‌সাগরিকা দত্তচৌধুরি: কোনও কোভিড পজিটিভ প্রসূতিকে হাসপাতাল থেকে ফেরত পাঠানো যাবে না। একান্তই যদি কোভিড পজিটিভ প্রসূতির ডেলিভারি করানোর পর্যাপ্ত পরিকাঠামো না থাকে, তাহলে অন্যত্র স্থানান্তরের ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকেই করতে হবে। বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে এমনই কড়া বার্তা দিল পশ্চিমবঙ্গ স্বাস্থ্য নিয়ন্ত্রক কমিশন। সব বেসরকারি হাসপাতালের কর্তৃপক্ষকে এই বার্তা দিয়ে  সোমবার চিঠি পাঠানো হয়েছে স্বাস্থ্য কমিশনের তরফে।
স্বাস্থ্য কমিশনের চেয়ারপার্সন কলকাতা হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অসীমকুমার ব্যানার্জি জানিয়েছেন, যে হাসপাতালে প্রসূতি প্রথম থেকে চিকিৎসককে দেখাচ্ছেন, সেখানে ডেলিভারির আগে যদি কোভিড ধরা পড়ে কোনওমতেই ফেরত পাঠানো যাবে না। কোভিড রোগীর ডেলিভারির পরিকাঠামো যদি না থাকে তাহলে হাসপাতালের তরফে বা সংশ্লিষ্ট চিকিৎসককে তা লিখিত আকারে কমিশনকে জানিয়ে সার্টিফিকেট জমা দিতে হবে। অনেক সময়ই প্রসূতিদের কোভিড ধরা পড়ার পর ডেলিভারির জন্য ভর্তি নেওয়া হচ্ছে না। তারপর সেই পরিবারের দিশেহারা অবস্থা। এধরনের অভিযোগ তাদের কাছে ইতিমধ্যেই এসেছে। তাই এই সিদ্ধান্ত।  
পর্যাপ্ত পরিকাঠামো রয়েছে। তা সত্ত্বেও ‘‌পরিকাঠামো নেই’‌ এই অজুহাতে ভর্তি না নেওয়া হয়, তাহলে কমিশন যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল পরিদর্শন করে যাচাই করবে আদৌ কোভিড পজিটিভের ডেলিভারি করানোর পরিকাঠামো আছে কিনা।
প্রসূতি প্রথম মাস থেকে হাসপাতালে রেজিস্ট্রেশন করিয়ে চিকিৎসককে দেখাচ্ছেন। কোভিডের কোনও উপসর্গ নেই পরে প্রসূতির কোভিড পজিটিভ হল তখন চিকিৎসক বলছেন ডেলিভারি করবেন না। এরকম ঘটনা ঘটছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।  কোনওমতেই রোগীর রেজিস্ট্রেশন বাতিল করা যাবে না। চিকিৎসক ওই রোগীর ডেলিভারি করবেন না তা প্রথমেই রোগীকে বলে দিতে হবে। কোভিড পজিটিভের ডেলিভারির পরিকাঠামো না থাকলে তা রোগীকে রেজিস্ট্রেশনের আগেই জানিয়ে দিতে হবে।  আর কোনও সময় একান্তই স্থানান্তরের প্রয়োজন পড়লে প্রসূতিকে অন্য তিনটি হাসপাতালের নাম বলে বাছাই করার সুযোগ দিতে হবে। রোগী যেটা বলবেন সেখানে হাসপাতালকে নিজের দায়িত্বে ভর্তি করানোর ব্যবস্থা নিশ্চিত করে তবেই স্থানান্তর করতে হবে।‌

জনপ্রিয়

Back To Top