দিব্যেন্দু ভৌমিক
কোচবিহার, ২০ সেপ্টেম্বর

কোচবিহারের রাজকন্যা গায়ত্রীদেবী। তঁার বর্ণময় জীবন নিয়ে কোচবিহারের মানুষের উৎসাহ–কৌতূহল অপরিসীম। শিকারে তঁার ব্যবহৃত নানা অস্ত্র ইতিমধ্যেই স্থান পেয়েছে রাজবাড়ি মিউজিয়ামের গ্যালারিতে। মাত্র ১২ বছর বয়সেই শিকার করেছিলেন বাঘ। উল্লেখ আছে গায়ত্রীদেবীর আত্মজীবনী‌তে। রাজবাড়ির দরবার হলে আছে রাজকন্যার বিভিন্ন বয়সের তৈলচিত্র, শিকারের ছবি। এবার তঁার ব্যবহৃত আসবাব নিয়ে মিউজিয়ামে নতুন গ্যালারি খোলার পরিকল্পনা চলছে। সেখানে থাকবে গায়ত্রীদেবীর ড্রেসিংটেবিল, রেডিও, গ্রামোফোন, ছোট রেফ্রিজারেটর–‌সহ নানা জিনিস। কোচবিহার রাজবাড়ি মিউজিয়ামের এএসআই–এর ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক চুনচুন কুমার বলেন, ‘‌চেষ্টা চলছে রাজ–‌‌আমলের মুদ্রা এবং রাজকন্যার জিনিসপত্র নিয়ে আলাদা গ্যালারি খোলার।’ 
রাজবাড়ির দোতলায় রাজকুমারীর অন্দরমহল। সেখানে আছে একটি শয়ন কক্ষ, ভেতর দিয়ে স্নানঘর, বসবার ঘর ও নীল রঙের পুজোর ঘর। সামনে বিশাল বারান্দা পেরিয়ে রাজবাড়ির লন। ওই বারান্দায় দাঁড়িয়ে বহু ছবি আছে রাজকন্যার। তঁার ড্রয়িং রুমেই এখন মিউজিয়াম আধিকারিক চুনচুন কুমারের অফিস। পাশের বেডরুমে আজও আছে একটি মেহগনি কাঠের ড্রেসিংটেবিল। সামনের ঝকঝকে সাদা মার্বেল পাথরের বিশাল বারান্দা। কোচবিহারের রাজবাড়ির কনজারভেশন বিভাগের এএসআই আধিকারিক পঙ্কজকুমার দাসও খুশির খবর শোনালেন। তিনি জানান, ‌মহারাজা ও রানির ঘরগুলোও খুলে দেওয়ার পরিকল্পনা তঁারা হাতে নিয়েছেন। করোনা–‌আবহে আটকে আছে প্রকল্প।‌ এখন দরবার হল ছাড়াও রাজবাড়ির ৮টি কক্ষ খোলা। সেখানেই মিউজিয়াম ও অস্ত্রশালা। বন্ধ আছে বেশ কিছু কক্ষ। ১৭ মার্চ থেকে বন্ধ ছিল মিউজিয়াম ও রাজবাড়ি। ৮ জুলাই থেকে ই–‌‌টিকিট কেটে মানুষ আবারও আসতে শুরু করেছেন রাজবাড়িতে।

জনপ্রিয়

Back To Top