গৌতম চক্রবর্তী: পেশাদার খুনিকে হার মানিয়েছে সোনারপুর জোড়া খুনে অভিযুক্ত গুণধর জামাই। জোড়া খুন করার পরও নির্বিকার চিত্তে হাওড়ার লিলুয়ায় বন্ধুর বাড়িতে থাকছিল সে। লকডাউনে কাজ নেই এবং স্ত্রীর সঙ্গে ডিভোর্স হয়েছে, এই গল্প সাজিয়ে আশ্রয় নিয়েছিল বন্ধুর কাছে। দিব্যি একটি কারখানায় কাজও করছিল। কিন্তু শেষরক্ষা হল না। মোবাইলের কল লিস্ট ধরে খোঁজ করে অভিযুক্ত রমেশ পণ্ডিতের ওই বন্ধুর খোঁজ মেলে। পুলিশ তার বন্ধুকে রমেশের কীর্তির কথা জানায়। তাঁর সাহায্যেই অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে সোনারপুর থানার পুলিশ। টানা ১৯ দিনের তদন্ত শেষে সুভাষগ্রামের সুকান্ত সরণিতে স্ত্রী এবং শ্বশুরকে নৃশংস খুনের কিনারা হল। রমেশ পুলিশকে জানায়, স্ত্রী ব্যস্ত থাকতেন তাঁর পোষ্য কুকুর ও বিড়ালদের নিয়ে। এটা পছন্দ ছিল না তার। পোষ্য বিড়াল তাদের সাড়ে ৩ বছরের কন্যাসন্তানকে আঁচড়ে দিয়েছিল। তা নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে প্রচণ্ড ঝগড়াও হয়। ইদানীং দাম্পত্য সম্পর্কেরও চরম অবনতি হয়েছিল। শারীরিক সম্পর্কে রাজি হচ্ছিলেন না স্ত্রী। এ সব কারণেই স্ত্রীকে খুনের সিদ্ধান্ত। তবে স্ত্রীর পালক পিতা অর্থাৎ শ্বশুর বাসুদেব গাঙ্গুলিকে খুনের কারণ অন্য। সম্পত্তির লোভেই তাঁকে খুন করে রমেশ। সে জানায়, তাকে লুকিয়ে সম্পত্তি বিক্রির পরিকল্পনা করেছিলেন বৃদ্ধ শ্বশুর। প্রতিশোধ নিতেই খুন। ৭৫ বছর বয়সি বাসুদেব গাঙ্গুলি শিশু সাহিত্য সংসদে কাজ করতেন। বিয়ে করেননি। ছোট্ট সুনীতাকে পালন করেন তিনি। ৫ বছর আগে রমেশ পণ্ডিতের সঙ্গে সুনীতার বিয়ে দেন। ইদানীং রমেশের বৃদ্ধা মা–ও ছেলের শ্বশুরবাড়িতে থাকতে শুরু করেন। ১১ জুলাই বাসুদেববাবুর বাড়িতে ফুল তুলতে গিয়ে এক প্রতিবেশী দেখেন, ঘরের দরজা খোলা। মেঝে ও বিছানায় পড়ে রয়েছে সুনীতা ও তাঁর পালক পিতার রক্তাক্ত দেহ। পুলিশ জানিয়েছে, মদের ভাঙা বোতল দিয়ে সুনীতাকে গলায় আঘাত করে রমেশ। ধারালো অস্ত্র দিয়ে বাসুদেববাবুর শরীরে একাধিক কোপ বসায়। কেটে দেওয়া হয় তাঁর যৌনাঙ্গও। এর পরই রক্তমাখা জামাকাপড় বাথরুমে ছেড়ে রেখে পালায় রমেশ।                        ছবি:‌ প্রতিবেদক‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top