উদয় বসু: মাত্র ৯ মাসেই বাংলার অন্যতম সেরা পর্যটন–কেন্দ্র হয়ে উঠেছে মুখমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জির স্বপ্নের দক্ষিণেশ্বর স্কাইওয়াক। ‘আকাশপথ’ চাক্ষুষ করতেই দূরদূরান্ত থেকে পরিবার নিয়ে মানুষ চলে আসছেন দক্ষিণেশ্বরে। একের পর এক ‘সেলফি’ আর গ্রুপ ছবি। তুলছেন তাঁরা। এক নিরাপত্তারক্ষী জানালেন, মানুষ বেশি ছবি তুলছেন রানি রাসমণি ফলক এবং বিশ্ব বাংলা লোগোর সামনে দাঁড়িয়ে।
মা ভবতারিণীর মন্দিরে পুজো দিতে এসে দর্শনার্থীদের কাছে অতিরিক্ত পাওনা হয়ে গেছে এই স্কাইওয়াক। দক্ষিণেশ্বর মন্দিরে প্রতি দিন লক্ষ ভক্তের সমাগম হয়। কল্পতরু উৎসব, বাংলা নববর্ষের মতো বিশেষ দিনগুলিতে ভিড় সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হয় পুলিশকে। এ সবের কথা মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী স্কাইওয়াকের শিলান্যাস করেন। স্কাইওয়াক নির্মাণের জন্য রানি রাসমণি রোড মুক্ত করার দরকার পড়ে। ১৩৪টি দোকান সরাতে গেলে বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয় প্রশাসনকে। মামলা হাইকোর্ট পর্যন্ত গড়ায়। আদালত প্রশাসনের পক্ষে রায় দিলে স্কাইওয়াক নির্মাণের কাজ শুরু হয়ে যায়। ৫ নভেম্বর স্কাইওয়াকের উদ্বোধন করেন মুখ্যমন্ত্রী। ১৩৪ জনের মধ্যে ১২৮ জনই সুন্দর ঝকঝকে দোকানঘর পেয়েছেন। বাকি ৬ জন দ্রুত পাবেন। অন্যদিকে, মিটার এসে গেলেও এখনও বিদ্যুৎ না আসায় অসুবিধের মুখে পড়েছেন দোকান মালিকরা। পাখা, আলো না থাকায় অত্যন্ত কষ্টের মধ্যে রয়েছেন তাঁরা। ফ্রিজ চালাতে না পারায় প্রতিদিন হাজার হাজার টাকার ফুল, মিষ্টি নষ্ট হচ্ছে বলে অভিযোগ। দোকানদাররা বহু লড়াই করে এসেছেন। সুফলও পেয়েছেন। এ সবের মধ্যেও এই স্কাইওয়াক তাঁদের সমস্ত কষ্ট ভুলিয়ে দিয়েছে।

জনপ্রিয়

Back To Top