রাখা হচ্ছে।
এপ্রিল থেকে কোভিড–১৯ অতিমারীর বিরুদ্ধে লড়াই চলছে। ১১ মে শহরে কন্টেনমেন্ট জোনের সংখ্যা ছিল ৩৩৮টি। ৫ সেপ্টেম্বর সেই সংখ্যা নেমে দঁাড়ায় ১–‌এ। সংক্রমিত এলাকার বেশির ভাগই ছিল উত্তর ও মধ্য কলকাতার ওয়ার্ডগুলি। ঘিঞ্জি, জনবসতিপূর্ণ এলাকা, বস্তি, বাজারগুলি পুরসভার মাথাব্যথার কারণ হয়ে ওঠে। কারণ ওই সব জায়গাতেই করোনা–‌আক্রান্তের সংখ্যা বেশি হতে থাকে। এ নিয়ে রীতিমতো চিন্তায় পড়ে যায় পুর–‌প্রশাসন। রাজ্য সরকারের মাইক্রোপ্ল্যানিংকে কার্যকর করে সাফল্য মেলে পুরসভার। মাইক্রোপ্ল্যানিং করে কন্টেনমেন্ট এলাকাগুলি প্রথম থেকেই বঁাশ বা গার্ডরেল দিয়ে ঘিরে রাখা হচ্ছিল। ওই সব এলাকার বাসিন্দাদের বাড়ি থেকে বেরোনোয় রাখা হচ্ছিল কড়া নিয়ন্ত্রণ। বসে পুলিসি পাহারাও। ওই সব অঞ্চলের বাজার–‌হাট বন্ধ করে দেওয়া হয়। প্রতিটি ওয়ার্ডে শুরু হয় স্বাস্থ্য–‌সমীক্ষা, সোয়াব টেস্ট। বিশেষ করে বস্তি, ঘনবসতি এলাকা, বাজারে নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হয়। বাড়ানো হয় জনসচেতনতা। বস্তি এলাকায় আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানোর পাশাপাশি পরিবারগুলিকে কোয়ারেন্টিন সেন্টারে পাঠানো হয়। কারণ, বস্তি অঞ্চলে সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভবই নয়। পরে এলাকাভিত্তিক কন্টেনমেন্ট জোন শুরু হয়। পাড়া বা এলাকা নয়, যে–‌বাড়ি, আবাসন কিংবা ফ্ল্যাটে কেউ আক্রান্ত হয়েছেন, সেই আবাসন, ফ্ল্যাট বা ওই বাড়িটি কন্টেনমেন্ট জোন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
এই মুহূর্তে হাওড়া পুর এলাকায় মাত্র ৫টি ক‌ন্টেনমেন্ট জোন রয়েছে। বালি, বেলুড় এলাকায় একটিও ক‌ন্টেনমেন্ট জোন নেই। ‘নিউ নর্মাল’ পর্যায়ে ধীরে ধীরে হাওড়ার জনজীবন স্বাভাবিকের দিকে এগোচ্ছে। বৃহস্পতিবার থেকে হাওড়া জেলায় ক‌ন্টেনমেন্ট জোনের সংখ্যা কমে হয়েছে ৫০। এই মুহূর্তে হাওড়ায় ক‌ন্টেনমেন্ট জোনের সংখ্যা উলুবেড়িয়া মহকুমাতেই কিছুটা বেশি। ৩৫টি। তার মধ্যে শ্যামপুরে ১৭টি। তবে শহরে সংক্রমণের হার অনেকটা কমে যাওয়ায় কমেছে ক‌ন্টেনমেন্ট জোনের সংখ্যা। হাওড়া পুর এলাকার ১, ৬, ১৭, ২৯ ও ৪৫ নম্বর ওয়ার্ডে মাত্র একটি করে এলাকা এখন ক‌ন্টেনমেন্ট জোনের আওতাভুক্ত। টেস্টের সংখ্যা বেড়েছে। কিন্তু সেই অনুপাতে সংক্রমণের হার কমেছে। এটাকে ধরে রাখাই এখন প্রশাসনের কর্তাদের কাছে বড় চ্যালেঞ্জ।

জনপ্রিয়

Back To Top