অলক সরকার ও সঞ্জয় বিশ্বাস, শিলিগুড়ি ও দার্জিলিং: গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (‌জিটিএ)‌ নিয়ে কেন্দ্রের ডাকা পর্যালোচনা বৈঠকে যোগ দিচ্ছেন না গোর্খা জনমুক্তি মোর্চার নেতা বিনয় তামাং। শুক্রবার দলীয় অবস্থান পরিষ্কার করে বিনয় তামাং আরও জানিয়ে দেন জিটিএ–‌‌র তরফে প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান অনীত থাপাও সেখানে যাচ্ছেন না। অন্যদিকে, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের চিঠির বয়ান অনুসারে গুরুংপন্থীরা সেই মিটিংয়ে আগে থেকেই ব্রাত্য। ফলে ৭ আগস্ট দিল্লির নর্থ ব্লকে ডাকা কেন্দ্রের বৈঠকের আর তেমন গুরুত্বই থাকছে না। আদৌ সেই বৈঠক হবে কিনা, তা নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছে। 
উল্লেখ্য, প্রায় পাঁচ বছর আগে পাহাড় ইস্যুতে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডেকেছিল কেন্দ্র। সেই বৈঠক ছিল পাহাড় নিয়ে রাজনৈতিক সমাধানের জন্য। এরপর দীর্ঘ সময় আর ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হয়নি। ২০১৭ সালে পাহাড়ে হিংসাত্মক আন্দোলনের পর বিমল গুরুং–‌‌রোশন গিরিরা পালিয়ে যাওয়ার পর সমস্ত আলোচনা ধামাচাপা পড়ে যায়। এদিকে, বিধানসভা নির্বাচনের আগে পাহাড় নিয়ে বৈঠকের পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যই দেখছে পাহাড়বাসী। 
২২ জুলাই গুরুংপন্থী দুই নেতা নিমা তামাং এবং বিনু সুনদাস কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর সঙ্গে বৈঠক করেন।  বিমলপন্থী মোর্চার সাধারণ সম্পাদক রোশন গিরি এক বার্তায় জানান, ‘‌পাহাড় নিয়ে শিগগিরই কেন্দ্র ত্রিপাক্ষিক বৈঠক ডাকবে।’‌ বৈঠকের চিঠি ভাইরাল হয়ে গেল। সেখানে জিটিএ নিয়ে আলোচনার কথা বলা হয়েছে। বৈঠকে ডাকা হয়েছে রাজ্যের স্বরাষ্ট্রসচিব, জিটিএ–‌‌র প্রধান সচিব, জিটিএ–‌‌র প্রশাসক বোর্ডের চেয়ারম্যান, দার্জিলিঙের জেলাশাসক এবং মোর্চা প্রতিনিধিকে। যদিও বিমলপন্থী নাকি বিনয়পন্থী মোর্চা যাবে সেটা উল্লেখ ছিল না। কিন্তু তাৎপর্যপূর্ণভাবে এই প্রতিনিধি নির্বাচনের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে জেলাশাসকের ওপরে। ফলে স্বাভাবিকভাবেই গুরুংরা ব্রাত্য হয়ে যাচ্ছেন। 
অন্যদিকে রোশন গিরি এক বার্তায় জানিয়েছেন, ‘‌বৈঠকের যা বিষয়, তাতে আমাদের আগ্রহ নেই। তাই আমরা যাচ্ছি না।’‌ বিনয় তামাং এদিন হোম–‌‌কোয়ারেন্টিন থেকেই জানান, ‘‌বিজেপি বিভাজনের রাজনীতি করেই চলেছে। এরা বারেবারে প্রতিশ্রুতি দিলেও সেটা ভুলে যাচ্ছে। অথচ ভোটের মুখে ফের এটাকে ইস্যু করে পরিবেশ উত্তপ্ত করতে চাইছে। পাহাড়ের স্থায়ী সমাধান নিয়ে এদের কোনও মাথাব্যথা নেই। এমন বৈঠকে যাওয়ার কোনও প্রয়োজন নেই। গোর্খাল্যান্ড নিয়ে মানুষকে যে স্বপ্ন দেখানো হয়েছিল, তার কী হল?‌ সেই প্রসঙ্গ ছাড়া কোনও বৈঠকে আমরা যাব না।’‌ অন্যদিকে বিনয়পন্থীরা আরও একটি বিষয় তুলে ধরে জানান, দিল্লিতে আগামী বিধানসভা নির্বাচনকে মাথায় রেখে রাজ্য নেতাদের নিয়ে বিজেপি বৈঠক করল, অথচ সেখানে শরিকদল গুরুংদের কাউকে দেখা গেল না, কিন্তু মন ঘিসিংরা চলে গেলেন। এর মধ্যেও রয়েছে বিভেদের খেলা। ফলে গোটা বিষয় নিয়ে পাহাড়ে বিজেপি জোটের মধ্যেও ধোঁয়াশা বাড়ছে। ইতিমধ্যে বিজেপি–‌র কৌশল দেখে সিপিআরএম পাহাড়ে যথারীতি পোস্টারিং করা শুরু করেছে।  

জনপ্রিয়

Back To Top