আজকালের প্রতিবেদন
রবিবার শেষ রাতে যাদবপুরে নিজের বাড়িতে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে প্রয়াত হলেন যাত্রাভিনেতা ত্রিদিব ঘোষ (‌৬৭)‌। শরীরে লোহিত রক্তকণিকা কমে যাওয়ায় ভুগছিলেন। রাজ্যের মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস সোমবার প্রয়াত ত্রিদিব ঘোষকে শ্রদ্ধা জানাতে যান তাঁর বাড়ি। মরদেহ আনা হয় যাত্রাপাড়া চিৎপুরে।
বিশিষ্ট প্রযোজক গৌতম নন্দীর যাত্রাদল ‘‌নন্দী কোম্পানি’‌র হয়ে গত মরশুমে ত্রিদিববাবুর শেষ যাত্রামঞ্চে নামা। পালা ছিল ‘‌উলঙ্গ সম্রাট’‌। শারীরিক অসুস্থতার জন্য অবশ্য মরশুমের মাঝপথে অবসর নিতে বাধ্য হন ত্রিদিববাবু। বহু যাত্রামোদির কাছেই তিনি ছিলেন ‘‌স্বর্ণযুগ’‌–‌এর শেষ প্রতিনিধি। ত্রিদিববাবুর সঙ্গে যাত্রায় দীর্ঘদিন জুটি ছিল যাঁর, সেই তাপসী রায়চৌধুরি এদিন জানান, ওঁর সঙ্গে প্রথম অভিনয় ২৭ বছর আগে নট্ট কোম্পানিতে। ‘‌সম্রাট ঔরঙ্গজেব’‌ পালায়। উনি হতেন ঔরঙ্গজেব। আমি রোশেনারা। পরবর্তীতে দু’‌জনে মিলে যৌথভাবে দু‌টি যাত্রাদল খোলেন। যথাক্রমে নটরাজ অপেরা ও আনন্দভারতী অপেরা নামে। যাত্রার প্রবাদপ্রতিম পালা ‘‌নটী বিনোদিনী’‌র রিমেক করেন দু’‌জনে। তাতে গিরীশচন্দ্র হতেন ত্রিদিব ঘোষ।
ত্রিদিববাবুর জন্ম ১৯৫৩ সালে। নাট্যচর্চায় হাতে খড়ি ‘‌রঙ্গপালী’‌ নামের এক গ্রুপ থিয়েটারে। নজরে পড়ে যান ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের। তাঁর সংস্পর্শে কিছুদিন কাজ করার পরে তাঁকে যাত্রায় আনেন অজিতেশ বন্দ্যোপাধ্যায়। ১৯৮০ সালে নাগ কোম্পানিতে ‘‌কাশ্মীরি কলি’‌ পালায়। একদা নায়ক ত্রিদিববাবু পরে খলনায়ক হিসাবে প্রভূত সুনাম পান। ‘‌কালকেউটের ছোবল’‌, ‘‌নরকের হেডমাস্টার’‌, ‘‌কসাইখানা কান্ডারি’‌ এসব তাঁর সুপারহিট পালা। রাজু বড়ুয়া আর তাঁর জুটিতে ‘‌বুনো ওল বাঘা তেঁতুল’ও দু’‌বছর আগে যথেষ্ট সাফল্য পায়। যাত্রায় সেই তাঁর শেষ পুরো মরশুম কাজ করা।‌

জনপ্রিয়

Back To Top