আজকালের প্রতিবেদন: করোনা পরিস্থিতিতে স্কুল খোলা নিয়ে কেন্দ্র নির্দেশিকা জারি করলেও পুরো সেপ্টেম্বর মাসটাই রাজ্যে বন্ধ থাকছে স্কুল। করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে স্কুল খোলার কথা ভাবা হবে না। মঙ্গলবার বেহালার এক অনুষ্ঠানে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত স্কুল বন্ধ থাকার বিষয়টি জানান শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চ্যাটার্জি। একই সঙ্গে তিনি জানান, স্নাতক স্তরে কলেজে ভর্তি হতে আসনের কোনও সমস্যা নেই। সবাই যাতে ভর্তি হতে পারে, সরকারের পক্ষ থেকে তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সমস্যা হল পছন্দসই কলেজে ভর্তি হতে না পারার।
এদিন স্কুল খোলা নিয়ে প্রশ্ন করলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‌সেপ্টেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের সব স্কুল বন্ধ রয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে খোলার কথা ভাবা হবে। করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা হু–হু করে বাড়ছে। কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয়ে যাঁরা পড়েন তাঁরা অনেক সিনিয়র। এই পরিস্থিতিতে স্কুল কী করে খোলা হবে?‌ করোনা মোকাবিলায় যে গ্লোবাল অ্যাডভাইসরি বোর্ড রয়েছে তাঁর সদস্যরাও শঙ্কিত। এই পরিস্থিতিতে পড়াশোনা কীভাবে করানো যায়, ছাত্রছাত্রীদের কাছে কীভাবে পৌঁছনো যায়, সেটা আমাদের দেখা দরকার। সেটা আমরা দেখছি। এখন ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে। তারপর পুনর্বিবেচনা করা হবে।’‌ প্রসঙ্গত, সম্প্রতি করোনা পরিস্থিতিতে নবম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির জন্য ২১ সেপ্টেম্বর থেকে স্কুল খোলার ব্যাপারে আচরণবিধি প্রকাশ করেছে কেন্দ্র। তবে এ ব্যাপারে অভিভাবকদের অনুমতি লাগবে। এদিন শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য থেকে এটা স্পষ্ট যে, কেন্দ্র নির্দেশিকা জারি করলেও রাজ্যে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্কুল বন্ধ থাকছে।
উচ্চমাধ্যমিকে ৯৫–৯৬ শতাংশ নম্বর পেয়েও কলেজে ভর্তির সমস্যা নিয়ে প্রশ্ন করলে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘‌কলেজে আসন সংখ্যা অপ্রতুল নয়। সবাই যাতে ভর্তি হতে পারে সরকারের পক্ষ থেকে নতুন কলেজ–বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করে তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। কিন্তু ছাত্রছাত্রীরা কিছু কলেজে গিয়ে ভিড় করছে বলেই সমস্যা তৈরি হচ্ছে। যা নম্বর পেয়েছে তার ভিত্তিতে পছন্দসই কলেজের মেধাতালিকায় নাম থাকার প্রতিযোগিতায় থাকতে পারছে না। ফলে সমস্যা তৈরি হচ্ছে। এক্ষেত্রে সরকারের কিছু করার নেই।’‌ তিনি বলেন, সবাই প্রেসিডেন্সি, বেথুন, স্কটিশ, আশুতোষ, সুরেন্দ্রনাথ কলেজে ভর্তি হতে চায়। কিন্তু পাশের কলেজে কেউ যেতে চায় না। এ ব্যাপারে পড়ুয়ারা পড়াশোনার মানের সঙ্গে যোগাযোগের সুবিধার বিষয়টি দেখে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এদিন বেহালা পশ্চিম বিধানসভা এলাকার মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক, আইসিএসই, আইএসসি এবং সিবিএসই দশম ও দ্বাদশের সব মিলিয়ে ১৫১ জন পড়ুয়াকে পুরস্কৃত করা হয়।

জনপ্রিয়

Back To Top