সঞ্জয় বিশ্বাস ও অলক সরকার
দার্জিলিং ও শিলিগুড়ি, ২৪ সেপ্টেম্বর

টানা বৃষ্টি। দিনভর মেঘলা আকাশ। কালেভদ্রে মিলছে রোদের দেখা। বর্ষার এই বিরূপ আবহাওয়ার সৌজন্যে দার্জিলিং পাহাড়ে এখন কনকনে ঠান্ডা। সোয়েটার–‌জ্যাকেট ছাড়া বাইরে থাকা মুশকিল হয়ে পড়ছে। কিন্তু ইতিবাচক দিক হল, এমন হিমেল পরিবেশ উপভোগ করতে পর্যটকরা করোনা ভীতিকে কাটিয়ে হাজির পাহাড়ে। কলকাতা তো বটেই, ভিন রাজ্য থেকেও পর্যটকের আনাগোনা শুরু হয়েছে দার্জিলিং পাহাড়ে। আর পুজোর মুখে পর্যটকের দেখা পেয়ে পাহাড়ের পর্যটন ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটতে শুরু করেছে।
করোনা–‌আবহের মধ্যেই গত প্রায় এক সপ্তাহ পাহাড় ঘুরে গেলেন টেলি–‌‌অভিনেত্রী মনামী ঘোষ। দক্ষিণ ভারতের একটি সিনেমার শুটিংয়ের জন্য দিন কয়েক আগে স্পট দেখাও হয়েছে। শুটিংয়ের আয়োজক সংস্থার তরফে বাবলু ব্যানার্জি জানান, আপাতত দুটি সিনেমার শুটিং নিয়ে কথা চলছে। অর্থাৎ, করোনার জন্য আর কিছু আটকে নেই। পাহাড় প্রায় স্বাভাবিক ছন্দে ফেরার দিকেই এগোচ্ছে। অন্যদিকে, পাহাড় সারাবছর যে পর্যটকের জন্য অধীর অপেক্ষায় থাকে, সেই পর্যটকেরও আনাগোনা শুরু হয়ে গেছে। এদিন দার্জিলিং ম্যালে বিহারের বেশকিছু পর্যটককে দেখা গেছে। কৈলাস শর্মা নামের এক পর্যটক জানান, করোনার ভয়ে কতদিন ঘরবন্দি হয়ে থাকব!‌ স্বাস্থ্যবিধি মেনে আমরা তাই সোজা চলে এসেছি। শিলিগুড়ি তেনজিং নোরগে বাস টার্মিনাসে দেখা হল অরূপ চৌধুরির পরিবারের সঙ্গে। গোটা পরিবার যাচ্ছেন কার্শিয়াং। দু’‌দিনের ট্রিপ। জানালেন, ৪ মাস ঘরে বসে বসে মানসিকভাবে অসহায় হয়ে পড়েছি। তাই বেশি শীত পড়ার আগে পাহাড় উপভোগ করতে এলাম। 
ইস্টার্ন হিমালয়ান ট্রাভেল অ্যান্ড ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি দেবাশিস মৈত্র জানান, ‘‌বিশ্ব পর্যটন দিবসের আগে অনেক পর্যটক খোঁজখবর নিচ্ছেন। আমরাও আশায় আছি। পাহাড়ে পর্যটক অল্প অল্প করে উঠছেন। এটা ভাল দিক।’‌ উল্লেখ্য, ২ অক্টোবর থেকে দার্জিলিং চিড়িয়াখানা ও এইচএমআই খুলে যাচ্ছে। মনে করা হচ্ছে, তারপর আরও ভিড় বাড়বে।

জনপ্রিয়

Back To Top