যজ্ঞেশ্বর জানা
কাঁথি, ১৩ সেপ্টেম্বর

রবিবার দুপুরে কাঁথির দারুয়া রাস্তার লাগারহাট বাজারের কাছে রক্তাক্ত অবস্থায় এক যুবককে উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে ভর্তি করেছেন কাঁথি হাসপাতালে। গভীর ক্ষত রয়েছে যুবকের পেটে। অনুমান, ভারী কিছু দিয়ে মারা হয়েছে। গলাতেও রয়েছে আঘাতের চিহ্ন। তাঁর অবস্থা স্থিতিশীল। বছর আটত্রিশের ওই যুবক পুলিশকে জানিয়েছেন, তাঁর নাম দেবাশিস সরকার। বাড়ি কলকাতার যাদবপুরে। দিঘায় তাঁকে মারধর করেছে কয়েকজন। তারা ওডিশার বাসিন্দা। মারধরের পর তাঁর জামাকাপড় খুলে নেওয়া হয়। টাকাপয়সাও হাতিয়ে নেয় অভিযুক্তরা। তারপর গাড়িতে করে নিয়ে এসে কাঁথি মহকুমা হাসপাতাল চত্বরে বিবস্ত্র অবস্থায় ফেলে চলে যায়। কিন্তু মারধরের ঘটনা দিঘার কোথায় ঘটেছে, তা স্পষ্ট করে জানাতে পারেননি তিনি। যুবকের কথায় অসঙ্গতি রয়েছে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।
কাঁথির আইসি সুনয়ন বসু বলেন, ‘‌মারধরের ঘটনা কোথায়, কখন হয়েছে, ঠিকঠাক বলতে পারছেন না ওই যুবক। কখনও বলছেন দিঘা রেল স্টেশনের কাছে, তো কখনও বলছেন দিঘা বিশ্ব বাংলা পার্কের কাছে। আবার কখনও বা বলছেন কাঁথি স্টেশনের কাছে তাঁকে মারধর করা হয়েছে।’‌ দিঘা থানার ওসি কৃষ্ণেন্দু প্রধান বলেন, ‘‌দিঘার ওই দুটো এলাকায় দিনের বেলা অনেক লোকজন থাকেন। বচসার জেরে কেউ কাউকে ছুরি মারলে সাধারণভাবে তার প্রত্যক্ষদর্শী থাকা উচিত, কিন্তু এক্ষেত্রে নেই।’‌ যদিও যুবকের শরীর জুড়ে রয়েছে রক্তের দাগ। যা থেকে মনে করা হচ্ছে, মারধর করা হয়েছে তাঁকে। আঘাত করা হয়েছে ভারী অস্ত্র দিয়ে। চিকিৎসকদের অনুমতি না থাকায় এদিন হাসপাতালে যুবককে আলাদাভাবে কিছু জিজ্ঞাসবাবাদ করতে পারেনি পুলিশ। সুস্থ হয়ে উঠলেই তাঁর কাছে ঘটনার বিষয়ে জানতে চাওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা।
মহকুমা হাসপাতাল থাকার কারণে দারুয়া রাস্তায় দিনভর গাড়ি চলাচল করে। তাই মানুষের উপস্থিতি থাকে বেশি। স্বাভাবিকভাবে দিনের বেলায় প্রকাশ্য রাস্তায় কারা, কীভাবে ওই যুবককে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে গেল তা জানার চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ। ঠিক কী ঘটেছিল, তা জানতে মহকুমা হাসপাতাল ও ঘটনাস্থলের আশেপাশে থাকা সিসি ক্যামেরার ছবি খতিয়ে দেখছে কঁাথি থানার পুলিশ। উদ্ধারকারী স্থানীয় বাসিন্দা পেটুয়া প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক তেহরান হোসেন, আলমগির আলিরা জানান, তঁারা শুধুমাত্র ওই যুবককে রক্তাক্ত অবস্থায় হেঁটে যেতে দেখেছেন। দারুয়া থেকে কঁাথির দিকে যাচ্ছিলেন ওই যুবক। সে সময় আর কাউকে পালিয়ে যেতে দেখেননি তঁারা।

জনপ্রিয়

Back To Top