যজ্ঞেশ্বর জানা
মন্দারমণি, ২৯ জুন

প্রায় ১৫ টন ওজনের ৪০ ফুট দীর্ঘ একটি তিমি ভেসে এল মন্দারমণির সমুদ্রসৈকতে। সোমবার সকালে ভাটার সময় মন্দারমণি সমুদ্রসৈকতে প্রায় ১৪ ফুট দেহ পরিধির এই সামুদ্রিক জীবটিকে পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা। তার পর জোয়ার শুরু হলে প্রাণীটি আবারও খানিকটা দূরে ভেসে যায়। দুপুর নাগাদ ফের ভেসে আসে সমুদ্রপাড়ের দিকে। বিকেল নাগাদ জলধা–তাজপুর মোহনার কাছাকাছি সেটি ভেসে আসে। 
বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, এটি ব্রাইড’‌স তিমি। দেহের পচনে অনুমান তিমিটির মৃত্যু হয়েছে সপ্তাহখানেক আগে। তবে কী কারণে মারা গিয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। জাহাজের ধাক্কায় বা অন্য কোনও কারণে আহত হয়ে সমুদ্রের ঢেউয়ে দৈত্যাকার প্রাণীটি উপকূলে ভেসে এসেছে বলে মনে করছেন বন দপ্তরের আধিকারিকরা। সমুদ্রসৈকত থেকে মৃত তিমিটিকে সরাতে বিকেলে জেসিবি নিয়ে আসা হয়। তারপর সমুদ্রের জলসীমা ছাড়িয়ে অনেকটা ওপরে গভীর গর্ত খুঁড়ে তিমিটিকে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে পুঁতে ফেলার ব্যবস্থা করে বন দপ্তর। 
শুরু থেকেই কৌতূহল বাড়ে তিমিটির পরিচয় নিয়ে। হাম্পব্যাক তিমি বলে প্রচার শুরু হয়ে যায় ৷ সন্ধে নাগাদ তিমিটির পরিচয় সম্পর্কে নিঃসন্দেহ হন দিঘায় মেরিন অ্যাকোরিয়াম অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের বিশেষজ্ঞরা। কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক এস বালাকৃষ্ণণ বলেন, ‘‌বেলিন প্রজাতির ব্রাইড’‌স তিমি এটি। তিমিটি স্ত্রী এবং পূর্ণবয়স্ক। এই প্রজাতির তিমি আরব মহাসাগর, ভারত মহাসাগরের আবাসিক। বঙ্গোপসাগরে এদের দেখা মেলে না৷’‌ কেন্দ্রের আর এক বিশেষজ্ঞ প্রশান্ত টুডু বলেন, ‘‌গভীর সমুদ্রে খাবারের অভাব হলে কিংবা প্রজননের সময় তিমিরা অগভীর জলের দিকে চলে আসে৷ তখন জাহাজে ধাক্কা খেয়ে মারা যায়৷ এই তিমির মৃত্যুর কারণ স্পষ্ট নয়।’‌
২০১২ সালের ডিসেম্বরে ৪২ ফুট লম্বা এই ব্রাইড’‌স প্রজাতির একটি মৃত তিমি উদ্ধার হয়েছিল দিঘা মোহনায়। মোহনা থেকে ৪০ নটিক্যাল মাইল দূরে সেটি আটকে পড়েছিল মাছ ধরার ট্রলারের জালে৷ যার কঙ্কাল সংরক্ষণ করে রাখা হয়েছে দিঘার মেরিন অ্যাকোরিয়ামে। মন্দারমণিতে উদ্ধার হওয়া তিমিটির ডিএনএ পরীক্ষার জন্য নমুনা সংগ্ৰহ করে নিয়ে গেছেন দিঘা মেরিন অ্যাকোয়ারিয়াম অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টারের বিশেষজ্ঞরা।

জনপ্রিয়

Back To Top