বুদ্ধদেব দাস
সবং, ২৮ জুন

সেনাবাহিনীর শকট গ্রামে পৌঁছোতেই যেন একসঙ্গে কেঁদে উঠল গোটা গ্রাম। নিহত জওয়ানকে বিদায় জানাতে এদিন কারও বাড়িতে হাঁড়ি চড়েনি। দুপুরের পর শহিদের চিতার আগুন নেভার পরই ঘরমুখো হন সকলে। রবিবার সকালে সবংয়ের সিংপুর গ্রামে পূর্ণ রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সম্পন্ন হল কাশ্মীরে নিহত জওয়ান শ্যামলকুমার দে–র শেষকৃত্য। শুক্রবার দুপুরে অনন্তনাগে জঙ্গিদের গুলিতে শহিদ হন সিআরপিএফের ১৬৯ ব্যাটেলিয়নের এই জওয়ান।
গভীর রাতে মরদেহ চলে আসে মেদিনীপুর পুলিশ লাইনে। জেলার পুলিশকর্তারা শ্রদ্ধা জানান। এদিন ভোর ৬টায় আধাসামরিক বাহিনীর জওয়ানরা মরদেহ নিয়ে রওনা দেন সবংয়ের উদ্দেশে। তেমাথানি–দেহাটির রাস্তায় বেলতলা মোড়ে করা হয়েছিল তাঁর ছবি দেওয়া কয়েকটি তোরণ। এ সব কিছুই যাঁর জন্য, সেই বুম্বা (এই নামেই মা ডাকতেন আর গ্রামের সকলে চিনতেন তাঁকে) যে আর নেই, তা কিছুতেই মেনে নিতে পারছেন না মা শিবানী দে। সংবাদপত্রে ছাপা ছেলের ছবি দেখে ডুকরে কেঁদে উঠছেন তিনি। বাবা বাদলকুমার দে বাক্‌রুদ্ধ। 
সকাল ৮টা নাগাদ কফিনবন্দি দেহ আসে সবংয়ের সিংপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মাঠে। সেখানে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে করা হয়েছিল মঞ্চ। মরদেহ ঢোকা মাত্রই গোটা এলাকা জুড়ে কান্নার আওয়াজ। ‘‌শহিদ শ্যামল দে অমর রহে’‌, ‘‌বন্দেমাতরম’‌ ধ্বনিতে ভরে যায় চারদিক। সিংপুরে বাঁধা মঞ্চে শায়িত রাখা হয় শহিদের কফিন। শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত ছিলেন ঘাটাল লোকসভার সাংসদ, অভিনেতা দীপক অধিকারী ওরফে দেব, বিজেপি নেত্রী ভারতী ঘোষ, সাংসদ মানস ভুঁইয়া, বিধায়ক গীতারানি ভুঁইয়া, সবংয়ের তৃণমূল যুব সভাপতি আবু কালাম বক্স, তৃণমূল নেতা অমূল্য মাইতি। পুলিশ ব্যান্ড ও গান স্যালুটের মাধ্যমে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয় শহিদ জওয়ানকে। পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় শহিদের ব্যাজ ও জাতীয় পতাকা।‌

জনপ্রিয়

Back To Top