আজকালের প্রতিবেদন: কাজের পরিধি বাড়াতে সোমবার রাজ্যে হিন্দি আকাদেমি পুনর্গঠন করা হল। তৈরি করা হল দলিত সাহিত্য আকাদেমি। এই সিদ্ধান্ত ঘোষণা করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। একই সঙ্গে এদিন তিনি কেন্দ্রের উদ্দেশে টুইট করে বাংলাকে ‘‌ধ্রুপদী ভাষা’‌ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
হিন্দি দিবস উপলক্ষে মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এ রাজ্যে হিন্দিভাষা, সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চা বাড়াতে হিন্দি আকাদেমি পুনর্গঠন করার সিদ্ধান্ত নিলেন। এদিন নবান্নে বলেন, ‘‌বাংলা সব ভাষাকেই ভালবাসে। আমাদের মাতৃভাষা বাংলা। কিন্তু আমরা সব ভাষাকে সম্মান করি। ২০১১ সালেই হিন্দি আকাদেমি গঠন করা হয়েছিল। তবে এই আকাদেমির কাজের পরিধি বাড়াতে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে।’‌ হিন্দি দিবসে সমস্ত হিন্দিভাষীর প্রতি শুভেচ্ছা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌হিন্দি আকাদেমির চেয়ারপার্সন  হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে প্রাক্তন সাংসদ ড.‌ বিবেক গুপ্তাকে। কো–‌চেয়ারপার্সন হচ্ছেন আইপিএস এমকে সিং। দীনেশ বাজাজ, বিজয় ভারতী, রূপা গুপ্তা, রীতা চৌধুরি–‌সহ আকাদেমির সদস্য সংখ্যা ২৩।’‌ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলায় প্রচুর হিন্দি ভাষাভাষীর মানুষ বাস করেন। ‌তবে শুধু হিন্দিই নয়, উর্দু, অলচিকি, কামতাপুরি, রাজবংশী, কুরুক–‌সহ একাধিক ভাষাকে সম্মান দিয়েছে রাজ্য সরকার।’‌
শুধু সরকারিভাবেই নয়, তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও এদিন হিন্দি সেল গঠন করা হয়। এই সেলের চেয়ারম্যান করা হয়েছে রাজ্যসভার সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদীকে। রাজ্যস্তরে কেন্দ্রীয় সমন্বয় কমিটি তৈরি করা হয়েছে। জেলাস্তরে ও ব্লকস্তরেও কমিটি তৈরি হবে। এদিন এক টুইটে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌বাংলা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের আদর্শে বিশ্বাসী‌। বৈচিত্রের মধ্যে ঐক্যের কথা বলেছিলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। তাঁর সেই আদর্শকেই মান্যতা দেয় রাজ্য সরকার। হিন্দি ভাষা, সাহিত্য সংস্কৃতিকে আরও শক্তিশালী করতে রাজ্য সরকার অনেক উদ্যোগ নিয়েছে। ভবিষ্যতেও নেবে।’‌
এদিন মুখ্যমন্ত্রী দলিত ‌সাহিত্য, প্রাচীন লোকসংস্কৃতির চর্চায় জোর দিতে রাজ্যে দলিত সাহিত্য আকাদেমি তৈরির কথা জানান। এই সাহিত্য আকাদেমির চেয়ারম্যান মনোরঞ্জন ব্যাপারি, কুমার রানা, তৃপ্তি সান্ত্রা, বিজয় বর্মন, বকুল বৈরাগী–‌সহ ১৪ জনকে আকাদেমির সদস্য করা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘‌এই আকাদেমিতে নমশূদ্র, মতুয়া, পৌন্ড্র, ক্ষত্রিয়, বাগদি, বাউরি, ডোম, মাঝি সকল গোষ্ঠীর প্রতিনিধি থাকবেন। এর বাইরেও কোনও গোষ্ঠী থাকলে তাঁদের প্রতিনিধিদেরও এই আকাদেমিতে রাখা হবে।’‌ মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌দলিত সাহিত্যের একটা ধারা বাংলা সাহিত্যে জায়গা করে নিয়েছে। এই সাহিত্য যাতে আরও ভাল ভাবে চর্চা করা যায় তাই রাজ্য পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই আকাদেমির কাজই হবে দলিত সাহিত্যের চর্চা বাড়ানো, দলিত উদ্বাস্তুদের মর্মযন্ত্রণা তুলে ধরা, দলিত মনীষীদের রচনাবলী প্রকাশ করা, দলিত সাহিত্য নিয়ে গ্রন্থাগার তৈরি করা।’‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top