দীপঙ্কর নন্দী: এবার দুর্গাপুজোয় প্যান্ডেল খোলামেলা রাখতে হবে। যাতে পর্যাপ্ত পরিমাণে বাতাস চলাচল করতে পারে। করোনার জন্য তৈরি করা ‘‌গ্লোবাল অ্যাডভাইসরি বোর্ড’‌–এর বিশেষজ্ঞরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে এই পরামর্শ দিয়েছেন। সরকার এই পরামর্শ মেনে নিয়েছে। আগামী ২৫ সেপ্টেম্বর মুখ্যমন্ত্রী পুজো নিয়ে প্রতিবারের মতো বৈঠক করবেন। ক্লাব এবং পুজো কমিটিকে এই সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া হবে।
সোমবার নবান্নে বোর্ডের বৈঠক ছিল। নোবেলজয়ী অভিজিৎ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডাঃ সুকুমার মুখার্জি, ডাঃ অভিজিৎ চৌধুরি এই বোর্ডে রয়েছেন। নবান্নে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌পুজো নিয়ে তাঁরা যে পরামর্শ দিয়েছেন খুব ভাল। আমি ওঁদের পরামর্শ নিয়েছি। ২৫ সেপ্টেম্বর পুজো নিয়ে বৈঠক রয়েছে। রাজ্য যেভাবে করোনা মোকাবিলা করছে, বোর্ডের সদস্যরা তার প্রশংসা করেছেন।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এবার ‌পুজো প্যান্ডেল খোলা ও মুক্ত রাখতে হবে যাতে হাওয়া বাতাস ঢোকে। নিঃশ্বাস প্রশ্বাসে সুবিধে হবে। জীবাণু থাকলে বেরিয়ে যাবে। মণ্ডপের সবটাই খোলা থাকবে এমন নয়, যেখানে দুর্গা প্রতিমা থাকবে সেই অংশ ঢাকাই থাকবে। মানুষ যেখানে দাঁড়িয়ে অঞ্জলি দেবেন, প্রতিমা দেখবেন সেই জায়গা খোলা রাখতে হবে। পুজোটা বাংলায় বড় চ্যালেঞ্জ।’‌
 মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘‌বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হল ঢাকা প্যান্ডেল করলাম, ভেতরে ভেন্টিলেশনের ব্যবস্থা রাখলাম তা হবে না। এটা পর্যাপ্ত নয়। পুজো উদ্যোক্তাদের পরিস্থিতি বুঝতে হবে।’‌
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌করোনা নিয়ন্ত্রণে যে সংখ্যক টেস্ট করা হচ্ছে তাতে বিশেষজ্ঞরা সন্তুষ্ট। তবে আরও সতর্ক হতে বলা হয়েছে। অর্থনৈতিক দুর্দশার কথাও তাঁরা জানেন। বিনা পয়সায় চিকিৎসা হচ্ছে। অ্যাম্বুল্যান্সের ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না। এখনও আক্রান্তের সংখ্যা ২৩ হাজার ৬২৪, মারা গেছেন ৩ হাজার ৯৪৫ জন। এঁদের মধ্যে হার্ট অ্যাটাক, কিডনির অসুখ আরও নানান উপসর্গ নিয়ে যাঁরা ভর্তি হয়েছিলেন, তাঁদের মৃত্যু কো–‌মর্বিডিটিতে হয়েছে। আমাকে প্রথমে অনেকেই কো–‌মর্বিড কথাটা শুনে ব্যঙ্গ করেছিল। এখন সবাই সেই কথা বলছে। অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় বাংলায় সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরছেন অনেক বেশি মানুষ। মৃত্যুর হার এখানে ১.‌৯৪ শতাংশ। এটা আমরা আরও কমিয়ে আনব। এটা আমার কাছে চ্যালেঞ্জ। অক্সিজেন, ভেন্টিলেটর অনেক আছে। সেফ হোমে ১১ হাজার ৫৬০টি শয্যা আছে। বাড়িতে থেকে অনেকে ভাল হয়ে যাচ্ছেন। চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন বাড়াবাড়ি না হলে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার দরকার নেই। মাস্ক পরুন, টেলি মেডিসিন পরিষেবায় ডাক্তারদের সঙ্গে কথা বলুন।’‌
নাম না করে বিজেপি রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের কথার প্রতিক্রিয়ায় মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘‌ওঁদের একজন নেতা বলেছেন, করোনা চলে গেছে। রোগ এত তাড়াতাড়ি চলে যায় না। আগুন নিভে গেলেও, ছাই চাপা আগুন থাকে। সেখান থেকেই আচমকা আবার আগুন লেগে যেতে পারে। 

ঠিক তেমনি এই রোগও ফিরে আসতে পারে। ইতিমধ্যে আমরা ২০টি প্লাজমা ব্যাঙ্ক তৈরি করেছি। কোভিড ওয়ারিয়র ক্লাবের সদস্য সংখ্যা এখন ১ হাজার ৮৩৮ জন। এই সময়ে ডেঙ্গি ও সোয়াইন ফ্লু–‌এর দিকেও নজর রাখতে হবে। আমাদের যে হেল্প লাইন আছে, তাতে ফোন করে ১১ লক্ষ ৯০ হাজার ১৮৭ জন সাহায্য পেয়েছেন। এই হেল্প লাইনের সাহায্য নিয়ে ১ লক্ষ ৩১ হাজার ৬৭৭ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অ্যাম্বুল্যান্স পেয়েছেন ১ লক্ষ ১ হাজার ৬৮৪ জন।’‌

জনপ্রিয়

Back To Top