‌মিল্টন সেন ও প্রদীপ দে, হুগলি ও বহরমপুর: গুজব ছড়ানোর দায়ে বিজেপি সাংসদকে জেলে ঢোকানোর দাবি তুললেন ‌তৃণমূলের আইনজীবী সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি। শনিবার চুঁচুড়া হাসপাতালে মৃত্যু হয় ধনিয়াখালির এক যুবকের। এর পরই এই প্রসঙ্গে ফেসবুকে একটি ভিডিও আপলোড করেন হুগলির বিজেপি সাংসদ লকেট চ্যাটার্জি। ভিডিও–তে তিনি স্পষ্টভাবে অভিযোগ তোলেন, করোনায় মৃত্যু হয়েছে ওই যুবকের, আর সেই তথ্য গোপন করতে চাইছে রাজ্য সরকার। যদিও মৃতের সোয়াব টেস্টের রিপোর্টে করোনা ভাইরাসের সন্ধান মেলেনি। তার পরই ওই ঘটনা নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। 
শনিবার এ ব্যাপারে শ্রীরামপুরের সাংসদ কল্যাণ ব্যানার্জি বলেন, ‘‌বিজেপি সাংসদের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্যের ওই ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়েছে। উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা কথা রটিয়েছেন, গুজব ছড়িয়েছেন তিনি। আর তাতে বিভ্রান্ত হয়েছেন বহু মানুষ। মহামারী প্রতিরোধ আইন অনুযায়ী বিজেপি সাংসদ লকেট চ্যাটার্জিকে অবিলম্বে জেলে ঢোকানো উচিত। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহই তো বলেছিলেন, এই পরিস্থিতিতে কেউ গুজব ছড়ালে তার দু’‌বছরের জেল হবে।’
এদিকে, করোনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় গুজব ছড়ানোর অভিযোগে ইতিমধ্যে ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশ। ৯৮ জনকে সতর্ক করে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। লকডাউন হওয়ার পর থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা তথ্য বিকৃত করে লেখা হচ্ছে দেখে তদন্তে নামে জেলা পুলিশ। এখনও পর্যন্ত মুর্শিদাবাদ জেলায় একজনের দেহেও করোনা পজিটিভ পাওয়া যায়নি। সবার রিপোর্টই নেগেটিভ এসেছে। অথচ ফেসবুকে লিখে দেওয়া হল, সাগরদিঘি বা খড়গ্রামের অমুক করোনায় আক্রান্ত। একই সঙ্গে লেখা হয়, জেলা পুলিশ ব্যর্থ। যদিও ছবিটা অন্যরকম। গুজবের পরিণতিতে এমনই অবস্থা তৈরি হয়েছে যে, তা সামাল দিতে বহরমপুর শহরে সেনাবাহিনীর জওয়ানরা টহল দিচ্ছে। জেলা পুলিশ–প্রশাসন কৃতিত্বের সঙ্গে সব সামাল দিয়ে চলেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় বিভ্রান্তিকর ওই সব পোস্ট দেখে তদন্ত শুরু করে পুলিশ। ১৪৫ জনকে শনাক্ত করা হয়। ৯৮ জনকে সতর্ক করে পুলিশ জানিয়ে দেয়, ফের এমন করলেই হাজতবাস। তঁারা ক্ষমা চেয়ে মুচলেকা দিয়ে যান।
আর ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মুর্শিদাবাদের জেলা পুলিশ সুপার অজিত সিং যাদব বলেছেন, ‘‌করোনা পরিস্থিতিতে এই রোগ নিয়ে কেউ কোনও রকম গুজব ছড়াবেন না। এমন কোনও গুজব ছড়ানো হলে এবং সেই  অভিযোগ পেলে পুলিশ কড়া ব্যবস্থা নেবে।’‌ এ মুহূর্তে জেলার বিভিন্ন হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন দু’‌জন। আর কোয়ারেন্টিন কেন্দ্রে ৩ জন। নজরদারি চলছে জোরকদমে।‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top