আজকালের প্রতিবেদন: দ্রুত করোনা রিপোর্ট পেতে শুরু হল র‌্যাপিড অ্যান্টিজেন টেস্ট। কয়েক মিনিটের মধ্যে রিপোর্ট জানা যাবে। বৃহস্পতিবার কলকাতা–সহ জেলার কয়েকটি জায়গায় শুরু হয় এই পরীক্ষা। কলকাতা পুরসভার উদ্যোগে এদিন চেতলার অহীন্দ্র মঞ্চে অ্যান্টিজেন টেস্টের সূচনা করলেন পুরসভার প্রশাসক ফিরহাদ হাকিম। নিজে হাতে অক্সিমিটারে বাসিন্দাদের অক্সিজেন এবং পালস রেটও পরীক্ষা করে দেখলেন ফিরহাদ। তিনি জানান, পরীক্ষার আধ ঘণ্টার মধ্যেই জানা যাবে করোনা আক্রান্ত কিনা। একসঙ্গে অনেক দ্রুত পরীক্ষা করা সম্ভব। ১৪৪টি ওয়ার্ডে ঘুরে ঘুরে পরীক্ষা চালানো হবে। 
এখানে একটি কিটে ১০ জনের লালারসের নমুনা পরীক্ষা করা যায়। ৪০ মিনিটের মধ্যে রিপোর্ট জানতে পারা যাবে। যদি রিপোর্ট পজিটিভ হয় তাহলে আর কোনও পরীক্ষা করতে হবে না। আর যদি রিপোর্ট নেগেটিভ হয়, কিন্তু ওই ব্যক্তির মধ্যে স্বল্প উপসর্গ থাকে, তাহলে ফের বর্তমান নিয়মে আরও একবার সোয়াব টেস্ট করা হবে। সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পুরসভা সূত্রে জানা গেছে,  নতুন এই টেস্টে একটি স্ট্রিপে ১০ জনের সোয়াব বা লালারসের নমুনা ফেলে পরীক্ষা যাবে। সেক্ষেত্রে প্রত্যেকের আলাদা আলাদা রিপোর্ট পাওয়া যাবে। এদিন যে ১০ জনের পরীক্ষা করা হয়েছিল, তাঁদের মধ্যে ২ জনের রিপোর্ট পজিটিভ আসে। প্রতিটি বরোতে প্রতিদিন ৫০টি করে টেস্ট কিট দেওয়া হবে। একটি কিটে ১০ জনের লালারসের নমুনা পরীক্ষা করা সম্ভব । ১৬টি বরোতে প্রতিদিন পরীক্ষা চালানো হবে। প্রতিদিন একটি অঞ্চল বা ওয়ার্ড থেকে থেকে প্রায় ৫০০ জনের টেস্ট করা হবে। প্রতিটি বরোতে এজন্য বিশেষ সেন্টার করা হচ্ছে। বরো-কোঅর্ডিনেটরদের ওপর সেই সেন্টার তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হচ্ছে। 
এদিন থেকে দুর্গাপুর মহকুমা হাসপাতালেও র‌্যাপিড আন্টিজেন কিট পরীক্ষা শুরু হল। এই পরীক্ষায় মাত্র পনেরো মিনিটের মধ্যেই জানতে পারা যাবে রোগী করোনা ভাইরাসের বাহক কিনা। কোনো রোগী সর্দি, কাশি জ্বর–সহ প্রাথমিক কিছু লক্ষণ নিয়ে হাসপাতালে এলে তাকে ভর্তি না করে কোনও উপায় ছিল না চিকিৎসকদের। মহকুমা হাসপাতালের সুপার ইন্দ্রজিৎ মাজি বলেন, ‘‌র‌্যাপিড আন্টিজেন কিট টেস্ট চালু হওয়ায় প্রচুর সুবিধা মিলবে। 

রিপোর্ট পজিটিভ এলে তাঁকে হাসপাতালের আইসোলেশন সেন্টারে রাখা হবে। ওয়ার্ড বন্ধ করে দেওয়ার ঝুঁকি থাকবে না।’‌ সুন্দরবনের প্রত্যন্ত দ্বীপেও শুরু হল র‌্যাপিড আন্টিজেন কিট পরীক্ষা। গোসাবা হাসপাতালের স্বাস্থ্যকর্মীরা নদীপথে বোটে করে গিয়ে করোনা আক্রান্ত গ্রাম সাতজেলিয়ার দয়াপুরে এই লালারস সংগ্রহ করেছেন। করোনাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকারি এই উদ্যোগে খুশি সুন্দরবনের গ্রামের মানুষ। এদিন সেখানে মোট ৫০ জনের লালারস সংগ্রহ করা হয়েছে করোনা পরীক্ষার জন্য। তাদের মধ্যে সজনেখালি রেঞ্জ অফিসে কর্মরত বেশ কয়েকজন কর্মচারীরও লালারস সংগ্রহ করা হয়েছে। 

তথ্যসূত্র:‌ কাকলি মুখোপাধ্যায়, আবির রায় ও গৌতম চক্রবর্তী‌‌‌

জনপ্রিয়

Back To Top