বিভাস ভট্টাচার্য: নিজেদের উৎপাদিত খাদ্যদ্রব্য ও সর্ষের তেল এবার বাণিজ্যিকভাবে খোলা বাজারে বিক্রি করতে চায় রাজ্য কারা দপ্তর। এর জন্য রাজ্য সরকারের থেকে নেওয়া হবে প্রয়োজনীয় লাইসেন্স। সুদৃশ্য মোড়কে ওই পণ্য পৌঁছে দেওয়া হবে রাজ্যের বিভিন্ন বাজারে। বিক্রির টাকা কাজে লাগানো হবে সংশোধনাগারের উন্নতিতে। 
এ বিষয়ে রাজ্য কারা দপ্তরের এক আধিকারিক বলেন, সংশোধনাগারের আবাসিকদের বিভিন্ন কাজে লাগানো হয়। অন্যান্য কাজ ছাড়াও তঁারা উৎপাদন করেন সর্ষের তেল, মুড়ি বা পাউরুটি, বিস্কুটের মতো বিভিন্ন বেকারি দ্রব্য। যা গুণমানে বাজারের অনেক নামী সংস্থার পণ্যের থেকে ভাল। এই উৎপাদিত পণ্য সংশোধনাগারেই কাজে লাগানো হয়। কিন্তু এর একটা বিশাল চাহিদা রয়ে গিয়েছে খোলা বাজারে। যেটাকে আমরা কাজে লাগাতে চাইছি। এর জন্যই রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করা হবে প্রয়োজনীয় লাইসেন্সের। কারণ, কোনও খাবার জিনিস বিক্রি করতে লাগে বিশেষ লাইসেন্স। যা হাতে আসার পর একদিকে যেমন এই পণ্যের বাজারজাত করার কাজ শুরু করা হবে, তেমনি অন্যান্য মুখরোচক খাবার তৈরির কাজেও নজর দেওয়া হবে। তৈরি করা হবে পিৎজা বা ওই জাতীয় খাবার। 
সংশোধনাগারের আবাসিকদের নতুন করে যেমন কাজ শেখানো হয়, তেমনি কেউ যদি বিশেষ কোনও কাজে পারদর্শী হয়, তবে তাকে সেই কাজে লাগানো হয়। বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা আবাসিকদের কাজ শেখার জন্য প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেয়। মজুরি বাবদ তাদের যে অর্থ প্রাপ্ত হয় তা জমা হতে থাকে এবং সাজার মেয়াদ শেষে  তার হাতে সেই অর্থ তুলে দেওয়া হয়। আগে হাতেই নানা জিনিস সংশোধনাগারে তৈরি করা হত। এই মুহূর্তে দ্রুত উৎপাদনের জন্য নানারকম প্রযুক্তির সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। যেমন তেল বা মুড়ি উৎপাদন করতে এখন যন্ত্রের সাহায্য নেওয়া হচ্ছে। 
রাজ্য কারা দপ্তরের ওই আধিকারিক জানিয়েছেন, সংশোধনাগারের নিজস্ব অনুষ্ঠানে এই পাউরুটি এবং বিস্কুট আমন্ত্রিতদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। তাঁরা প্রশংসা করেছেন। আবার উৎপাদিত তেল আবাসিকদের রান্নায় ব্যবহার করা হয়। এই দ্রব্যগুলির বিশেষত্ব হল এর মধ্যে কোনও ভেজাল নেই। ফলে সঠিকভাবে যদি এই পণ্যের বাজারজাত করা যায়, তবে খুব সহজেই তা জনপ্রিয় হয়ে উঠবে। বিপণনের জন্য প্রয়োজনে পেশাদারি সংস্থার সঙ্গেও কথা বলা হবে। 

জনপ্রিয়

Back To Top