যজ্ঞেশ্বর জানা, খেজুরি: খেজুরি ২ ব্লকে এক বালিকা বধূকে উদ্ধার করল প্রশাসন। মঙ্গলবার সন্ধেয় স্থানীয় নিজ কসবা থেকে উদ্ধার করে আনা হয় তাকে। ফেরানো হয় দক্ষিণ বোগায় বাপের বাড়িতে। মুচলেকা লিখিয়ে নেওয়া হয়েছে তার বাবা–মায়ের কাছ থেকে, যাতে ১৮ বছরের আগে আর কোনওভাবে তাকে না পাঠানো হয় শ্বশুরবাড়িতে। মেয়েটির ভবিষ্যৎ সুরক্ষার কথা ভেবে তার লেখাপড়ার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে ব্লক প্রশাসনের তরফে। জানা গেছে, মেয়েটির বয়স সবে ১৪ বছর পেরিয়েছে। সে স্থানীয় বাণীমঞ্চ হাইস্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্রী। নিজ কসবার যুবক সুরজিৎ মণ্ডলের সঙ্গে তার প্রণয়ের সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। গত সোমবার স্কুলে বেরিয়ে নিখোঁজ ছিল মেয়েটি। পুলিশে নিখোঁজ ডায়েরি জমা করেছিলেন বাড়ির লোকেরা। পরে জানা যায় সুরজিৎ তাকে লুকিয়ে মন্দিরে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছে এবং নিজ কসবা গ্রামেই মামার বাড়িতে উঠেছে। মঙ্গলবার বিকেলে খেজুরি ২ ব্লকের বিডিও রমল সিং বির্দি তালপাটিঘাট কোস্টাল থানার পুলিশকে নিয়ে পৌঁছে যান নিজ কসবা গ্রামের সুরজিৎ মণ্ডলের মামার বাড়িতে। অভিযোগ, প্রথমে বিয়ের কথা অস্বীকার করে সুরজিৎ এবং তার পরিবারের লোকেরা। পরে বিডিও ওদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বললে নিজে থেকেই বেরিয়ে আসে ওই বালিকা বধূ। পুলিশ উদ্ধার করে তাকে। নিয়ে আসা হয় বিডিও অফিসে। ডেকে পাঠানো হয় তার বাবা–মাকে। কাউন্সেলিং করানো হয় মেয়েটির। তারপর বাবা–মায়ের কাছ থেকে মুচলেকা লিখিয়ে সন্ধেয় বাড়ি পাঠানো হয় বালিকা বধূকে। বিডিও রমল সিং বির্দি বলেন, ‘নাবালিকা বিয়ে কোনও অবস্থাতেই বরদাস্ত করা হবে না। নাবালিকার বিয়ে দিলে আখেরে তারই ক্ষতি হয়, সে কথা আমরা মেয়ে এবং ছেলের বাড়ির লোকেদের বুঝিয়েছি। মেয়েটি যাতে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারে সে ব্যবস্থা করা হয়েছে।’‌ 

জনপ্রিয়

Back To Top