দীপঙ্কর নন্দী
বিজেপি–‌র সর্বভারতীয় সভাপতি জেপি নাড্ডাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জি।
শুক্রবার জেপি নাড্ডা বিভিন্ন ইস্যু নিয়ে বাংলাকে আক্রমণ করেন। জবাবে পার্থ বলেন, ‘‌জেপি নাড্ডার বক্তব্য সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। অসত্য কথা বলে বাংলার মানুষকে বিভ্রান্ত করবার চেষ্টা করেছেন। নাড্ডা বাংলাকে নিয়ে যে সমস্ত মন্তব্য করেছেন, বাস্তবের সঙ্গে তার কোনও সম্পর্ক নেই। তিনি ভুল তথ্য দিয়েছেন। নাড্ডা বলেছেন, বাংলায় দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাঁরা লড়বেন। বিজেপি–‌র নেতারা দুর্নীতির প্রমাণ দিন। প্রকাশ্যে এসে সব বলুন। বাংলায় মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির নেতৃত্বে সরকার চলছে। উন্নয়ন হচ্ছে। এখানে কোনও দুর্নীতি নেই। বাংলায় সঠিক নীতি মেনে কাজ হয়। এই নীতি তৈরি করেন মমতা ব্যানার্জি।’‌
পার্থ এদিন বলেছেন, ‘‌বিজেপি নেতারা বলছেন, কেন্দ্র নাকি এ রাজ্যে আনাজ পাঠিয়েছে। কোভিড আক্রান্তদের জন্য সাহায্য করেছে। কোথায়?‌ কিছুই তো দেখতে পাচ্ছি না। আমফানের টাকা কোথায় গেল? করোনার বিরুদ্ধে তো লড়াই করছেন মুখ্যমন্ত্রী। ‌আমফানে ক্ষতিগ্রস্তদের ত্রাণের ব্যবস্থা করেছেন। আমফানের টাকা আর এল না কেন?‌ পরিযায়ী শ্রমিকদের জন্যই বা বিজেপি কী করল?‌ মুখ্যমন্ত্রী তো চেয়েছিলেন, প্রতিটি পরিযায়ী শ্রমিকের হাতে কেন্দ্র ১০ হাজার করে টাকা দিক। দেওয়া তো হলই না, উল্টে কুৎসা, অপপ্রচার করছে।’‌
পার্থ বলেন, ‘‌কেন্দ্রে তো বিজেপি সরকার আছে। দেশে যে পরিমাণ বেকার বেড়েছে, তার তুলনায় বাংলায় বেকারের সংখ্যা অনেক কম। মুখ্যমন্ত্রীর জন্যই তা সম্ভব হয়েছে। কৃষকরা কীভাবে আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হয়েছিলেন তা বিজেপি–‌র নেতারা সবই জানেন। মুখ্যমন্ত্রীই কৃষকদের মুখে হাসি ফুটিয়েছেন। তাঁদের জন্য নানা রকম প্রকল্প চালু করেছেন। খড়কুটোর মতো দু–চারটে বক্তৃতা দিয়ে মানুষের মন পাওয়া যায় না। বাংলার ৫৩ হাজার কোটি টাকা কেন্দ্রের কাছে এখনও পাওনা। সেই টাকা এখনও দেওয়া হল না। নাড্ডা নিশ্চয়ই এসব জানেন!‌ বাংলায় দুর্নীতির রব তুলে কোনও লাভ নেই। এখানে মাথায় আছেন মুখ্যমন্ত্রী, আছে সঠিক নীতি। তিনি সব সময় সাধারণ মানুষকে নিয়ে চলেন। 

 

তাঁদের স্বার্থ রক্ষার জন্য তিনি ২৪ ঘণ্টা পরিশ্রম করেন। করোনায় বাংলায় মৃত্যুর হার কমছে। নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ছে। বেডের সংখ্যা বেড়েছে। আরও চিকিৎসক নেওয়া হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী চেষ্টা করছেন আক্রান্তদের সুচিকিৎসা দিতে। বাংলার নেতারা বড় বড় ভাষণ দিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করছেন। আগামী দিনে মানুষ এর যোগ্য জবাব দেবেন। বাংলায় নাড্ডার বক্তব্যের কোনও প্রভাব পড়বে না। বিজেপি কেমন দল তা সবাই জানে।
এদিকে এদিন আসানসোল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের কর্মী ও বিশিষ্ট সমাজসেবী চন্দ্রশেখর কুণ্ডু এদিন তৃণমূল ভবনে এসে দলে যোগ দিলেন। সমাজসেবী চন্দ্রশেখরের হাতে দলের পতাকা তুলে দেন তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চ্যাটার্জি। ছিলেন রাজ্যের মন্ত্রী মলয় ঘটক ও আসানসোলের মেয়র জিতেন্দ্র তিওয়ারি। পার্থ বলেন, ‘‌চন্দ্রশেখরবাবু সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে, নিঃস্বার্থভাবে কাজ করছেন। তিনি মমতার উন্নয়নের সঙ্গে শামিল হতে চান। আমরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির সঙ্গে কথা বলে তাঁকে দলে যোগ দিতে বলি। এভাবেই বাংলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে অন্য দলের অনেকেই তৃণমূলে যোগ দিতে চাইছেন। তাঁরা মনে করেন, মমতা বাংলার উন্নয়নের প্রতীক। জঙ্গলমহলের আরও উন্নয়ন হচ্ছে।’

জনপ্রিয়

Back To Top